Friday, June 14, 2013

গর্ততত্ত্ব ও সংগ্রাম




১৩. 
বাঙলার বিচিত্ মানুষের কষ্টকর দিনগুলো আর অট্টহাসির
রাতগুলো উচ্ছল আনন্দে কাটছিল
কিশোর বয়সে প্রথম নাটকে অভিনয়
বাঙলা ভাগ, মাকে দ্বিখন্ডিত করা,
যৌবনে অভিনয় বাঙলা ভাগ,
সম্পত্তিকে খন্ডিত করা,
হরিলুট আর এলো ভোট_ যুক্তফ্রন্ট
অর্থহীন নিস্ব মানুষ একটি গাছ পেল  
যা দাসযুগে সম্পত্তির বাতাসে
লাফাতে লাফাতে সামন্তযুগ অতিক্রম করে
ফ্যাসিযুগের সংগে বাতাস খেলো সমুদ্র তীরে,
কিন্তু জানালো মহাশক্তিধরটি
এক সময় পৃথিবীর সবাই অমার পদতলে
তখন মহাসুখ পাবে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের রাজারা
তাদের হাজার হাজার হারেম বংশধরের
শত শত কন্যা আর পুত্র সমেত
রাজা মারা গেলে তার জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রিয় শোক .........  

ড্রয়িংরুমে আভিজাত্যের প্রতীক রয়েল বেংগ টাইগারের মুখোশ
যদিও বাঘগুলো বিলুপ্তপ্রায় রাজার মতো
এসে গেছে টাকার যুগ, বিদেশি ডলারের যুগ
বিদেশি গাছের ্যবসা রমরমা
তাই দেশি হরিতকি গাব কড়ইয়ের বদলে
এসে গেছে ইপিল ইপিল, ইউক্যালিপটাস, রেইনট্রি ইত্যাকার সাম্রাজ্যবাদি গাছ
হারালো শালিক দোয়েল মাছরাঙা
এলো বিদেশি কুকুর, ডগ স্কোয়াড
আর স্বদেশি ঠাকুরের অবস্থা ভালো নয়,  
ভুশি পেয়েই খুশি দেশি দালালেরা
তাদের মাঝে ইয়েস , জ্বি স্যার, জ্বি হুযুর;
এক টুকরো তেনা কেনা হবে তাই কমিটি গঠন চাই
অজস্র কমিটি;_ বিক্রেতা কমিটি, ক্রেতা কমিটি,
জনসমীক্ষা তদন্ত কমিটি এবং
সম্ভাব্যতা যাচাই সংক্রান্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সংসদী কমিটি;
পুঁজিপতি কহিলেন বুঝেছ বাবু সবই চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্র
তাই তেলের আর জলের দাম বেড়ে যাচ্ছে
অথচ আমরা চেষ্টা করছি এশিয়া আর আফ্রিকাকে নগর বানাতে,
শুধু এই সমাজতন্ত্রি চরমপন্থিদের একটু সামলান,
গোটা মহাদেশ এশিয়া আফ্রিকাকে ফকফকা করে দেবো
আর আমরা বুঝলাম
সমাজতন্ত্রিরা জ্বালাতন না করলেই
ইয়াকিরা গোটা দরিদ্র বিশ্বকে ঝলমল আলোয় মুড়তো,
কারন তারা টেন্ডার পেয়েছে গনতন্ত্র রপ্তানির
 
শুধু একটি কপিকল বাতাসে নড়ছে
আর হাওয়া নাড়ু খাচ্ছে শ্রমিক-কৃষক
লাগলো গৃহযুদ্ধ লাগাও গৃহযুদ্ধ
সময়টা ১৮৮৬; আফ্রিকাকে টুকরো করা হলো বার্লিনে
অক্ষাংশ আর দ্রাঘিমাংশে;
সময়টা ১৯৯০-৯১ অনেক রাষ্ট্র ভেঙে পড়লো,
ভালোবাসাই সকল ক্ষমতার , সূর্য নয়
এবং একদা মানুষই সূর্য তৈরি করেছিলো
এবং ভাষা জগতে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালি
এবং সেই ভাষার গাঁথুনির মতো তোমার পুরুট ভালোবাসা
সেই প্রেমও পাল্টে গেলো,
দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধারা পালালো কোথায়,
বেজন্মা আর কাউয়ারা নদী খাল বিল অরণ্য দখল করলো,
ক্ষমতার বশংবদ শান্তিরক্ষী বাহিনী দারুন বেতন পাচ্ছে,
আর কোকাকোলা খাচ্ছে, জিলেট রেজারে গালের বাল কাটছে
বোমা স্টেনগান হাতে নিয়ে গোত্রযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধাদের
উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ছে,
তারা লুটতরাজে সাহায্য করছে বহুজাতিক কোম্পানির;
সোন রূপা হীরা কয়লা তেল কাঁধে করে পাঠাচ্ছে বিশ্ব বানিজ্য কেন্দ্রে,
কোন দেশের সম্পদে ফুলে ফাঁপে
ইউরো আমিরিকার শেয়ার বাজার জাতী বাজেট,
অথচ এই ইউরোপ একদা প্রগতির পথে হাঁটত
আর এখন আগ্রাসনের স্বার্থে একত্রিত একক মুদ্রা ইউরো,
গরিবের সুন্দরি মেয়ে নিয়ে এলো স্বর্গ সুখে,
তার চেয়ে যদি জিজ্ঞেস করো পৃথিবীটা কীসের মতো
নিশ্চিন্তে বলতে পারি পৃথিবীটা গর্তের মতো
তাতে শক্তিহীনকে ফেলে দাও
গর্তে সে বেঁচে রবে
নামতার মতো করে শেখাও
গর্তই পরম ধর্ম, গর্তই স্বর্গ
তারা গর্তে খুশিতে বাকবাকুম নাচবে
তারা কী ভেবে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখে
অফুরন্ত শক্তিতে তারা টিকে থাকে;  
জীবনের শক্তিই সবচেয়ে বেশি,
যদিও ব্যবসা বা অসুখে মাথাগুলো নিশ্চিহ্ন,
কী, একই মানুষ প্রতিদিন;  

