Friday, November 16, 2012

মওলানা ভাসানী নিপীড়িত মানুষের সাম্রাজ্যবাদবিরোধি নেতা



মওলানা ভাসানীর উদ্ধৃতি


মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (১২ ডিসেম্বর, ১৮৮০ ১৭ নভেম্বর, ১৯৭৬) বিশ শতকের ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের নায়ক, যিনি জীবদ্দশায় ১৯৪৭-এ সৃষ্ট পাকিস্তান ও ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেনতিনি বাঙলার মানুষের কাছে 'মজলুম জননেতা' হিসাবে সমধিক পরিচিত১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতমস্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেনতিনি রাজনৈতিক জীবনের বেশীরভাগ সময় মাওবাদী মিউনিস্ট রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেনতাঁর অনুসারীদের অনেকে এজন্য তাঁকে "লাল মাওলানা" নামেও ডাকতেনতিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা এবং পঞ্চাশের দশকেই নিশ্চিত হয়েছিলেন যে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি অচল রাষ্ট্রকাঠামো১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের 'ওয়ালাকুমুসসালাম' বলে সর্বপ্রথম পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘণ্টা বাজিয়েছিলেন

সাম্রাজ্যবাদবিরোধি জাতীয়তাবাদি এই মহান নেতা ছিলেন আমাদের পথপ্রদর্শক ও শিক্ষক। তিনি শিখিয়েছেন, চরম দুঃসময়েও মেরুদণ্ড সোজা রেখে নিপীড়কদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাতে হয়। তিনি অহিংসাকে মানবের মুক্তির পথ হিসেবে গান্ধীর মতো গ্রহণ করেননি। তিনি সর্বহারা জনতার জন্য প্রবন্ধে বলেছেন,
অহিংসার বাণী ও অহিংস কৌশল মানুষের বিপ্লবী চেতনাকে ভোঁতা করে মাত্র_দেশের শতকরা পচানব্বই জন মানুষের চিরস্থায়ী কোনো কল্যাণ সাধন করতে পারে না।
তিনি জানতেন জনগণের সাথে প্রতারণা করার জন্য অহিংসার বুলি খুবি কার্যকর।

ভাসানী নির্বাচনকে কখনো গুরুত্বপূর্ণ মনে করেননি। নির্বাচনকেও তিনি প্রতারণার মাধ্যমই মনে করতেন। তিনি ভোটের আগে ভাত চাই প্রবন্ধে লিখেছেন
মওলানা ভাসানী
নির্বাচনের নামে দেশময় তোলপাড় করিয়া তুফান তুলিয়া যাহারা উপরের তলায় আরোহণ করে; তাহাদের নির্বাচন, চাতুরি ও অপকৌশল জনজীবনকে দুর্বিষহ করিয়া তোলে

এই পৃথিবীর নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা ভাসানীকে এককথায় বা দুকথায় বা দুটি-চারটি বই লিখে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। তিনি এক জীবনে একের পর এক করেছেন জমিদার-জোতদার_মহাজনদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন, আসামে লাইনপ্রথার বিরুদ্ধে লড়াই, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম, পাকিস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামি লিগ ও ন্যাশনাল আওয়ামি পার্টির প্রতিষ্ঠা, কৃষক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন গড়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন কৃষক-শ্রমিক আন্দোলনে, লড়াই করেছেন সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ, উপনিবেশবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, নয়া-সাম্রাজ্যবাদ প্রভৃতির বিরুদ্ধে, করেছেন পাকিস্তানি আধিপত্যবাদি অবস্থা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, করেছেন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, বিশ্বশান্তির জন্য করেছেন যথাসাধ্য চেষ্টা, রেখেছেন শিক্ষাবিস্তারে ভূমিকা, করেছেন আধিপত্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন, যুগপৎ করেছেন ধর্মান্ধতা ও ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন।

পিকিং-এর হাস পাতালের এক নার্স তাকে বলেছিলেন মওলানা, তুমি এশিয়ার সকল মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র। আমরা তোমাকে দেখতে পাওয়াকে পুণ্য মনে করি এই মহান নেতার প্রতি মাও সেতুং সবসময় শ্রদ্ধা পোষণ করতেনতাঁকে নিয়ে শামসুর রাহমানের লেখা সফেদ পাঞ্জাবি নামে এক বিখ্যাত কবিতা রয়েছে

No comments:

Post a Comment