Saturday, September 29, 2012

কামরাঙা বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক জনপ্রিয় ফল


কামরাঙা ফল

বৈজ্ঞানিক নাম: Averrhoa carambola
বাংলা নাম: কামরাঙা,
ইংরেজি নাম: Carambola Apple, Chinese Gooseberry, Coromandel Gooseberry.
আদিবাসি নাম: Sewra (খুমি)

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগ/রাজ্য: Plantae - Plants
উপরাজ্য: Tracheobionta - Vascular plants
অধিবিভাগ: Spermatophyta - Seed plants
বিভাগ: Magnoliophyta - Flowering plants
শ্রেণী: Magnoliopsida - Dicotyledons
উপশ্রেণি: Rosidae  
বর্গ: Geraniales
পরিবার: Oxalidaceae - Wood-Sorrel family
গণ: Averrhoa Adans. - averrhoa
প্রজাতি: Averrhoa carambola L. - carambola
বিবরণ: কামরাঙা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফলএর স্বাদ টক-মিষ্টিকামরাঙা ও এর ঘনিষ্ট বিলিম্বি (Averrhoa bilimbi) সম্ভবত দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ায় ( মালয় উপদ্বীপ হতে ইন্দোনেশিয়া উপন্ন )এটি চীন, থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ায় অন্যতম জনপ্রিয় ফলবাংলাদেশ এ বরিশাল বিভাগে এর উপাদন বেশী হলেও অন্যান জেলায় ও এর চাষাবাদ বাড়ছেকামরাঙা গাছ মাঝারি আকারের, প্রায় ১২ মিটার উঁচু, চিরসবুজ, লন্বাটে গড়ন, মাথা ঝোপাল, সুশ্রী ,শাখা ঝুলন্ত, পাতা পক্ষ যৌগিকচারা লাগানোর ৩-৪ বছরের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়সাধারণত কচি ডালে বা পুরানো ডালে থোকা থোকা ফুল ফুটেফুলগুলি অসমপুংদণ্ডধর (heterostylous) এবং গাছ আংশিক স্ববিষমধর্মী (self-incompatible)| সাধারণত বাড়ির আঙিনাতে এ গাছ লাগানো হয়


আরো পড়ুন:

১. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

২. বাংলাদেশের ঔষধি গাছের একটি বিস্তারিত পাঠ

চার্লি চ্যাপলিন ফ্যাসিবাদ ও পুঁজিবাদবিরোধি এক মহান চলচ্চিত্রকার





চার্লি চ্যাপলিন
চার্লি চ্যাপলিন নামেই বেশি পরিচিত স্যার চার্লস স্পেনসার চ্যাপলিন জুনিয়র (১৬ই এপ্রিল, ১৮৮৯ ২৫শে ডিসেম্বর, ১৯৭৭) একজন ব্রিটিশ চলচ্চিত্র অভিনেতাহলিউড সিনেমার প্রথম থেকে মধ্যকালের বিখ্যাততম শিল্পীদের একজন চ্যাপলিন পৃথিবী বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালকও বটে চ্যাপলিনকে চলচ্চিত্রের পর্দায় শ্রেষ্ঠতম মূকাভিনেতা ও কৌতুকাভিনেতাদের একজন বলেও মনে করা হয়চলচ্চিত্র শিল্প জগতে চ্যাপলিনের প্রভাব অনস্বীকার্য
নির্বাক চলচ্চিত্র যুগের অন্যতম মৌলিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব চ্যাপলিন নিজের ছবিতে নিজেই অভিনয়, সংলাপ রচনা, পরিচালনা, প্রযোজনা এমন কী সঙ্গীত পরিচালনা পর্যন্ত করেছেন শিশুশিল্পী হিসেবে ইংল্যান্ডের ভিক্টোরিয়ান নাট্যমঞ্চ ও মিউজিক হলে সূচিত চ্যাপলিনের ৬৫ বছরের কর্মজীবনের যবনিকাপাত ৮৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুতে
চার্লস চ্যাপলিনের সিনেমা দেখে আমরা হাসিহাস্যরস, কৌতুক আর বিচিত্র পোশাকের এই লোকটি সব সময় সবাইকে জানাতে চায় অভাবীর জন্য কত নির্মম এ সভ্যতা। তাঁর হাসির পেছনে আছে এক তীব্র ক্ষোভ, আছে প্রতিজ্ঞা যিনি ভবঘুরে হয়ে ক্ষমতাশালীকে সামান্যই ভয় করেন। তিনি তাঁর সিনেমাতে দেখিয়ে দেমানুয়ের জীবন থেমে থাকে না; থেমে থাকারও নয়। তিনি দেখিয়েছেন যন্ত্র সভ্যতার ভেতর একজন শ্রমিক যান্ত্রিক হবার বাইরেও পরিপূর্ণ মানবিকতা নিয়ে বাঁচতে পারেন। আবার সম্পদের কাছে একজন মানুষের মানবিকতা খাদের তলায় নেমে যেতে পারে। তিনি তাঁর সিনেমায় দেখিয়েছেন কেউ সাথে না থাকলেও কোন পথে চলতে হবে সামনে; কিভাবে এগুতে হবে জীবনের জন্য, মানুষের জন্য। দেখিয়েছেন সবকিছুর ভেতরেই আছে প্রেম, মানবিকতা, ভালোবাসা আর জীবনের জয়গান। চাপা কো, সাইজে বড় প্যান্ট, বড় জুতো, মাথায় বাউলার হ্যাট, হাতে ছড়ি আর অদ্ভুত গোঁফঅলা ভবঘুরে হলেও ভদ্রজনোচিত আদব-কায়দায় সুসংস্কৃত এবং সম্মানবোধে অটুট চার্লি চ্যাপলিন মানবিকতায় ভরপুর এক বিশ শতকের মহান বিপ্লবী।
সেই সাথে আমরা বুঝতে পারি এই ছোট্ট দুটি হাত ও ছোট্ট দুটি পায়ের মহৎ মানুষটির অফুরন্ত ভালোবাসা। তাই তিনি অতি সহজে বলতে পারেন,
মানুষকে ভালোবাসার জন্য যদি আমাকে কমিউনিস্ট বলা হয় তবে আমি একজন কমিউনিস্ট
চ্যাপলিনের শৈশব কাটে প্রচণ্ড দারিদ্র আর কষ্টের মাঝে আর তাই হয়তো তিনি উপলদ্ধি করতেন দেওয়া ও পাওয়াতে, ভালবেসে আর ভালবাসাতে কী আনন্দ। তিনি একটা কথা প্রায়ই বলতেন যে বৃষ্টিতে হাঁটা খুবই ভালো কারণ এই সময় কেউ তোমার চোখের অশ্রু দেখতে পায় না।
অত্যধিক দারিদ্রই চ্যাপলিনকে শিশু বয়সেই অভিনয়ের দিকে ঠেলে দেয়...তার মা-বাবা দুজনেই মঞ্চের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তাই এই পেশাতে আসাটাই তাঁর কাছে সহজ ছিল। চ্যাপলিন সেইসময়ের জনপ্রিয় লোকদল জ্যাকসন্স এইট ল্যাঙ্কাসায়ার ল্যাডসএর সদস্য হিসাবে নানা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এরপর ১৪ বছর বয়সে তিনি উইলিয়াম জিলেট অভিনিত শার্লক হোমস নাটকে কাগজওয়ালা বিলির চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সুবাদে তিনি ব্রিটেনের নানা প্রদেশে ভ্রমণ করেন ও অভিনেতা হিসাবে তিনি যে খুবই সম্ভাবনাময় তা সবাইকে জানিয়ে দেন ।
বিশ্বব্যাপী যখন দুঃসময় তাড়া করে ফিরছে, মানবিকতা ও শ্রমিকশ্রেণীর বিরুদ্ধে পুঁজিবাদ-ফ্যাসিবাদ বিষাক্ত থাবা ফেলছে; তখনই তিনি তৈরি করলেন তাঁর অমর দুটি সিনেমা ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’ ও ‘মসিয়ে ভের্দু’। প্রথমটিতে ব্যঙ্গের অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলেন ফ্যাসিবাদকে, দ্বিতীয়টিতে একটি শক্তিশালী পুঁজিবাদী রাষ্ট্রকে। এর জন্য তাঁকে মূল্য দিতে হলও অনেক, কিন্তু তিনি তা গায়ে মাখেননি। বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রকার আইজেনস্টাইন বলেছেন,
“চ্যাপলিন সেইসব ধ্রুপদী শিল্পীদের মধ্যে নিজের স্থান করে নিয়েছেন যুগে যুগে যারা ব্যঙ্গের অস্ত্র দিয়ে অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়েছেন। এঁরা হলেন এথেন্সের আরিস্তোফেনিস, রোতরদামের ইরাসমাস, মেডনের ফ্রাঁসোয়া রাবেলিয়াস, ডাবলিনের জোনাথন সুইফট ও ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া ভলতেয়ার।”  
এই মহান ব্যক্তি সম্পর্কে সত্যজিৎ রায় বলেছেন,
“যদি একটি নামকেই বেছে নিতে হয় যিনি সিনেমার প্রতীক স্বরূপ তবে সেই নামটি হলো চার্লি চ্যাপলিন। ... ... আমি নিশ্চিত যে শৈল্পিক প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে যদি সিনেমার অবলুপ্তিও ঘটে তবু চ্যাপলিনের নামটি টিকে থাকবে। চ্যাপলিন সত্যিই অমর।”
চ্যাপলিনের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: দ্য সার্কাস, মডার্ন টাইমস, দ্য কিড, সিটি লাইটস, মঁসিয়ে ভের্দু, দ্য গ্রেট ডিক্টেটর প্রভৃতি। মনে করা হয়, দ্য গ্রেট ডিক্টেটর (১৯৪০) হিটলারকে ব্যঙ্গ করে নির্মিত।

