Friday, October 05, 2012

ভারতে বাঘ শিকার বেড়েছে, ২০১৩ সালে ৭৬টি বাঘ হত্যা





ভারতের বাঘ শিকারের ঘটনা অতীতের চেয়ে অনেক বেড়েছে। দেশটিতে গত সাত বছরের মধ্যে চলতি বছরে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বাঘ শিকার হয়েছে। এ দাবি করেছে ভারতের বন্যপ্রাণী রক্ষা সমাজ (ডাব্লিউপিএসআই)। গত ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ উত্তরাখণ্ডের করবেট বাঘ সংরক্ষণকেন্দ্রের বিজরানি এলাকা থেকে দুটি বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়। এ দুটি নিয়ে এ বছর ৩৯টি বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় ডাব্লিউপিএসআই। তবে নাগপুর অঞ্চলে ২০টি বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয় এবং সেটি সেগুলো ধরলে মোট সংখ্যা হয় ৫৯ টি। Wildlife Protection society of India'তথ্য অনুসারে ২০১৩-তে মোট বাঘ হত্যা ৭৬টি হতেপারে।  এছাড়া ২০০৯ সালে ১৮টি বাঘ মারা যায়। তারপর ২০১০ সালে ১২টি, ২০১১ সালে ৯টি, ২০১২ সালে ১৩টি বাঘ মারা যায়উল্লেখ্য ২০১০ সালের বাঘ শুমারি অনুযায়ী ভারতে এখন এক হাজার ৭০৬টি বাঘ রয়েছে। আর পশ্চিবঙ্গের সুন্দরবনে রয়েছে ১০২টি
ভারতে গত ১ অক্টোবর, ২০১২ থেকে জাতীয় বন্য প্রাণী সপ্তাহ শুরু হয়েছিল। তবে সেবারের কর্মসূচিতে আশঙ্কার ছায়া ফেলেছে সর্বশেষ পরিসংখ্যান। জাতীয় বন্য প্রাণী বোর্ডের হিসাবে ২০১২ সালের প্রথম ৯ মাসে ভারতে বাঘ মারা পড়েছে ৬৯টি আর গণ্ডার মরেছে ৩৯টি। এদের বেশির ভাগই মারা পড়েছে চোরা শিকারিদের হাতে কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে। সেদেশের জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ বা National Tiger Conservation Authority (NTCA) এ-খবর দিয়েছেগত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের ৪১টি বাঘ সংরক্ষিত অঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছেমোট বাঘগুলোর মধ্যে ৪১টি চোরা-শিকারীদের আক্রমণে এবং বাকি ২৮টি প্রাকৃতিকভাবে মারা গেছেবাঘ মৃত্যুর উচ্চহার ছিলো উত্তরখণ্ড, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ ও কর্ণাটক প্রদেশে
ভারতের জাতীয় বন্য প্রাণী বোর্ড জানিয়েছে, ২০১১ সালের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বাঘের মৃত্যু হয়েছে পাঁচ গুণ বেশি। ২০০১ সালের পর এটাই সবচেয়ে বেশি বাঘের মৃত্যুর ঘটনা। সে বছর ৭২টি বাঘ মারা পড়েছিল। বোর্ডের সদস্য কিশোর রিতে বলেন, ৬৯টি বাঘের মধ্যে ৪১টির মৃত্যু হয়েছে চোরা শিকারিদের হাতে।
২০১০ সালে জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ (এনটিসিএ) বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছিল। সে সময় ভারতে বাঘ ছিল এক হাজার ৭০৬টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল মহারাষ্ট্র ও উত্তরাখণ্ডে। তবে কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুতে বাঘ শিকারের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলেও এ সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে একটি মৃত বাঘের দাম কমপক্ষে ৩০ লাখ রুপি। নেপাল ও মিয়ানমার দিয়ে শিকারিরা এসব বাঘ পাচার করে।
২০১২ সালে বন্যা ও চোরা শিকারিদের জন্য মারাত্মক হুমকির মধ্যে ছিল আসামের কাজীরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের (কেএনপি) গণ্ডার। গত জুন ও সেপ্টেম্বরে সেখানে পানিতে ডুবে ২৮টি গণ্ডারের মৃত্যু হয়েছে। আর ১১টি মারা পড়েছে শিকারিদের হাতে। ২০১০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী কাজীরাঙ্গায় দুই হাজার ২৯০টি গণ্ডার ছিল।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কালোবাজারে গণ্ডারের শিংয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একেকটি শিং কমপক্ষে ৪০ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়। ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বন্যার পর তারা যে বিধিনিষেধ জারি করেছিল তা মানা হয়নি। বন্য প্রাণী রক্ষার জন্য আসাম রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করা সম্ভব তারা সবই করেছে। তবে তাদের লোকবলের অভাব রয়েছে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ইণ্ডিয়া জার্নাল, প্রথম আলো ও কালের কন্ঠের। 
অন্যদিকে বাংলাদেশের সুন্দরবনে ২০০১ সাল থেকে সাল থেকে ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত এক যুগে মোট ৩২টি বাঘ মারা গেছে। এর মধ্যে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় গণপিটুনিতে ১২টি এবং বাকিগুলো বার্ধক্যসহ অন্যান্য নানা কারণে মারা গেছে, খবর প্রথম আলোর। 
 
আরো পড়ুন:

১. পৃথিবীর মহাবিপন্ন প্রাণি বাংলার রাজকীয় বাঘ বাঁচবে না?

. নেপালে মহাবিপন্ন প্রজাতিগুলোর সংখ্যা বাড়ছে

No comments:

Post a Comment