Saturday, March 24, 2012

আকন্দ বাংলাদেশ ও ভারতের এক ঔষধি ফুল গাছ


আকন্দ, সাদা উপপ্রজাতি, ফটো: অনুপ সাদি, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ কক্সবাজার বাংলাদেশ থেকে তোলা


বৈজ্ঞানিক নাম: Calotropis gigantea
ইংরেজি নাম: আকন্দ,
ইংরেজি নাম: Crown Flower
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Magnoliophyta
শ্রেণী: Magnoliopsida
বর্গ: Gentianales
পরিবার: Apocynaceae
উপপরিবার: Asclepiadoideae
গণ: Calotropis
প্রজাতি: C. gigantea, C. procera
বৈজ্ঞানিক নাম: Calotropis gigantea, C. procera

পরিচিতি: আকন্দ এক প্রকারের ঝোপ ও গুল্ম জাতীয় মাঝারি ধরনের ওষধি গাছ। ৭-৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়কিন্তু এদের কাণ্ড নরম। তাই ফুল আর ফলের ভারে হেলে পড়াভাব দেখা যায়। এজন্য পূর্ণ বয়স্ক আকন্দের উচ্চতাটা ঠিক অনুমান করা মুশকিল। আকন্দের কাণ্ডের রং সাদাটে সবুজ। কাণ্ড বেশ নরম। ফল পাকতে শুরু করলে কিছুটা শক্ত হয়। কাণ্ডের ওপর দিকে কিছু ডালপালা থাকে। মূল থেকে একাধিক কাণ্ড বেরিয়ে ঝোপ তৈরি করে। কাণ্ডের বেড় ১-৩ ইঞ্চি হতে পারে। গাছের ছাল ধুসর বর্ণের এবং কান্ড শক্ত ও কচি ডাল লোমযুক্ত
আকন্দের পাতা দেখতে অনেকটা বটের পাতার মতো। বটের পাতার মতোই পুরু। বটের পাতা ভাঙলে যেমন সাদা আঠা বের হয়, আকন্দের পাতা ভাঙলেও সাদা আঠা বের হয়। পাতার উপরিভাগ মসৃণ এবং নীচের দিক তুলোর ন্যায় ক্ষুদ্র বৃন্ত এবং বৃন্তদেশ হৃদপিণ্ডাকৃত তবে বটের পাতার সাথে বড় পার্থক্য হলো, এর পাতা খুবই নরম। বটের পাতা অতটা নরম নয়। তবে বটের পাতার মতোই মসৃণ। আনকন্দের পাতা সরল। উপবৃত্তাকার। পাতা লম্বায় ৬-৮ ইঞ্চি হতে পারে। ঠিক মাঝ বরাবর পতার প্রস্থ ৩-৪ ইঞ্চি। আকন্দের পাতা হালকা বা সাদটে সবুজ।
আকন্দ দুই ধরনের। একটার ফুল সাদা রঙের, অন্যটার ফুলের রং সাদাটে বেগুনি। সাদাটে বেগুনি আকন্দগাছই বাংলাদেশে বেশি দেখা যায়। আকন্দ ফুলে চারটি পাঁড়ড়ি থাকে। এর পাতার মতো ফুলের পাঁড়ড়িও বেশ পুরু। ফুলের ব্যাস ১-১.৫ ইঞ্চি। ফুলে হালকা গন্ধ আছে। বারো মাস আকন্দগাছে ফুল ফোটে। আকন্দের ফুল বিভিন্ন পোকামাকড়, প্রজাপতি ও পিপীলিকার খাবার জোগান দেয়।
আকন্দের ফল সবুজ রঙের। লম্বাটে। ফল ইঞ্চি লম্বা হয়। ফলের ভেতর তুলোর মতো আঁশ থাকে। আঁশ স্তরে স্তরে সাজানো থাকে থাকে। প্রতিটা স্তরে মাঝে একটা করে পাতলা বিঁচি থাকে। বিঁচির গায়ে পাখনার মতো লেগে থাকে আঁশগুলো। ফল পাকার পর বিঁচিসহ বাতাসে উড়ে দূরে চলে যায় আকন্দের আঁশ। অর্থাৎ আকন্দের বংশবিস্তারে আঁশ এবং বাতাসের ভূমিকা বিরাট। আকন্দগাছ ৭-৮ বছর বাঁচে।
প্রাপ্তি স্থান: বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আকন্দ জন্মেএছাড়া থাইল্যাণ্ড, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও হাওয়াই দ্বীপে পাওয়া যায়।  বাংলাদেশে আকন্দের দুটি উপপ্রজাতি দেখা যায়। গাঁয়ের পথের দুপাশে এদের দেখা মেলে সবচেয়ে বেশি। আবার খুব বেশি ছায়াও পছন্দ করে না। তাই বড় বড় গাছের নিচে, কিংবা বাঁশবনে, বাগানে এদের কম দেখা যায়। তবে ছোট-ছোট গুল্মের ওপর নিজের বাহাদুরিটা ফলাতে পারে বলেই পরিত্যক্ত জমিতে এদের দেখা মেলে। উঁই ঢিবিতেও এদের দেখা যায়। আসলে উঁই ঢিবিটা মনে হয় সব গুল্মদের একটু বেশি পছন্দ। উঁই ঢিবির মাটি একটু বেশি উর্বর কিনা!