Friday, September 28, 2012

সোমেশ্বরী নদী বাংলাদেশ ও মেঘালয়ের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী









দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদী
সোমেশ্বরী নদী (ইংরেজি: Someshwary River) বাংলাদেশ ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটি বাংলাদেশের নেত্রকোনা এবং মেঘালয়ের একটি নদী। নদীটির বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ৫০ কিলোমিটার, গড় প্রশস্ততা ১১৪ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক সোমেশ্বরী নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী নং ৮৫। বাংলাদেশে সোমেশ্বরী নামের আরো দুটি নদী হচ্ছে সোমেশ্বরী (ধর্মপাশা) ও সোমেশ্বরী (শ্রীবর্দী-ঝিনাইগাতি)।[১]

প্রবাহ: সোমেশ্বরী নদীটি ভারতের মেঘালয়ে উৎপত্তি লাভ করে সীমান্ত পেরিয়ে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাঘোরা ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অতঃপর নদীটি দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নে এসে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বিভাজিত দুটি শাখায় সোমেশ্বরী নামে পরিচিত। একটি শাখা পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে ভোগাই-কংস নদীতে পতিত হয়েছে। অপর শাখাটি দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উপদাখালী নদীতে পতিত হয়েছে। পূর্বে এই শাখাটি কইলাতি ইউনিয়নে গোমাই নদী দিয়ে প্রবাহিত হতো। নদীর দুটি শাখাতেই সারা বছর পানির প্রবাহ পরিদৃষ্ট হয়। তবে কংসে পতিত শাখাটিই সোমেশ্বরীর মূল প্রবাহ বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।[১]

অন্যান্য তথ্য: সোমেশ্বরী নদীতে বর্ষাকালে প্রবল জলস্রোতের কারণে কিছু কিছু স্থানে ভাঙনপ্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। তবে নদীর দুই পাশ উপচে তীরবর্তী অঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয় না। এ নদীর তলদেশ দিন দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে এবং নদীর উপরের অংশের প্রশস্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বারোমাসি প্রকৃতির এই নদীটিতে জোয়ারভাটার প্রভাব নেই। এই নদীর অববাহিকায় বাংলাদেশে সোমেশ্বরী প্রকল্প রয়েছে। বাংলাদেশে এই নদীতে কোনো ব্যারাজ বা রেগুলেটর নেই এবং উভয় তীরে ব্যাংক রিভেটমেন্ট আছে ২.০৭ কিলোমিটার। এই নদীর তীরে বাংলাদেশে দুর্গাপুর পৌরসভা, শিবগঞ্জ বাজার, কুমুদগঞ্জ বাজার ও সিদলিবাজার অবস্থিত।[১]

তথ্যসূত্র:  
১. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ২২৯-২৩০, ISBN 984-70120-0436-4.
 


আরো পড়ুন: