Friday, May 17, 2013

নৈতিকতার স্বরূপ



মানুষ নৈতিকতার আবছায়া নিয়ে থাকে না; মানুষ চরিত্র ও কর্ম দিয়ে তার নৈতিকতাকে মূর্ত করে তোলে। তার কর্ম শুধু তার নিজের জন্য কর্ম নয়; তার কর্ম অজস্র অগণন মানুষের জন্য যাদের জীবন ব্যক্তিগত মালিকানা পুঁজিবাদী সমাজ উদ্ভবের পর টাকা ও মুনাফার চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে মরতে বসেছে। তাই একজন নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষের কর্ম মানেই সেই মানুষগুলোর জন্য কর্ম যারা এখনো পূর্ণাঙ্গরূপে মানুষ হতে পারেনি অভাবের যন্ত্রণায়

কোন মানুষটিকে আমরা বলবো এক পুর্ণাঙ্গ নৈতিকতাবোধসম্পন্ন মানুষ? যে মানুষটি এই গলিত সমাজের বুকে দাঁড়িয়ে এমন একটি সমাজ নির্মাণ করার জন্য জীবনব্যাপী সাধনা করেন যেখানে অভাব ও মানবাত্মার পঙ্গুত্ব থাকবে না। মানুষ প্রাণী হিসেবে তার যুথবদ্ধতা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও যৌথ গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলবে না।

যে মানুষটি নতুন সমাজের জন্য নতুন নৈতিকতাকে মেনে না নিয়ে পুরোনো নৈতিকতা ও পুরোনো নিয়ম জোরপূর্বক অন্যের উপর চাপাতে চান, তাকে আমরা অনৈতিক না বললেও পশ্চাদপদ নৈতিক ধারণাসম্পন্ন বলতে পারি। আমরা মানি যুগের হাওয়া বদলে দেয় অনেক কিছুকে। নতুন কালের নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি আবির্ভাবের ফলে মানুষের চিন্তা চেতনা ও চিন্তাধারা পাল্টে যায়। আর তখনই পুরোনো নৈতিকতা দিয়ে আর চলে না।

ধর্মের সংগে নৈতিকতার এক বিরোধ বহুদিন ধরেই চলে আসছে। এ-সম্পর্কে আইনস্টাইনের একটি উক্তি কেউ কেউ স্মরণ করতে পারেন; তিনি বলেছেন,  
মানুষের নৈতিকতাজন্য তো ধর্মের কোনো দরকারই নেই, দরকার মানবিকতা, সহমর্মিতা, শিক্ষা আর সামাজিকতারমানুষ যদি পরকালের শাস্তির কথা ভেবে নৈতিক হয়, সেই নৈতিকতার মধ্যে মহত্ত্ব কোথায় থাকে?”[১]


তথ্যসূত্রঃ
১. Albert Einstein, Religion and Science, New York Times Magazine, 9 November 1930

No comments:

Post a Comment