Friday, February 24, 2012

শ্রেণিযুদ্ধই মুক্তির পথ




সমস্ত যুদ্ধই শ্রেণিযুদ্ধ। শ্রেণিযুদ্ধ বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বলে কিছু নেইযেসব বামপন্থি শ্রেণিযুদ্ধ শব্দটিই উচ্চারণ করতে ভুলে গেছে তারা সংশোধনবাদকে গ্রহণ করেছেসংশোধনবাদী নেতৃত্বকে সরিয়ে সমাজতন্ত্রের লড়াই বেগবান করেই কেবল শ্রেণিযুদ্ধকে এগিয়ে নেয়া যাবে। সমাজতন্ত্রের নামে সংশোধনবাদীদের ব্যবসা বন্ধ করেই কেবল সমাজতন্ত্রের লড়াইকে এগিয়ে নেয়া যাবে। শোষকশ্রেণির শাসনের উচ্ছেদের মধ্য দিয়েই সমাজতন্ত্রে উত্তরণ ঘটাতে হবেশ্রেণিসংগ্রামের বদলে যারা শ্রেণি-সমন্বয়ের পথে শোষকশ্রেণির সাথে সুবিধাজনক শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখে তারা সমাজতন্ত্র ও সর্বহারা শ্রেণির সাথে বেইমানি করছেসাম্যবাদব্যবসায়ী কিছু সুবিধাবাদি বামপন্থি সারা পৃথিবীতেই রয়েছে। চীনের বর্তমান নেতৃবৃন্দ সংশোধনবাদকে শুধু গ্রহণই করেনি, তারা সম্পত্তির পাহাড় গড়েছে এবং চিনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিও সেইসব কোটি কোটি টাকার মালিক নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রিয় কমিটি থেকে বহিষ্কার করছে না। গ্রিসের ভুয়া সমাজতন্ত্রি মধ্যবামপন্থি প্রধানমন্ত্রি পাসোক ও মধ্য ডানপন্থি নিউডেমোক্রেসি পার্টি একত্রে যতদিন ক্ষমতায় ছিল ততদিন গ্রিসকে ডুবিয়েছেন কিন্তু সমাজতন্ত্রি নাম ছাড়েননি। অবশেষে ৬ মে, ২০১২ তারিখের অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গোহারা হেরে বিদায় হয়েছে তাদের; অথচ জনগণের মরপণ আন্দোলনের দিকে কর্ণপাত করেনি। ব্রিটেনের লেবার পার্টি সাম্রাজ্যবাদিদের প্রধান পার্টি হয়ে গেছে প্রায় শত বছর ধরে; ব্রিটেনের এই শ্রমিক দলের টনি ব্লেয়ার বর্বরতার চূড়ান্ত দেখিয়েছে আফগানিস্তান-ইরাক-লিবিয়া আগ্রাসনের সময় ফ্রান্সে মে, ২০১২-তে নতুনভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে হোলান্দে; মজার ব্যাপার তার নামের আগেও সমাজতন্ত্রি তকমা রয়েছে।  আর এই হচ্ছে বর্তমান ইউরোপের অবস্থা! ইউরোপের সমাজতন্ত্রব্যবসায়ি বামপন্থিদের কাছ থেকে পৃথিবীর মেহনতি মানুষের আশা করার কিছু নেই।
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির গ্রুপ তিনটি ভারতের বুর্জোয়া দল কংগেসের লেজুড়বৃত্তি করছে প্রায় ৬০ বছর ধরে। তাদের এই বোধটুকুও লোপ পেয়েছে যে কংগ্রেসের লেজ হয়ে টিকে থেকে তারা দিল্লির পুঁজিবাদ-সম্প্রসারণবাদ-আধিপ্ত্যবাদ-আমলাতন্ত্রকেই শুধু শক্তিশালী করেছে। কংগ্রেস দলের আধিপত্যবাদি-শোষণবাদি নীতির সমর্থক থেকে ভারতের কমিউনিস্ট নামধারী সংশোধনবাদি লেজুড় পার্টি তিনটি সেখানকার শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে বহু আগে।
বাংলাদেশের ইতিহাসও ভিন্ন নয়। বাংলাদেশেও বুর্জোয়া ধারার দল আওয়ামি লিগের পেটের ভেতরে বাম রাজনীতির পরিবেশ পেয়েছে বেশ কিছু বামপন্থি এবং আরো অনেকে সেই পরিবেশে গিয়ে সাম্যবাদ কায়েমের স্বপ্ন দেখছেযারা বুর্জোয়াদের সংসদে এমপি মন্ত্রি হয়ে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদকে বিক্রি করেছে তারা  সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদকে পণ্যই করেছে আর কে না জানে ব্যাবসায়িদের কাজই তো এটা, ব্যাবসায়ীরা তাদের কাজ করেই; একজন ব্যাবসায়ি সম্ভব হলে নাকি মঙ্গল গ্রহকেও বিক্রি করেব্যাবসায়িরা যদি দেখতে পায় সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের প্রতীক ভাল দামে বিক্রি করা যায় তাহলে তারা তা করবেই এক সময় শেখ মুজিবও সমাজতন্ত্রের কাণ্ডারী সেজেছিলো, নেহেরু-ইন্দিরারাও সমাজতন্ত্রের ঝাণ্ডা উড়াইছিলো; এখন আওয়ামি লিগের নৌকার উপরে উঠে লাল দিন আনার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশের বেশ কিছু সংশোধনবাদি পার্টিসমাজতন্ত্রিদের দায়িত্ব হচ্ছে সেই ব্যাবসায়ীদের মুখোস উন্মোচন করা বাংলাদেশে এখন লুটপাটের রাজত্ব চলছে। আর এই লুটপাটের ভাগিদার হয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টি আওয়ামি লিগের লেজুড় হয়ে। ১৯৭১ পরবর্তিকালে যখন আওয়ামি লিগ গণধিক্কৃত হিসেবে জনগণের কাছে প্রতিষ্ঠিত সেইসময় সিপিবি আওয়ামি লিগের সাথে যুক্ত হয়ে আওয়ামি লিগের অপকর্মের ভাগিদার হয়েছে।
অনেক বামপন্থি মনে করেন বামপন্থিদেরকে শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহানুভুতি দিয়ে কথা বলে তাদেরকে পরিবর্তন করতে হবে। যারা এরকম মত পোষণ করেন তারা বুঝতে চান না, যেসব বাম দল এখনও আত্মনির্ভর নয়,  তারা আসলে কোনোভাবেই বামপন্থি নেই। তাই তাদেরকে শ্রদ্ধা করারও দরকার নেই। মার্কসবাদে অভ্যন্তরীণ শক্তি বলে দ্বন্দ্বের একটি ব্যাপার আছেযেসব বামপন্থি সমস্যা দেখলেই আওয়ামি লিগের মাথার উপরে ছাতা ধরে সেইসব পরনির্ভর বাম দলকে দিয়ে বাংলাদেশে সাম্যবাদ সম্ভব নয়। লেজুড়বাদ সর্বদাই শ্রমিক কৃষকের শত্রু।লেজুড়বাদী সুবিধাবাদী সেইসব দলকে শ্রদ্ধা করারও কিছু নাই
রচনাকালঃ ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

No comments:

Post a Comment