Thursday, April 19, 2012

লালশিমুল বাংলাদেশের উপকারি ফুলগাছ


লাল শিমুল ফুল, ফটোঃ অনিন্দ্য মিন্টু


বাংলা নাম: শিমুল, শিমুল তুলা, লালশিমুল
বৈজ্ঞানিক নাম: Bombax ceiba
সমনাম: Bombax malabaricum DC. Gossampinus malabaricus (DC.) Merr. Salmalia malabarica (DC.) Schott & Endl.
ইংরেজি নাম: Silk Cotton Tree.
আদিবাসি নাম: Pongchong (Bawm), Chamful Gaith (Tanchangya), Lakh Pine (Marma), Chapang (Khumi), Man-chow (Mandi, Garo)

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae - Plants
উপরাজ্য: Tracheobionta - Vascular plants
অধিবিভাগ: Spermatophyta - Seed plants
বিভাগ: Magnoliophyta - Flowering plants
শ্রেণী: Magnoliopsida - Dicotyledons
উপশ্রেণি: Dilleniidae  
বর্গ: Malvales
পরিবার: Bombacaceae
উপপরিবার: Bombacoideae
গণ: Bombax L. – cottontree
প্রজাতি: Bombax ceiba L. - red silk cottontree
পরিচিতি: পাতাঝরা বড় বৃক্ষ। এই বৃক্ষের আদি নিবাস দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। ১৫-২০ মিটার বড় হয়। শাখা-প্রশাখা কম। সরল ও বৃত্তাকারভাবে চারদিকে বিস্তৃত। বড় গাছের অধিমূল হয়। গাছের গায়ে কাঁটা। অগ্রভাগ সরু ও তীক্ষ্ণ এবং গোড়াটা বেশ মোটা। পাতার গঠন এমন যেন একটি বোঁটায় ছড়ানো হাতের পাঞ্জা। পলাশের মতো শিমুলেরও শীতের শেষে পাতা ঝরে যায়। ফাল্গুন মাসে ফুলের কুঁড়ি আসে এবং চৈত্র মাসে বড় এবং উজ্জ্বল রঙের লাল ফুল ফোটে। মোচাকৃতি ফল হয় যা পাকে এপ্রিল মাসে। ফল ফেটে বীজ ও তুলা বের হয়ে আসে। 
শিমুল ফুল
গুরুত্ব: শিমুল তুলার উৎস এর পাকা ফল। একটি সাধারণ আকারের গাছ থেকে ১০-১৫ কেজি তুলা পাওয়া যেতে পারে। এই তুলা দিয়ে বালিশ ও তোষক তৈরি হয়। এছাড়াও ফুল ফুটলে মধু খাবার জন্যে একটি বড় শিমুল গাছে হাজার হাজার পাখি ভিড় করে। প্রায় অর্ধশত প্রজাতির পাখি শিমুলের মধু খাবার জন্য ভিড় করে। দৃষ্টিনন্দন এই ফুলের জন্য এর সুখ্যাতি সুবিদিত। কাঠ থেকে পেন্সিল ও দিয়াশলাইর কাঁঠি তৈরি হয়। ছোট শিমুল গাছের ভেষজমূল্য আছে।  
বিস্তৃতি: সারা দেশেই এদের দেখা যায়। তবে বড় আকারের শিমুল গাছ দুর্লভ হয়ে গেছে লোভি ব্যক্তির কারণে। ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ হিসেবে এটি অনন্য।
বিবিধ: Bombax গণের পাঁচটি প্রজাতি হলো:
১. রেশমি শিমুল, Bombax buonopozense,
২. লাল শিমুল, Bombax ceiba,
৩. কাপোক শিমুল, Bombax costatum,
৪. পাহাড়ি শিমুল, Bombax insigne.

No comments:

Post a Comment