চাষাবাদ: ৩ থেকে ৪ ফুট দুরুত্বে আকন্দ গাছ লাগাতে হয়তবে মে-জুন মাসে ফল পাকলে ফেটে বীজ বাতাসে ভেসে বেড়ায়এ সময় এটি চাষ করা ভালোএছাড়াও কাটিং পদ্ধতিতেও এটি চাষ করা যায়প্রতি কেজিতে বীজের পরিমাণ ১ লক্ষ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজারটি
বীজ সংরক্ষণ: বীজ থেকে বংশ বিস্তর সম্ভব হলেও সাধারণ এর মোথা ও সাকার অংশ থেকে বংশ বিস্তার হয়ে থাকে
আকন্দের ওষুধী গুণঃ আকন্দ চুলের রোগ, ব্যাথা এবং বিষনাশে বিশেষ কার্যকরী দাদ ও টাকপড়া নিবারকআকন্দের কষ তুলায় ভিজিয়ে লাগালে দাদের ব্যথা দুর করে এবং যোনিতে ধারণ করলে গর্ভপাত ঘটায়আকন্দ বাত বেদনা নিবারক ও ফোলা অপসারকআকন্দ পাতা ও হলুদের তৈরি বড়ি শোথ/ ফোলা/পান্ডু রোগ নাশক এবং এর রস কৃমি নাশকগ্যাস্ট্রিকের ব্যথা শুরু হলে ০.৬৫ গ্রাম পরিমাণ আকন্দ পোড়া ছাই পানিসহ পান করলে সঙ্গে সঙ্গে উপকার পাওয়া যায়পেট কামড়ানি বা পেট জ্বালায় আকন্দ পাতার সোজা দিকে সরিষার তেল মাখিয়ে পাতাটি অল্প গরম করে পেটের উপর রাখলে বা ছেঁক দিলে পেট কামড়ানো বা পেট জ্বালা বন্ধ হয়শোথ বা ফোলা রোগে আকন্দ বিশেষ উপকারীফোলাজনিত কারণে কোন স্থান ফুলে উঠলে আকন্দপাতা বেঁধে রাখলে উপকার পাওয়া যায়শ্বাস কষ্টে আকন্দের শিকড়ের ছাল প্রথমে গুড়া করে তারপর আকন্দের আঠায় ভিজিয়ে রেখে পরে শুকিয়ে নিতে হবেএরপর তা চুরুট বানিয়ে ধুমপান করলে শ্বাস কষ্ট ভাল হয়নিউমোনিয়াজনিত বেদনায় আকন্দ পাতার সোজা দিক ঘি মেখে ব্যথার জায়গায় বসিয়ে লবনের পুটলি দিয়ে ছেক দিলে উপকার পাওয়া যায়হজম শক্তি কমে গেলে  ২ গ্রাম পরিমাণ শুকনো আকন্দ মুল গুড়া করে খেলে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়আকন্দের ব্যবহার্য অংশ হলো ফুল, পাতা, শিকড় ও আঠা
আকন্দ গাছের সব অংশই বিষাক্ত। তাই ব্যবহারে সতর্ক হোন। অতিরিক্ত ব্যবহারে ক্ষতি হবে।

আকন্দকে নিয়ে জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন
আকন্দ বাসকলতা ঘেরা এক নীল মঠ_ আপনার মনে
ভাঙিতেছ ধীরে ধীরে;_ চারিদেক এইসব আশ্চর্য উচ্ছ্বাস ... 



আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment