Monday, February 25, 2013

ইছামতি-কালিন্দি নদী বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গের আন্তঃসীমান্ত নদী








ইছামতি-কালিন্দি নদীর প্রবাহ

ইছামতি নদী বা ইচ্ছামতি বা ইছামতি-কালিন্দি নদী (ইংরেজি: Ichamoti River) বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী নদীটি বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৩৪ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৩৭০ মিটার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক ইছামতি নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৭।
প্রবাহ: ইছামতি-কালিন্দি নদীটি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ালগাছি ইউনিয়নে প্রবহমান ভৈরব-কপোতাক্ষ নদ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। অতঃপর এই নদীর প্রবাহ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রবহমান রায়মঙ্গল নদীতে পতিত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়ন হয়ে নদীটি ভারতে প্রবেশ করেছে এবং জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে সীমান্তের সীমানা বরাবর প্রবাহিত হয়েছে। এর পর প্রবাহপথে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নে নদীটি পুনর্বার ভারতে প্রবেশ করে সে দেশে কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে পুনরায় যশোর জেলার শার্শা উপজেলার পুটখালী ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়েছে। নদীতে সারাবছর পানি প্রবাহ থাকে। এ নদী জোয়ারভাটার প্রভাবে প্রভাবিত এবং বন্যাপ্রবণ। বর্ষায় এর অববাহিকা বন্যায় প্লাবিত হয়।
অন্যান্য তথ্য: ইছামতি-কালিন্দি নদীটির প্রবাহের প্রকৃতি বারোমাসি এবং নদীটি বন্যাপ্রবণ। নদীটির অববাহিকায় বাংলাদেশ অংশে কোনো প্রকল্প নেই, নদীটিতে কোনো ব্যারাজ বা রেগুলেটর নেই এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ আছে ৭৫ কিলোমিটার। নদীটির তীরে দর্শনা পৌরসভা, দর্শনা হাট, পদোম বাজার এবং দেবহাটা অবস্থিত।[১]

তথ্যসূত্র:  
১. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ২০-২১, ISBN 984-70120-0436-4.


আরো পড়ুন:

. বাঙলার নদীগুলো মারা যায় যেসব কারণে

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা

৪. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ


Thursday, February 21, 2013

উত্তরবঙ্গ বিশ্লেষক লেখক ধনঞ্জয় রায়



লেখক ধনঞ্জয় রায় ১৯৫৩ সালের ১ জানুয়ারি বর্তমান বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার বড়বন্দরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিনাজপুরের গিরিজানাথ হাইস্কুল, সুন্দরী হাইস্কুল ও নৈহাটীর ঋষি বঙ্কিম কলেজে শিক্ষালাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি পৌন্ড্রবর্ধন ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি এবং পাক্ষিক কালিয়াগঞ্জ বার্তার সম্পাদক। তার লেখা ‘দিনাজপুর মালদহের মিশনারি যুগনামক বইটি আমি ৩ অক্টোবর ২০১২ সালে নীলখেত, ঢাকার ফুটপাত থেকে মাত্র ১০ টাকায় কিনেছিলাম। তার উপর আগ্রহ থেকেই তার বইয়ের তালিকাটি এখানে দেয়া হলো।  

১. দিনাজপুর মালদহের মিশনারি যুগ,
২. উত্তরবঙ্গের লোকজীবন চর্চা,
৩. উত্তরবঙ্গের ধর্ম ও সমাজ সংস্কার আন্দোলন,
৪. দেবদারু বনে আগুন,
৫. প্রান্তরে নৈশ বৈরাগ্য,
৬. বঙ্গদেশের উত্তরপ্রান্তীয় সাংস্কৃতিক ইতিহাসের ধারা,
৭. উত্তরবঙ্গের আধিয়ার বিদ্রোহ ও তেভাগা আন্দোলন (সম্পাদিত),
৮. তরাই-ডুয়ার্সের শ্রমিক-কৃষক বিদ্রোহ ও তেভাগা আন্দোলন (সম্পাদিত),  
৯. রংপুরের আধিয়ার বিদ্রোহ ও তেভাগা আন্দোলন (সম্পাদিত),
১০. তেভাগা আন্দোলন,
১১. উত্তরবঙ্গ (উনিশ ও বিশ শতক),
১২. বিশ শতকের দিনাজপুরঃ মন্বন্তর ও কৃষক আন্দোলন,
১৩. দিনাজপুর জেলার ইতিহাস।

গোষ্ঠিতন্ত্র কী এবং কেন প্রতিরোধ করতে হবে




Oligarchy বা গোষ্ঠিতন্ত্র হচ্ছে স্বল্প সংখ্যক লোকের ক্ষমতা এবং এটি শোষক রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম রূপ। গোষ্ঠিতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে মুষ্টিমেয় ধনিদের হাতে কেন্দ্রিভুত থাকে। ধনকুবের গোষ্ঠিতন্ত্র সাম্রাজ্যবাদি ব্যবস্থায় রাষ্ট্র যন্ত্রকে বশ করে, রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতি নিয়ন্ত্রন করে, দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করে।
পত্তির দিক দিয়ে গোষ্ঠিতন্ত্র গ্রিক শব্দ λιγαρχία (অলিগারখিয়া/ oligarkhía) থেকে এসেছে যেটি λίγος (অলিগস/olígos) থেকে জাত এবং এর অর্থ কতিপয়/"few"বং  ρχω (আর্কো/archo) শব্দের অর্থ শাসন করা বা নির্দেশ করা।
গোষ্ঠিতন্ত্র এমন ধরণের ক্ষমতা কাঠামোকে বোঝায় যাতে ক্ষমতা মাত্র কতিপয় ব্যক্তির উপর অর্পিত থাকে। এই ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতে পারে রাজকীয়তা, সম্পত্তি, পারিবারিক বন্ধন, শিক্ষা, কর্পোরেট বা সামরিক নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে।গোষ্ঠিতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রায়ই শাসিত হয় কতিপয় বিশিষ্ট পরিবারের দ্বারা যারা তাদের প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম রেখে যায়।
ঐতিহাসিক কাল থেকেই গোষ্ঠিতন্ত্রসমূহ হয়ে এসেছে স্বৈরাচারি এবং এটি নির্ভর করে জনতার দাসত্বের বা নম্রতার উপরে। এরিস্ততল প্রথম এই শব্দটিকে ব্যবহার করেছিলেন ধনিদের শাসনের অর্থে। আধুনিককালে গোষ্ঠিতন্ত্র বলতে সামরিক, সাম্রাজ্যবাদি, বা পরিবারতান্ত্রিক শাসনকে বোঝানো হয়।  

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের