Monday, December 17, 2012

মাও সেতুঙের ছোটকথা




মাও সেতুং-এর উদ্ধৃতি

০১. বিষয়ীবাদ, সংকীর্ণতাবাদ ছকে বাঁধা পার্টিগত রচনা_ এই তিনটিই মার্কসবাদবিরোধি এবং এইগুলি শ্রমিকশ্রেণির নয়, শোষকশ্রেণিসমুহেরই স্বার্থসাধন করে। ছকে বাধা পার্টিগত রচনার বিরোধিতা করুন; ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২;
০২. নির্ভুল সর্বদাই ভুলের সঙ্গে সংগ্রাম করে বিকশিত হয়। সত্য, মঙ্গল সুন্দর সব সময়ই মিথ্যা, অমঙ্গল কুৎসিতের সঙ্গে তুলনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়, এবং সেগুলোর সঙ্গে সংগ্রাম করে প্রসার লাভ করে। মানবসমাজ যখনই কোনো অসত্যকে নাকচ করে দিয়ে কোনো একটা সত্যকে স্বীকার করে নেয় তখনই নতুন সত্য আবার নতুন মিথ্যার বিরুদ্ধে সংগ্রাম আরম্ভ করে। এই সংগ্রাম কোনোদিনই শেষ হবে না। জনগণের ভেতরকার দ্বন্দ্বের সঠিক মীমাংসার সমস্যা সম্পর্কে”, (২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭)
০৩. দুনিয়ার সব জিনিসের মধ্যে মানুষই সবচেয়ে মূল্যবান। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে যতদিন জনগণ থাকবেন ততদিন যে কোনো বিস্ময়কর ব্যাপার ঘটিয়ে দেয়া যাবে।... বিপ্লব সব কিছু পালটে দিতে পারে। ইতিহাসের ভাববাদি ধারণার দেউলিয়াপনা থেকে” (১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৯)
০৫. কমিউনিস্টরা ব্যক্তিগত সামরিক ক্ষমতা অর্জনের জন্য চেষ্টা করেন না ..., কিন্তু পার্টির জন্য সামরিক ক্ষমতা অর্জনের উদ্দেশ্যে ও জনগণের জন্য সামরিক ক্ষমতা অর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁদের চেষ্টা করা উচিত। ... সামরিক ক্ষমতার প্রশ্নে শিশুসুলভ ব্যাধি থাকলে নিশ্চয় কোনো কিছুই অর্জন করতে পারা যায় না। মেহনতি জনগণ, যাঁরা হাজার হাজার বছর ধরে প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেণির দ্বারা প্রবঞ্চিত ও ভীত-সন্ত্রস্ত, তাঁদের পক্ষে নিজেদের হাতে বন্দুক তুলে নেবার গুরুত্বটা উপলব্ধি করা খুবই কঠিন। ... প্রতিটি কমিউনিস্টকে অবশ্যই এ সত্য বুঝতে হবেঃ 'বন্দুকের নল থেকেই রাজনৈতিক ক্ষমতা বেরিয়ে আসে'। আমাদের নীতি হচ্ছে _ পার্টি বন্দুককে পরিচালনা করে, বন্দুককে কোনোমতেই পার্টির ওপর পরিচালনা করতে দেয়া হবে না।... ...সাম্রাজ্যবাদের যুগে শ্রেণিসংগ্রামের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে: শুধুমাত্র বন্দুকের শক্তিতেই শ্রমিকশ্রেণি ও শ্রমজীবী জনগণ সশস্ত্র বুর্জোয়াশ্রেণি ও জমিদারদের পরাজিত করতে পারে; এই অর্থে আমরা বলতে পারি যে, শুধুমাত্র বন্দুক দিয়েই সমগ্র দুনিয়ার রূপান্তর ঘটানো সম্ভব। যুদ্ধ বিলোপ করার আমরা সমর্থক, আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু কেবলমাত্র যুদ্ধের মাধ্যমেই যুদ্ধ বিলোপ করা যায় এবং বন্দুক থেকে মুক্তি পাবার জন্য বন্দুক ধারণ করা অবশ্য প্রয়োজন। যুদ্ধ ও রণনীতির সমস্যা’, ৬ নভেম্বর, ১৯৩৮।
০৬. মতান্ধতাবাদ সংশোধনবাদ উভয়ই মার্কসবাদের পরিপন্থী। মার্কসবাদ অবশ্যই এগিয়ে যাবে, অনুশীলনের বিকাশের সংগে সংগে অবশ্যই বিকাশ লাভ করবে, এটা অচল থাকতে পারে না। নিশ্চল অপরিবর্তিত থাকলে এটা হয়ে পড়বে প্রাণহীন। কিন্তু মার্কসবাদের মৌলিক নীতিকে অবশ্যই লঙ্ঘন করা চলবে না, অন্যথায়, ভুল করা হবে। আধিবিদ্যক দৃষ্টিকোণ দিয়ে মার্কসবাদকে দেখা এবং এটাকে অনড়-অটল কিছু একটা বলে ভাবাই হচ্ছে মতান্ধতাবাদ। প্রচারকার্য সম্পর্কে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণ, ১২ মার্চ, ১৯৫৭
০৭. গোলযোগের সৃষ্টি করা, ব্যর্থ হওয়া, আবার গোলযোগের সৃষ্টি করা, আবার ব্যর্থ হওয়া, সর্বনাশের আগ পর্যন্ত_ এটাই হচ্ছে জনগণের কার্যের প্রতি সাম্রাজ্যবাদিদের এবং বিশ্বের সমস্ত প্রতিক্রিয়াশীলদের যুক্তি এবং কোনো দিনই তারা এ যুক্তি লঙ্ঘন করবে নাএটাই হচ্ছে একটা মার্কসবাদী নিয়মযখন আমরা বলি, “সাম্রাজ্যবাদ খুবই হিংস্রতখন আমরা অর্থ করি যে, ওদের স্বভাব কখনো বদলাবে না, সাম্রাজ্যবাদিরা নিজদের ধ্বংস অবধি তাদের কসাইয়ের ছুরি কখনো ছাড়বে না, কখনো তারা বুদ্ধদেব হবে না
সংগ্রাম করা, ব্যর্থ হওয়া, আবার সংগ্রাম করা, আবার ব্যর্থ হওয়া, আবার সংগ্রাম করা, বিজয় অবধি_ এটাই হচ্ছে জনগণের যুক্তি, তাঁরাও কখনো এই যুক্তি লঙ্ঘন করবেন নাএটা আর একটা মার্কসবাদি নিয়মরাশিয়ার জনগণের বিপ্লব এই নিয়ম অনুসরণ করেছিল, চিনা জনগণের বিপ্লবও তাই করছেভ্রম ত্যাগ করো, সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হও’, ১৪ আগস্ট, ১৯৪৯

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended