Tuesday, April 24, 2012

কালাগলা মানিকজোড় বিশ্বে প্রায়-বিপদগ্রস্ত এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন পরিযায়ী পাখি




কালাগলা মানিকজোড়, ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Ephippiorhynchus asiaticus
সমনাম: Myctaria asiatica Latham, 1790 
বাংলা নাম: কালাগলা মানিকজোড়,
ইংরেজি নাম/Common name: Black-necked Stork.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Animalia
বিভাগ: Chordata
শ্রেণী: Aves
পরিবার/Family: Ciconiidae
গণ/Genus: Ephippiorhynchus;
প্রজাতি/Species: Ephippiorhynchus asiaticus (Latham, 1790)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাEphippiorhynchus এই গণে পৃথিবীতে  ২টি প্রজাতির পাখি রয়েছে। বাংলাদেশে রয়েছে তার টি প্রজাতি। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম কালাগলা মানিকজোড়
বর্ণনা: কালাগলা মানিকজোড় প্রবাল লাল-পা ও কালো ঠোঁটের জলচর পাখি। দৈর্ঘ্য ১৩৫ সেমি, ডানা ৬০ সেমি, ঠোঁট ৩১ সেমি,পা ৩২ সেমি, লেজ ২৭ সেমি। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠের দিক কালো-ও-সাদা; দেহের নিচের দিক সাদা; মাথা, ঘাড়, ডানা-ঢাকনি ও লেজ নীল, বেগুনি এবং সবুজের উজ্জ্বলতাসহ কালো; কাঁধ-ঢাকনি ও দেহের পিছনের অংশ একদম সাদা; সাদা ডানার উভয়পৃষ্ঠে প্রশস্ত কালো ফিতা; বুক, পেট ও লেজতল-ঢাকনি সাদা; লম্বা কালো ঠোঁটের নিচের অংশ উলটো বাঁকানো; গলথলি ও চোখের পাতা অনুজ্জ্বল বেগুনি; এবং লম্বা পা ও পায়ের পাতা প্রবাল-লাল। চোখের রঙ ছাড়া ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারা অভিন্ন। চেলের চোখের রঙ বাদামি ও মেয়ের হলুদ।
স্বভাব: কালাগলা মানিকজোড় নিচু এলাকার জলাভূমি, ন্দী, বিল ও প্যারাবনের জলায় বিচরণ করে; সচরাচর একা কিংবা জোড়ায় থাকে। অগভীর পানিতে জলজ উদ্ভিদে খোলা ঠোঁট ঢুকিয়ে খাবার খায়; খাদ্যতালিকায় রয়েছে মাছ, ব্যাঙ, সরীসৃপ ও চিঙড়ি জাতীয় প্রাণি। সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর মাসে প্রজননকালে ভারতে পতিত বা আবাদি জমির মাঝখানে দাড়িয়ে থাকা বড় গাছের ডালে ডালপালা, খড় ও পাতা দিয়ে বড় বাসা বানিয়ে এরা ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা, সংখ্যায় -৫ টি, মাপ ৭.×. সেমি।
বিস্তৃতি: কালাগলা মানিকজোড়কে ২০০৯ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষে বাংলাদেশের প্রাক্তন পরিযায়ী পাখি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবস্থা: কালাগলা মানিকজোড় বিশ্বে প্রায়-বিপদগ্রস্ত এবং বাংলাদেশে অপ্রতুল তথ্যশ্রেণিতে রয়েছে। এটি বাংলাদেশের প্রাক্তন পরিযায়ী এবং বাংলাদেশের বিলুপ্ত পাখির তালিকায় রয়েছেউনিশ শতকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ছিল; এখন নেই । অস্ট্রেলিয়া, নিউগিনি, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা ও ইন্দোচিনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
বাংলাদেশে কালাগলা মানিকজোড়ের ইতিহাস: প্রাণিবিজ্ঞানী সিমসন ১৮৯০ সালে ঢাকা নগরে এ পাখি দেখেছিলেন এবং ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে পাখিটির অস্তিত্ব ছিল। তার ৬২ বছর পর ২০১০ সালের এপ্রিলে হাকালুকি হাওরের নাগোয়া-ধলিয়া বিলে এক জোড়া কালাগলা মানিকজোড় দেখা গেছে। একই সময়ে সুন্দরবনে এ প্রজাতির আরও একটি পাখি দেখা গেছে। এছাড়া হাওরে ধৃত একটি কালাগলা মানিকজোড় পাখি এলাকাবাসীর কবল থেকে উদ্ধার করে বন বিভাগ সেইসময়ে সাফারি পার্কে স্থানান্তরিত করেছে।
বিবিধ:  মানিকজোড় (Ciconiidae) পরিবারে পৃথিবীতে সর্বমোট ২৬ প্রজাতির পাখি আছে, যার আট প্রজাতি একদা বাংলাদেশে দেখা যেত। এর মাত্র দুটি প্রজাতি এখন এ-দেশে বাস করে ১. এশিয় শামখোল, ২. ছোট মদনটাক

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended