Sunday, December 16, 2012

পরমাণু ও সাম্প্রদায়িক বোমা



কে দেয় কাকে আছাড়
কার ঘরে কটা উত্তরাধুনিক ষাঁড়?
মানুষ মরে গেলে এককালে ভুত হতো
অতীতেরা এখন টিভিতে অশ্লীল নড়ে চড়ে লড়ে
বিশাল সব মানুষেরা চলেছে পেছনের কুঁড়েঘরে
ওম অশান্তি, অতীতে কী শান্তি! 
জুতা খেয়ে খেয়ে
ছিলাম ছিলাম মরদ ছিলাম একদা আহ্লাদে,
কুদেশের পতনের শ্লোগান ধরে বহু নেতা মাল পোয়া মিষ্টি খেলো
হিন্দুস্তা হামারা, সারে জাঁহাসে সাচ্চা পাব্লিক,
তাই কমরেড, এই আর একটু ঠেলা দিন,
স্বদেশী সুখ বানাইতে আর একটু ঠেলা মারেন
এবং এনে তিনে জোড়া লাগিয়ে শিংহরি  স্বাধীন
করতে পারেন না নিজেরে
জনতা খুঁজছেন স্বাধীনতার মতো উকুন
দুদেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রির অজায়গায়,
নেতারা দিচ্ছেন স্বাধীনতার আশ্বাস,
ভাইসব, তোমরা হচ্ছো গিয়ে স্বাধীন মানুষ,
স্বাধীনভাবে ইয়ে নাচাও, পুঁজিবাদি পণ্য ঐশ্বর্যকে
কল্পনা করো কী সোন্দর,
নিজেকে ফকফকা ভেবে মারো লাফ,
(আহা হা কী লাফায় দেশের মানুষ)
বাঁচতে হলে অস্ত্র চাই, ঘাস খেয়ে হলেও
পরমাণু বোম চাই
(মারহাবা মারহাবা জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ)
পরমাণু বোম জিন্দাবাদ, সুগন্ধিবোমা জিন্দাবাদ
কিনতে হবে ফরাসি পারফিউম, ফরাসি জংগি বিমান;
মাগার শরীরেও জমেছে মেদ,
আহা হা হা কী সোন্দর নিতম্ব নর নারীর
কী সোন্দর উরু
কী সোন্দর রাবণ কী সোন্দর রাম কী সোন্দর পৃথ্বি
কী চমকার ঘোরি, কী চমকার!!
এক কবি বক্তৃতা কপচাচ্ছেন
কীসের এতো অমিল
সব্বাই ভালোবাসার ভান করে
সব দাসমালিকই প্রাচীনযুগে মহান ছিলো
টাকা হাতে নিয়ে খুঁজেছিলো সুখের হারেম 
সেইসব খোজা পাহারাদারের ইতিহাস লেখে যারা
তারা আকাশে চুমু খেতো এবং কপালে ছিলো আঘাতের চিহ্ন  
এসব পাহারাদারের মধ্য থেকে দুজন পালালো দেশ ছেড়ে
জংগলে আশ্রয় নিলো, খুন করলো হরিণ শাবক,
শালিক, বনমোরগ, এবং সন্তানের সংখ্যা বৃদ্ধির
কারণে খাদ্যাভাব বেড়ে গেলে তারা খেতে
শুরু করলো মাছ ভেড়া ছাগল;
এসবেও যখন খাদ্যাভাব মিটলো না
তারা ডাকাতি শুরু করলো পাশের গ্রামে
অস্ত্র আর অস্ত্রগুদাম তোইরি করলো,
এসবেও অভাব মিটলো না
বরং খাদ্যাভাবের সাথে নতুন অভাব যুক্ত হল
ফলে তারা গ্রামবাসিদের একত্রিত করলো
তাদেরকে ডাকাতি আর যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শি করলো
পাশের নদীর পারের দূরের গ্রামগুলোতে আক্রমণ করলো
হরিলুট শুরু করলো, এতেও একসময় অভাব পুরণ হবার
সম্ভাবনা তিরোহিত হলো না,
তারা দুটো দল পরস্পর শলা করে
সমস্ত যোদ্ধাবাহিনী ও অস্ত্রের মালিক হলো,
অন্যদেশ আক্রমণ শুরু করলো
লুট করলো শক্তিসম্পদ, খনিজ সম্পদ;
তারা বিলাসপণ্য ও ভোগ্যপণ্যে ডুব দিলো
এবং লাখে একজন অধিকার অধিকার সমতা স্বাধিনতা বলে চেঁচালো,
এবং শত শত সুবিধাবাদি বক্তব্য রাখছেন
রাজা আসছেন রাজা আসছেন
সবাই আকাশের দিকে হা করে তাকাও
াজা তোমাদের মুখে থুথু ফেলবেন
আর যাদের অসুখ করেছে তারা
রাজার নামে গোটা দেশ লিখে দাও,
সব ধন দৌলত তাঁর,
তোমাদের অসুখ সেরে যাবে

রাজা কহিলেন প্রকৃতি ডাকছে
সুবিধাবাদি জমিদার আমলারা রাজার পেছনে একটি কৌটা ধরলেন
রাজার দুর্গন্ধযুক্ত জিনিস ঐতিহাসিক সম্পদ
তাই কৌটায় সংরক্ষণ
রাজা আমলার গায়ে মুছলেন
আমলা জমিদাররা শ্লোগান ধরলো মারহাবা রাজা, জিন্দাবাদ রাজা। 

No comments:

Post a Comment