Wednesday, February 27, 2013

জাতীয়তাবাদ কী এবং কেন ক্ষতিকর





জে. ভি. স্তালিন

Nationalism বা জাতীয়তাবাদ হলো মতবাদিক ও রাজনৈতিক নীতি যা অন্যান্য জাতির তুলনায় কোনো এক জাতির শ্রেষ্ঠত্ব, জাতিয় বিশেষত্ব, জাতিয় বিচ্ছিন্নতা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা সম্পর্কিত ভাবধারা ও ধারণাকে একত্রে প্রকাশ করে। আর বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদ হচ্ছে পুঁজিবাদি সমাজের সৃষ্ট, যা অনিবার্যভাবে বিভিন্ন জাতির মধ্যে বিরোধ, বর্ণবৈষম্য, জাতিয় ও পনিবেশিক নিপীড়নের জন্ম দেয়।[১]  

জাতীয়তাবাদ বলতে প্রধানত পুঁজিবাদি বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের স্বাতন্ত্র প্রকাশক আদর্শকে বুঝায় পুঁজিবাদের বিকাশের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদ বিকাশ লাভ করেছে জাতিয়তবাদের ব্যাপক প্রচারের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে অভাবি দরিদ্র মানুষগুলোকে তাদের অভাব-যন্ত্রণা ভুলিয়ে দেয়া। জাতিয়তাবাদি জুজুর মোহে দরিদ্র সর্বহারা শ্রমিক-কৃষক শোষকদের চিনতে ভুলে যায়, শত্রুদের চেহারা ভুলে যায়। জাতিয় চেতনার ডামাডোলে সর্বহারারা ভুলে যায় তাদের কারা তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নিপিড়ন ও শোষণ করছে। 

পুঁজিবাদি রাষ্ট্র জাতিয়তাবাদকে তার অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য মনে করে। পুঁজিবাদি রাষ্ট্রের শাসক শ্রেণি অর্থা পুঁজিপতি এবং তার সহযোগী শ্রেণি জাতিয়তাবাদের আওয়াজ তুলে একদিকে সমাজতন্ত্রের জন্য সংগ্রামী সর্বহারা শ্রেণিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে এবং অপরদিকে জাতিয় ঐক্য তৈরি করে অপর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেদের শক্তি সংহত করার এবং তাকে প্রয়োগ করার চেষ্টা করে।[২]  

সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামী সর্বহারা শ্রেণির জন্য জাতীয়তাবাদ কোনো সহায়ক আদর্শ নয়। কারণ জাতিয়তাবাদের অর্থ হচ্ছে বিভিন্ন রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে স্বাতন্ত্র্য এবং বৈরি বোধের সৃষ্টি করা। অপরদিকে সর্বহারা এবং সমাজতান্ত্রিক শক্তির জন্য দরকার আন্তর্জাতিক ঐক্য ও সংহতি অনেক সময়ে দেখা যায় যে, সাম্রাজ্যবাদী  রাষ্ট্রের শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে জাতিয়তাবোধ সৃষ্টি, মুক্তিলাভের পরে রাষ্ট্রীয় শক্তি দখলকারী পুঁজিবাদি ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি সর্বহারার নতুনতর সংগ্রামের সাফল্যকে প্রতিরোধ করার জন্য সেই জাতিয়তাবোধকে একটা ভাবগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। সংগ্রামি শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে জাতিয়তাবাদের মোহ সৃষ্টি করে তাকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে পৃথক করে রাখারও সে প্রয়াস পায়।[২] এর ফলে সমাজতান্ত্রিক ও কমিউনিস্টদের মধ্যে জাতিয়তাবাদ অভিমুখি বিচ্যুতি দেখা যায়। আর এই বিচ্যুতি সম্পর্কে স্তালিন বলেছেন,
জাতিয়তাবাদ অভিমুখি বিচ্যুতিটি হলো বুর্জোয়া শ্রেণির জাতিয়তাবাদি নীতির সাথে শ্রমিক শ্রেণির আন্তর্জাতিকতাবাদী নীতিকে মানানসই করা।[৩] 

পুঁজিবাদ যখন সাম্রাজ্যবাদি যুগে পদার্পণ  করে তখন জাতিয়তাবাদেরও দুটি রূপ প্রকাশ পায়। এর একটা রূপ হচ্ছে অপর জাতি ও রাষ্ট্রের আক্রমণকারী ও নিপীড়নকারী আগ্রাসি জাতিয়তাবাদ। জাতিয়তাবাদের অপর প্রকাশ হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদের শাসন ও শোষণ থেকে মুক্তিকামি জনগণের ঐক্য সৃষ্টিকারি সংগ্রামি মনোভাবাপন্ন জাতিয়তাবাদ

তথ্যসূত্রঃ
১. দেখুন, Sofia Kholod, What is What; A concise Dictionary of Social and Political Terms.
২. সরদার ফজলুল করিম, দর্শনকোষ; প্যাপিরাস; ঢাকা; পঞ্চম সংস্করণ; জুলাই, ২০০৬।
৩. জে. ভি. স্তালিন, সিপিএসিউ-এর সপ্তদশ কংগ্রেসের কেন্দ্রিয় কমিটির রিপোর্ট, জানুয়ারি, ২৬, ১৯৩৪।

Monday, February 25, 2013

ইছামতি-কালিন্দি নদী বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গের আন্তঃসীমান্ত নদী








ইছামতি-কালিন্দি নদীর প্রবাহ

ইছামতি নদী বা ইচ্ছামতি বা ইছামতি-কালিন্দি নদী (ইংরেজি: Ichamoti River) বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী নদীটি বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৩৪ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৩৭০ মিটার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক ইছামতি নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৭।
প্রবাহ: ইছামতি-কালিন্দি নদীটি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ালগাছি ইউনিয়নে প্রবহমান ভৈরব-কপোতাক্ষ নদ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। অতঃপর এই নদীর প্রবাহ সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রবহমান রায়মঙ্গল নদীতে পতিত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়ন হয়ে নদীটি ভারতে প্রবেশ করেছে এবং জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে সীমান্তের সীমানা বরাবর প্রবাহিত হয়েছে। এর পর প্রবাহপথে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নে নদীটি পুনর্বার ভারতে প্রবেশ করে সে দেশে কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে পুনরায় যশোর জেলার শার্শা উপজেলার পুটখালী ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়েছে। নদীতে সারাবছর পানি প্রবাহ থাকে। এ নদী জোয়ারভাটার প্রভাবে প্রভাবিত এবং বন্যাপ্রবণ। বর্ষায় এর অববাহিকা বন্যায় প্লাবিত হয়।
অন্যান্য তথ্য: ইছামতি-কালিন্দি নদীটির প্রবাহের প্রকৃতি বারোমাসি এবং নদীটি বন্যাপ্রবণ। নদীটির অববাহিকায় বাংলাদেশ অংশে কোনো প্রকল্প নেই, নদীটিতে কোনো ব্যারাজ বা রেগুলেটর নেই এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ আছে ৭৫ কিলোমিটার। নদীটির তীরে দর্শনা পৌরসভা, দর্শনা হাট, পদোম বাজার এবং দেবহাটা অবস্থিত।[১]

তথ্যসূত্র:  
১. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, পৃষ্ঠা ২০-২১, ISBN 984-70120-0436-4.


আরো পড়ুন:

. বাঙলার নদীগুলো মারা যায় যেসব কারণে

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা

৪. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