Saturday, February 11, 2012

শতবর্ষি দুর্ভিক্ষ




কেভিন কার্টারের তোলা বিখ্যাত ফটো শিশু ও শকুন
জীবন হয়েছে আজ কয়লার হৃদপিণ্ড  
ধুকে ধুকে মরছে ভাগাড়ের পৃথিবীতে,
জ্বলছে ক্ষুধা আক্রান্ত শুকনো কাঠির শরীর;
গলায় ঝুলছে তাবিজ, ভিতরে ঈশ্বরের তিন মৃত পিতা,
মহাক্রন্দন শোনে াষ্ট্র,_ তবুও ভাবখানা অন্ধের, উপেক্ষার।

বয়স ছয় কী সাত
উজাড় জনপদের উচ্ছন্ন ভিটার পাশে উপুড় হয়ে
ধুঁকছে এক কৃষ্ণাঙ্গ শিশু,
ঠোঁট দুটো মাটিতে লাগানো, যেন গিলবে গোল সমগ্র পৃথিবী
পশু পাখি সমুদ্র নদী পাহাড়
সুন্দর সাদা সুখি প্রেতাত্মার নারী
বোতল পুরুষ আর বোকা বোকা মোটাসোটা রাষ্ট্রনীতিক
আমলা গামলা আর গামলার জল

চৌচির চারদিক, বিরাণভূমি সকল ভূ-ত্বক,
মরা খড় মরা ঘাস মহা মহামারি প্লেগ,
ইঁদুরের লাফালাফি ক্ষুধার টুকরো টুকরো ব্যাপ্ত শহরে,
দুঃখ শুধু অবিভাজ্য শিশুটির চোখে

কঙ্গো নীলের দুই তীরে ঢেউ তোলে
হাঁপাহাঁপি দৌড় লাফ
বর্ণবাদ অভিশাপ,
মাঝখানে মুমূর্ষু শিশু
বয়স ছয় কি সাত,
দাঁত দিয়ে জিভ কেটে রক্ত পান করেই তবে
করবে সে প্রতীক্ষিত শেষ শ্বাস ত্যাগ
আসবে মাহেন্দ্রক্ষণ অনতিদুরে দাঁড়িয়ে থাকা
মাংশাসি শকুনগুলোর জন্যে,
ওগুলোর মগজে শুধু  
খাবো আজ খাবো
কচি শিশুর গোস খাবো,
কচি গোসত বড় উপাদেয়
এরপর হবে আঁকা আলোকচিত্র,
আরেক মন্বন্তরে লেখা হবে কবিতা,
কিংবা পড়বে কেউ একই প্রতিবেদন জয়নুলবিহীন বাঙলার ফুটপাতে ঘাটে;
শুধু কেউ জানবে না -পৃথিবীর সব কুশাসকের পেটে কত চর্বির ঢিবি;
কত হাজার মূর্তি আছে শহরে রাজার
কতশত তোরণ নির্মি হয় মায়ের শাড়িতে

বুভুক্ষুরা ক্ষুধার নীলিমায়
মৃত্যুর মধ্য দিয়ে
বাঁচিয়ে রাখবে শকুন আগ্রাসিদের

রক্ত খেয়েই মরবে যখন তবে আর নিজেদের জিভ কেটে রক্ত পান কেন?

বি দ্রঃ কেভিন কার্টারের ফটোটি দেখে আমি এই কবিতাটি লিখেছিলাম। 

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended