Friday, May 03, 2013

উত্তরা সিনেমার তিনটি গান





উত্তরা সিনেমার গান, ফুল গাছটি লাগইছিলাম
বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত পরিচালিত উত্তরা সিনেমার তিনটি গানই, সাঁওতালী লোকগীতি প্রভাবিত লাল মাটির দেশ’ (বাঁকুড়া, বর্ধমান, বীরভূম) -এর গানগানগুলোর স্বাতন্ত্র্য হচ্ছে, তীব্র অন্তর্নিহিত হাহাকারঅভিজি বসুর অনন্য গায়কীতে নিম্নে উল্লেখিত গান দুটোই প্রাণ পেয়েছেতৃতীয় গানটি গেয়েছেন প্রশান্ত চ্যাটার্জিতিনটি গানের কথা ও সুরই ঐ অঞ্চলের মাটি থেকে উসারিতপ্রথম দুটি গান লিঙ্কে গিয়ে ডাউনলোড করতে পারবেন
১. অভিজি বসু - ফুল গাছটি লাগইছিলাম

ফুলগাছটি লাগই ছিলাম ধুলা মাটি দিয়া রে,
সে ফুল ফুটিয়া রইলো অগম দইরার মাঝারে

গাছে আইল বড় আম, ছ আনা সাত আনা দাম
বড় আম বড় মিঠা লাগে রে,
বাঁকুড়া বাজারে লাজ লাগে রে

আম গাছে আম নাই, কুটা কেন লাড় রে
তুমার দেশে আমি নাই আঁখি কেন ঠার রে ?

কদমতলে মোহনচূড়া, দাঁড়ায় আছে নবীন ছুড়া
ওরে ছুড়া মোদের পাড়ায় যাবি লো
গাঁথে দিব বিনি সুতোর মালা

সরপে সরপে যাব বাছে বাছে টুপা লিব
সেই টুপায় চালভাজা খাব রে,
সফল জনম আর কি পাব ?

ফুলগাছটি লাগই ছিলাম ধুলা মাটি দিয়া রে,
সে ফুল ফুটিয়া রইলো অগম দইরার মাঝারে।।


গানটির উত্তরা সিনেমার দৃশ্যায়ন দেখতে ইউটিউবে যান এই লিংকে   

২. অভিজি বসু - কালো জলে

কালো জলে কুঁচলাতলে ডুবলো সনাতন
আজ সাড়া না, কাল সাড়া না, পাই যে দরশন
নদীধারে চাষে বধু মিছাই করো আশ
ঝিরিহিরি বাঁকা লদী বইছে বারো মাস

চিংড়ি মাছের ভিতর করা, তায় ঢালেছি ঘী,
নিজের হাতে ভাব ছাড়েছি ভাবলে হবে কি?
চালর চুলা লম্বা কোঁচা কুলি কুলি যায়
দেখি শ্যামের বিবেচনা কার ঘরে শ্যাম আয়?

মেদিনীপুরের আয়না চিরণ বাঁকুড়ার ওই ফিতা
যতন করে বাঁধলি মাথা, তাও যে বাঁকা সিঁতা
পেছ পারিয়া রাজকুমারী গলায় চন্দ্রহার
দিনে দিনে বাড়ছে তোমার চুলেরই বাহার

কলি কলি ফুল ফুলেছে লীল কালো আর সাদা
কোন ফুলেতে কিষ্ট আছেন কোন ফুলেতে রাধা?

কালো জলে কুঁচলাতলে ডুবলো সনাতন
আজ সাড়া না, কাল সাড়া না, পাই যে দরশন
নদীধারে চাষে বধু মিছাই করো আশ
ঝিরিহিরি বাঁকা লদী বইছে বারো মাস

গানটির উত্তরা সিনেমার দৃশ্যায়ন দেখতে ইউটিউবে যান এই লিংকে

৩. এক দিনকার হলুদ বাটো

এক দিনকার হলুদ বাটো তিন দিনকার বাসী,
চৌদ্দলং চৌদ্দলং ফুরায় গেল হে, গঙ্গাজল কী হলুদ মাখামাখি,
কি এই দেখাদেখি কী হলুদ মাখামাখি ২

রবিধানের কাশি, তাই ঘুরে দেখতে আসি,
ও আমার চাঁদফুলকে মইলে দিবি হে,
গঙ্গাজল কী বড়ই সুখে আসি,
ছেমড়ানিলো ওলো তুই যাইস না খালের ধারে... ... ,  

2 comments:

  1. এই গানের একটা ব্যখ্যা দেওয়ার মাতব্বরী করলাম। অন্যকেউ মাতব্বরী করলে কৃতজ্ঞ থাকব।

    এই গানের মধ্যমে কোন এক নদীর পারের জনগোষ্ঠির জীবন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সনাতন নামের কোন এক জেলে নদীতে ডুবে মারা গেছে। গায়ক তার বিধাব স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলছেন- নদীর কাল জল সনাতনকে ডুবিয়ে মারলেও তার স্মৃতি এখনও মুছে যায়নি। এই নদী সর্বগ্রাসী। তার তীরে সুখে বসবাস করার কল্পনা দুরাশা মাত্র। গায়ক বলেছেন চিংড়ি মাছে ঘী দেওয়া যেমন নিরর্থক তেমনি কৃষ্ণের ভাব হাত ছাড়া করে শুধুমাত্র সনাতনের প্রেমে মজে থেকে বধু ভুল করেছে। যাই হোক ঝাকড়া চুল, লম্বা কাছা ওয়ালা কৃষ্ণ তকে কৃপা করে কি সা। বধু মেদিনীপুরের আয়না-চিড়নি ও বাকুড়ার ফিতা দিয়ে যত্ন করে চুল বাধলেও তার সিঁথী সোজা করতে পরেনি। তার কপালের সিঁদুর ধরে রাখতে পারে নাই, সনাতনকে হারিয়েছে।

    যাই হোক, এত কিছুর পরেও মানুষের জীবন থেমে থাকে না। দুঃখের পরে সুখ আবার উঁকি দেয়, মানুষকে আবার আশার পথ দেখায়। বধুর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। গলায় চন্দ্রহার পরে তাকে রাজকুমারীর মত লাগছে। তার চুলের সৌন্দর্য তথা চেহারায় এক দীপ্তিময় লাবণ্য ফিরে এসেছে। সে যেন আবার নতুন কারও প্রেমে পরেছে। বনের বিভিন্ন ধরনের ফুলে কোনটাতে কৃষ্ণ আর কোনটাতে রাধা বসে সে টা যেমন বুঝা যায় না, তেমনি মানষের মন কখন যে কার প্রেমে পরে তাও বুঝা যায় না। বধু আবার তার প্রেমময় জীবন ফিরে পেয়েছে। যে নদীর জলে সে তার সনাতনকে হারিয়েছে সে নদীর তীরেই আবার সনাতনকে ফিরে পেয়েছে। সনাতনেরা বার বার ফিরে আসে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. মাকশুম7/10/2013 4:03 PM

      প্রথম অংশে একমত। দ্বিতীয় অংশে দ্বিমত পোষণ করছি। আমার মনে হয়েছে, বধু আজো সেজে অপেক্ষা করে আছে সেই সনাতন এর জন্য। গানের সমাপ্তি তারই ইংগিত করে।

      Delete