Thursday, April 05, 2012

মেটেমাথা কুরাঈগল বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি।




বাংলা নাম: মেটেমাথা কুরাঈগল
ইংরেজি নাম/Common Name:  Grey-headed Fish Eagle.  
বৈজ্ঞানিক নাম/scientific Name:  Ichthyophaga ichthyaetus.
গণ: Ichthyophaga; এই গণে পৃথিবীতে দুই প্রাজাতির পাখি রয়েছেবাংলাদেশে রয়েছে তার একটি প্রাজাতি

বর্ণনাঃ মেটেমাথা কুরাঈগল ধূসর মাথা ও হলুদ চোখের মাছ-শিকারি পাখিএর দৈর্ঘ্য ৭৪সেমি, ডানা ৪৮.৫ সেমি, ঠোঁট সেমি, পা ৯.৫ সেমি, লেজ ২৬.৫ সেমিপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির ধূসর বাদামি পিঠ ও সাদা পেট ছাড়া দেহের নিচের দিক লালচে বাদামি; মাথা ও ঘাড় ধূসর; পিঠের উপরের দিকটা হালকা বাদামি; ডানা কালচে বাদামি ও সাদা লেজের উপপ্রান্তীয় ফিতা কালো; বুক ফিকে বাদামি; এবং বগল, তলপেট ও অবসারণী সাদাএর ঠোঁট শিঙ-বাদামি; চোখ সোনালি-হলুদ; পা ও পায়ের পাতা হলদে-ধুসরছেলে ও মেয়েপাখির চেহারা অভিন্ন অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির ভ্রুরেখা ফিকে; মাথা, ঘাড় ও বুকের ডোরা ফিকে; ফিকে লেজে বাদামি ডোরা ও ডানায় অস্পষ্ট বাদামি দাগ থাকেতরুণ পাখির ফিকে বাদামি দেহতলে প্রশস্ত সাদা ডোরা রয়েছে
স্বভাবঃ মেটেমাথা কুরাঈগল হ্রদ, ধীর বহমান নদী, জলাধার, জোয়ারীয় লেগুন ও প্যারাবনে বিচরণ করে; সচরসচর একা অথবা জোড়ায় থাকেসচরাচর গাছে বসে পানিতে আহার খোঁজে ও হঠাছোঁ মেরে নখর দিয়ে এরা শিকার ধরে খায়; খাদ্যতালিকায় রয়েছে মাছ, ব্যাঙ, সাপ, পাখি ও ছোট স্তন্যপায়ি প্রাণিমাঝে মাঝে গাছে বসে এরা চিকার করে ডাকেঃ ক্রাহ..... ক্রাহ......ক্রাহ......; এবং প্রজনন ঋতুতে উড়ে উড়ে ডাকেনভেম্বর-জানুয়ারি মাসে প্রজননকালে বড় গাছের মগডালে ডাল পালা দিয়ে মাচার বাসা বানিয়ে এরা ডিম পাড়েডিমগুলো সাদা, সংখ্যায় ২-৩ টি, মাপ ৬.৯×৫.২ সেমি২৮-৩০ দিনে ডিম ফোটে
বিস্তৃতিঃ মেটেমাথা কুরাঈগল বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখিচট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের বিল ও পুকুরে পাওয়া যায়ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে
অবস্থাঃ ২০০৯ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষে এটিকে বাংলাদেশে বিপদমুক্ত ও বিশ্বে প্রায়-বিপদগ্রস্ত ও বলে উল্লেখ করা হলেও বর্তমানে এটি বাংলাদেশেও প্রায়-বিপদগ্রস্তবিশেষ করে মাছ চাষিরা এটিকে শত্রু গণ্য করে এটির উপর অত্যাচার করে বা এটিকে হত্যা করে যদিও পাখিটি  ব্যাঙ ও সাপ শিকার করে প্রতিনিয়ত মাছচাষিদের উপকার করে চলেছে
ছবির ইতিহাসঃ ৫ এপ্রিল, ২০১২; দুপুরে মরিচাখালি, ডৌহাখোলা, গৌরিপুর, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ থেকে তোলা। এক জোড়া। আলোকচিত্রকরঃ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ। সে গ্রামের মাছের খামারিরা গুলি করে এই ঈগল মেরে ফেলে বলে আমরা সেদিন জেনেছিলাম। আমরা কী এই পাখিটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে পারি না।
আরো পড়ুন:

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended