Sunday, April 15, 2012

পাহাড়ি তরুণাস্থি কাছিম বাংলাদেশের মহাবিপন্ন কাছিম


Asiatic Softshell Turtle, Photo: Monirul Khan.

বৈজ্ঞানিক নাম: Amyda cartilaginea
সমনাম: Testudo cartilaginea
বাংলা নাম: পাহাড়ি তরুণাস্থি কাছিম,
ইংরেজি নাম: Asiatic Softshell Turtle.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
শ্রেণী: Reptilia
পরিবার: Trionychidae
গণ: Amyda
প্রজাতি: Amyda cartilaginea
ভূমিকা: বাংলাদেশের কচ্ছপের তালিকায় মোট ২৯ প্রজাতির কচ্ছপ, কাইট্টা ও কাছিম আছে। এদের মধ্যে আমাদের আলোচ্য পাহাড়ি তরুণাস্থি কাছিম হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং মহাবিপন্ন প্রজাতি।
বর্ণনা: আমাদের মিঠাপানির গঙ্গা তরুণাস্থি কাছিম এবং ধুম তরুণাস্থি কাছিমের মতো দেখতে, কিন্তু আকারে বেশ ছোট ও চ্যাপ্টা আকৃতির এ কাছিমের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৮৩ সেন্টিমিটারএর খোলসের ওপরের অংশের সামনের প্রান্তে অবস্থিত এক সারি গোলাকার গুটিকা (টিউবারকল) এবং সরু ও লম্বা নাক দেখে সহজেই অন্য সব কাছিম প্রজাতি থেকে আলাদা করে চেনা যায়এ কাছিমের ওপরের অংশ ধূসর থেকে জলপাই রঙা এবং নিচের অংশ সাদা অথবা হালকা ধূসর হয়ে থাকেকম বয়সী কাছিমের ওপরের অংশে অনেক কালো ও হলদে ফোটা এবং উঁচু উঁচু লম্বাটে দাগ থাকে, যা বয়স বাড়ার সময় পর্যায়ক্রমে খোলসের ওপরের চামড়ার সঙ্গে মিশে যায়
স্বভাব ও আবাসস্থল: নিশাচর পাহাড়ি তরুণাস্থি কাছিমের প্রধান খাবার পাহাড়ি নদী ও জলাশয়ের মাছ, ব্যাঙ, ব্যাঙাচি, চিংড়ি ও পোকামাকড়এরা নদী বা জলাশয়ের ধারে গর্ত খুঁড়ে বছরে তিন-চারবার পাঁচ থেকে ৩০টি করে ডিম পাড়েডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে সময় লাগে ১৩০-১৪০ দিন
বিস্তৃতি: এই কাছিম প্রজাতির বিস্তৃতি মিয়ানমার ও ভারতের মিজোরাম রাজ্য থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুমাত্রা, জাভা ও বর্নিও দ্বীপ পর্যন্তবাংলাদেশে এ প্রজাতির কাছিম প্রথম পাওয়া নিশ্চিত করেন মনিরূল খান নভেম্বর ২০১১ তে।
অবস্থা: বিশ্বব্যাপী এই প্রজাতির কাছিম সঙ্কটাপন্ন এবং বাংলাদেশে মহাবিপন্ন। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনানুসারে রক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকায় তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
মন্তব্য: যেসব দেশে এই কাছিম পাওয়া যায়, সব দেশের মানুষ একে শিকার করে মাংসের জন্যবাংলাদেশের যে দুর্গম এলাকায় এ কাছিম পাওয়া গেছে, সেখানেও তার ব্যতিক্রম নয়স্থানীয় ম্রো সম্প্রদায়ের লোকজন এই কাছিম শিকার করেতাঁরা নদীর তলায় কাদামাটি ও ছোট পাথরের মধ্যে বর্শা গেঁথে গেঁথে লুকিয়ে থাকা কাছিমের অবস্থান শনাক্ত করেনএভাবে কাছিম শিকার চলতে থাকলে বাংলাদেশে কাছিম নির্বংশ হতে খুব বেশি দিন সময় লাগবে না।


আরো পড়ুন:

No comments:

Post a Comment

Recommended