Sunday, March 11, 2012

ধুতরা বাংলাদেশ ও ভারতের ঔষধি উদ্ভিদ


Photo: Munibur Rahman, Jessore, Bangladesh

ধুতরা বাংলাদেশ ও ভারতের প্রজাতি। Solanaceae পরিবারের ধুতরার বৈজ্ঞানিক নাম হলো Datura fastuosa. থেকে দেড় মিটার উঁচু ধুতরার গাছের ডালপালা নরম এবং গাছ সাদা ও বেগুনি রঙের। পাতা বড়, ১৫-১৮ সে.মি. লম্বা, কিনারে লতি। পাতার কক্ষে একেকটি ফুল, ১২-১৫ সে.মি. লম্বা, বাইরে বেগুনি, ভিতর সাদা কিংবা সম্পূর্ন সাদা, সুগন্ধি। ফল গো্ল,‌ কাঁটাভরা, বিদারী। অসংখ্য বাদামি বীজ। বীজে চাষ। ধুতরার বীজ বিষাক্ত এবং ভেষজগুণে অনন্য। কাজী নজরুল ইসলাম ধুতরাকে নিয়ে লিখেছেন গান কে দিল খোপাতে ধুতরা ফুল গোধুতরা উত্তরবংগে যথেষ্ট পাওয়া গেলেও সারাদেশে এখন আর সহজলভ্য নয়।
রাজধুতরা বা রাজঘন্টা, বৈজ্ঞানিক নাম Datura suaveolens দৈবাত দেখা যায়। পেরু দেশের প্রজাতি। ২-৩ মিটার উঁচু গাছ, ফুল সুগন্ধি, ১৫-২০ সে.মি. লম্বা, ঝুলন্ত। ডাল মাটিতে লাগালে তাতে শিকড় গজায়। কলমে চাষ।

ধুতরার ভেষজ ব্যবহার
১. হাঁপানি রোগেঃ কৃষ্ণ ধুতরার শুকনা পাতা এবং ফুল বাসক পাতায় জড়িয়ে সিগারেটের মতো তৈরি করে, আগুন দিয়ে টানলে হাঁপানির কষ্ট কমবে।
২. শ্বাসকষ্টেঃ ধুতরা গাছের পাতা, মূল, ফুল ও ফল সিদ্ধ করে তার দ্বারা বুকে সেঁক নিন। শ্বাসকষ্ট কমবে।
৩. টাক রোগেঃ জীবাণুঘটিত কারণে মাথার চুল উঠে গিয়ে টাক পড়লে, ধুতরা পাতার রস মাথার একপাশে লাগান, পরদিন অপরপাশে লাগাবেন এবং একদিন অন্তর ব্যবহার করবেন। টাক আরোগ্য হবে।
৪. স্তনের বেদনায়ঃ ধুতরা পাতা ও কাঁচা হলুদ একসাথে বেঁটে স্তনে প্রলেপ দিলে বেদনা কমে যাবে। পরে স্তন ভালভাবে ধুয়ে ফেলবেন।
৫. বাতেঃ বাতে খুব কষ্ট পাচ্ছেন। এ অবস্থায় ধুতরা পাতার রসের সাথে সরিষার তেল মিশিয়ে গরম করুন। তারপর সামান্য গরম অবস্থায় বেদনাস্থানে মালিশ করুন, বেদনা কমে যাবে।

সতর্কীকরণঃ যে কোনো ভেষজ ঔষধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

আরো পড়ুন:

১. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

২. বাংলাদেশের ঔষধি গাছের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের পাখির তালিকা

2 comments:

  1. খুব ভাল হয়েছে। আমার তোলা ছবি ব্যবহার করার জন্য ধন্যবাদ।
    -মুনিবুর রহমান

    ReplyDelete
  2. আমি একজন বোটানী স্টুডেন্ট । চতুর্থ বর্ষে গবেষনার জন্য একটা সাবজেক্ট খুজছি । মেডিসিনাল প্লান্ট নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে । হেল্প করতে পারবেন?

    ReplyDelete

Recommended