সেই মানুষ আসছে যারা ভাইরাসের মতো স্থির নয়
যারা গ্রাম শহর নগরে হেঁটে চলে কান্তিহী
তারা ফুলের সুঘ্রানে জাগে
তারা মিত্র এবং বিপ্লবের সর্ম্পক বোঝার চেষ্টা করে
তারা কেলেংকারি দুষ্কৃতিকারির নিশ্বাসে কষ্ট পায়,
তারা নিজের হাতগুলো চুলকাতে পছন্দ করে
তারা লেখার সময় ভুল বানানে লিখতে পছন্দ করে
তারা সব কিছুকে শ্রমিকের মনের মতো করে করতে চায়
তারা একদা মানুষ ছিল আর এখন শ্রমিক
তারা ভাতের থালাকে মাথার বালিশ বানিয়ে ঘুমায়
তারা রাত দুটায় মৃদুকণ্ঠে স্টেশনে গান গায়
তারা হঠাত রাতে রাস্তার পাশে প্রস্রাব করে,
আবার গলা মেলায় গানে, হাই তোলে, ঢোক গেলে, মিনিট দশেক ঝিমায়,
মিনিট দুয়েক সংসার সন্তানের কথা ভাবে,
মনে পড়ে ছোটোবেলার বনজাম গাছটির কথা
বান্ধবী আর বন্ধুদের কথা, গ্রামের কথা;_  
গ্রাম এখন পৌরসভা, এখন সাঁই সাঁই করে মোটর চলে
পাশের রাস্তা দিয়ে অথচ ১৯৩২ সালে ওই গাঁয়ে
গাঁধি চরকার দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছেন নেঙটি পরে ভঙ ধরে;  
পাবলিক চেঁচাচ্ছে ভণ্ডবাবা জিন্দাবাদ মারহাবা জিন্দাবাদ,
ওই গাঁ হতেই নেহেরু নির্দেশ দিলো নেতাজিকে মেরে ফেলবার
ওই গাঁয়েই মুজিব হেঁটেছেন প্রথমে ডানদিকে পরে বামদিকে
এবং শেষে উষ্টা খেয়ে পড়ে গেছেন রাস্তায়
ধীরে ধীরে বছরে বছরে তাজউদ্দীন আর জনগন
আর সিরাজ সিকদার আর তাহেরদের বিপদ বাড়লো আর
আয়োডিন অভাবি মঙার মানুষেরা ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকলো
যেনো প্রাচীনকালের পাথুরে মুর্তি সব, ঠোঁট নাড়ায় আর বলে
হে সাম্রাজ্যপতি, হে শাহেন শাহর বংশধরগন
কার্তিক মাসে কিছু উচ্ছিষ্টের ব্যবস্থা করো আমাদের জন্য,
হামরা বাঁচি থাকবার চাই
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় অভাবে স্বভাবে তারা বড়ই সরল
আর েঁচে থাকতে পারলেই ধন্য,
যদিও পুঁজিবাদি বিশ্বের মধ্যবিত্ত মানুষেরা ফার্মের গরুর মতো
মহাসুখে মহাখুশি, হো হো করে হাসে বেশি,
শিহরিত পুলকিত তারা জটিলতা এড়িয়ে
আরামদায়ক শীততাপনিয়ন্ত্রিত ঘরের সোফায় ঘুমায়,  
অনুশীলন বা যুগান্তর দলের নাম তারা কোনোদিন শুনবে না
আমেরিকা জিন্দাবাদ বলে নাচবে আর শুনবে
গান মেহেদি লাগাকে রাখ না
তাদের পিতামহ প্রপিতামহ নতুন কলের ধোঁয়ায় মিলিয়ে যাবে
এইসব হেনেরুর বংশধরেরা
নদী তীরে হাওয়া খেতে যাবে আর
দিল্লির হাওয়া নাড়ু নিজের দখলে রাখবে যে কোনো মূল্যে,
আহা হা কী নরম নাড়ু,
চরম আনন্দে তারা নাড়ুভোগে মত্ত থাকবে
কমলার মতো ত্বক ছড়িয়ে তারা হাওয়া নাড়ু কোয়া খাবে,
আর দুচারজন নামহী মানুষ
শ্রেণি আর শ্রোণির সর্ম্পক বোঝাতে চেষ্টা করে,
হাতে অস্ত্র থাকুক আর নাই থাকুক
কয়েকটি কিশোর শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টায়
আত্মত্যাগ স্বাধীনতাকে সমার্থক করে,
টাকাকে শক্তির মনে না করে তারা কবিতার গে
রাজনীতির মিল অমিল খোঁজে;
কার শক্তি বেশি বুর্জোয়ার না প্রলেতারিয়েতের
স্বাধীনতা আগে না ভোট আগে,
কচ্ছপ আগে না খরগোশ আগে না মুরগি আগে না প্রধানমন্ত্রি আগে
ইত্যাদি তর্ক শুরু হয়,
শুধু ভালো মন্দ মিলিয়ে ইতিহাসের িক্ষা,
নাকি সংগ্রাম সমঝোতার;
লোকটা ভালো তো, শিশুর -প্রশ্নের অর্থহীন উত্তর দেবার কী প্রয়োজন,
সেই যে আঠারো শতকেই ভালো লোকেরা হারালো, আর এলো না,
কারন তার পরে আর ভাল মন্দের ইতিহাস নেই
এরপর ইতিহাস সুবিধাবাদ সংগ্রামের
কারন ততোদিনে পাদনের নতুন উপকরন এসে েছে
এসেছে নতুন পথ

No comments:

Post a Comment