Sunday, September 09, 2012

কুশিয়ারা নদী বাংলাদেশ ও আসামের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী













কুশিয়ারা নদীর প্রবাহ

কুশিয়ারা নদী (ইংরেজি: Kushiara River): কুশিয়ারা নদীটি বাংলাদেশ ও আসামের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটি ভারতের আসাম রাজ্যের এবং বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার একটি নদী। নদীটির বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮৮ কিলোমিটার, গড় প্রশস্ততা ২৬৮ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক কুশিয়ারা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী নং ১৭। 

প্রবাহ: কুশিয়ারা নদীটি আসামের বরাক নদী হতে উৎপত্তি লাভ করে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরিয়া ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অতঃপর এই নদীর জলধারা কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার কালমা ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে মেঘনা (আপার) নদীতে পতিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার আজমিরিগঞ্জ পৌরসভা হতে কুশিয়ারা নদীটি স্থানীয়ভাবে মেঘনা (আপার) নামে পরিচিত হয়েছে। এ নদীর গভীরতা, পানির প্রবাহ এবং প্রশস্ততা অতীতের তুলনায় তেমন পরিবর্তিত হয়নি। তবে নদীর ভাঙনপ্রবণতা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলায় নদীর ডানতীরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত বাঁধ রয়েছে। এছাড়াও গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলাধীন কুদুপুর বসন্তপুর ও মানিককোনা এলাকায় নদীর ডান ও বাম তীরে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ দেয়া আছে। এই নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাথর বালু পরিবহন করা হয়। এ নদীর ভাটি অঞ্চল জোয়ারভাটার প্রভাবে প্রভাবিত। নদীটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তৃতীয় শ্রেণির নৌপথ হিসেবে স্বীকৃত।

অন্যান্য তথ্য: কুশিয়ারা নদীটি বারোমাসি প্রকৃতির এবং ভাটি অঞ্চল জোয়ারভাটা প্রভাবিত। নদীটি বন্যাপ্রবণ এবং নদীর অববাহিকায় বাংলাদেশ অংশে মনু নদী প্রকল্প, খৈরধলা রত্না প্রকল্প, ভান্দাবিল প্রকল্প, নালুয়ার হাওর প্রকল্প আছে। নদীটিতে কোনো ব্যারাজ বা রেগুলেটর নেই। নদীতে ডানতীরে ১১৮.৬০ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ আছে এই নদীর পাড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হচ্ছে জকিগঞ্জ পৌরসভা, আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা, গোয়ালিয়া বাজার, মদনাহাট, লক্ষ্মীবাজার, কালারবাজার, বালাগঞ্জবাজার, বৈরাগিবাজার, দুবাকবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার, মিরগঞ্জবাজার, রাকুয়ারবাজার, পাহাড়পুরহাট, রানিগঞ্জবাজার, চৌধুরীহাট ও কাঠখোলাহাট অবস্থিত
 
তথ্যসূত্র:
১. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ১৮০-১৮১, ISBN 984-70120-0436-4.


আরো পড়ুন:

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended