Wednesday, February 08, 2012

সভ্যতায় বাঙলাদেশ, ২০০১


দিনের পর দিন, প্রতিদিন তরুণটি দেখে
পার্কে বাগানে সেই একই গাছ_ ফুল ফল ডাল পাতা ভরা,
একই পাখি বন্দি বিজাতীয় চিড়িয়াখানায়,
মাংসের লোভে অতিথি পাখি বিক্রেতা অর্থের ঢিবি,
কিনে নেয় পথের ধারেই জীবন্ত ছুটন্ত সব তাজা প্রাণ;
খুব ভোরে রাস্তার মোড়ে একটি মাইক্রোবাস
নামিয়ে দিয়ে যায় তিনজন বিধস্ত তরুণীকে,
সকালের পথ ঝাড়ু  দেয় আর দূরবর্তি মোহের পরশে
পান খায় এক মহাভারতীয় নাগরিক শিল্পী,
মালবাহি চলন্ত ট্রাকের উপরে বসে ঝিমায় পাথুরে শ্রমিক_ 
তিনদিন চোখ বোঁজার হয়নি সময়,
ইতিমধ্যেই বেহেড মাথাল ঠ্যাঙ তুলে মুতে দেয়
গান্ধীর ভাস্কর্যের চারধারে,
পাগলিনি ভঙ ধরে নায়িকা হবে_ 
কোমর দুলিয়ে শাড়ি শায়া নেড়ে নাচে আর বিহঙ্গ দেখায়,
অনাথ শিশুরা ফেরি করে কচি শরীরের ঘাম
দুপুরে প্রখর রোদে জৈষ্ঠের চল্লিশ ডিগ্রি তাপমাত্রায়,
রিকসার পেডেলে চাপ দিয়ে অনবরত কাশতে কাশতে
ষাটোর্ধ বৃদ্ধ রক্ত তোলে কোনো এক তরুণীর বাড়ির দরজায়,
বেতার ও টিভিতে সেই উন্নয়নের রঙিন জোয়ারের
গর্জন শোনা যায় অনবরত,
সংবাদপত্রে দেখতে চাওনা_ তাদেরই ছবি,
বাধ্যতামূলকভাবে দেখতে হয় ধামাধরাদের ধামার দৈর্ঘ প্রস্থ উচ্চতা
বিকেলে ভিআইপি রোডের রেলিঙে
শতচ্ছিন্ন শাড়ি শুকোয় বৃদ্ধা ভিখারিনি,
হোটেলে দিনে দুবার রাবারের মতো পরোটা বা ভাত চিবিয়ে
সন্ধ্যার আঁধারে সঙ্গী খোঁজে নিঃসঙ্গ জীবন 
আর তরুণটি প্রতিদিন
একটু একটু করে মরে যায়

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended