Thursday, June 06, 2013

জনসম্পদের স্বপদে দাঁড়ানো


৬. 
এলো বানী, অমৃতবচন
মানব সম্পদে রুপান্তর করুন
মানব হবে সম্পদ
মানুষ হবে সম্পত্তি
জবাই করো মানুষ
কিডনি, লিভার, হার্ট, কর্নিয়া করো রপ্তানি
মানব হইল সম্পদ, কী হে,

মানুষ হইল টাকা তাই শহর ঢাকা
টাকায় ঢাকা ঢাকা, ঢাকা আর টাকা

হায়রে মানবজমিন মানব সম্পদ
এমন সোনার জমিন দুইখানা পদ
এমন সোনার শরীর জ্যান্ত আপদ
বিশাল মানবজমিন মানবসম্পদ,
সুষ্ঠু ব্যবহার করো অনুভুতি আর অনুভব
শিল্প সহজে ফোটে মানবজমিনে
সাঁতার জিতেছো তোমরা পুরস্কার প্রথম
ডুব সাঁতারে আমার ভালোবাসা,
কীসে পা বাড়াও, পা কেটে যাবে
স্বৈরতান্তিক সাঁতার আর গনতান্ত্রিক পা,
আমি মোমবাতির আলোয় দেখি পাড়াময় নাচ মুখোশ
ঘর সঙসার ধর্ম
এই আমার দরিদ্র গ্রাম, দরিদ্র শহর
মানুষ ভালোবাসে আমার শহর
তারা নৃত্যে ছন্দে ভালোবাসে গোপন শহর আমার ছোট প্রেমিকা
দুতীরের শহরের মানুষের যোগাযোগ নদী গঙ্গাবুড়ি

আমার মানুষ পরস্পর প্রতিদ্বন্দি আর সহযোগি
আর সাংগঠনিকভাবে রঙ-তামাশা-ঠাট্টায়
পোড়াবাড়িকে রঙিন করে
ইতিহাস হাহাকারের ভার্স্কয বানায় আগাছা কেটে
এবং ঐতিহ্যগত বাঙালি আঞ্চলিকতার পিরামিড গড়ে নিজেদের কপালে,
সার্থকতা খোঁজে শুধু সন্তানের মাঝে
ধিক্কার দেয় কিন্তু কর্মি হতে ভীত
স্বাধীনতা চায়
কিন্তু দায়িত্ব নেবে না,
আমার মতো কতিপয় বেয়াড়া তরুণ  
শুধু বাঙালির ধুধু হৃদয়ে ঝড় বৃষ্টি বন্যার কলরোল আনতে ব্যস্ত
রাজশাহী ঢাকা শহরে আজ বহাওয়া বড়ই অস্থির,
আজকের আরো বিশেষ বিশেষ খবর
গ্রামে গ্রামে আলোড়ন উঠেছে,
শহরে নতুন পতাকা উড়ছে,
পুরোনো পতাকা নামছে,
নড়ছে মায়ের আঙুল, পায়ের পাতা, জামার হাতা;_

আমি তুমি তোমরা বাঙলার পথে পথে ঘুরলাম
মানুষ খুঁজলাম
সেই মানুষ যারা একদা সঙগ্রামি
এবং এখনো এই ুই হাজার ছয় কী সাত কী দশ সালেও
ভেঙে যাওয়া কন্ঠে প্রতিবাদের গান গায় 
বসে যাওয়া গলায় শোনায় মানুষের কবিতা
সেইসব মানুষের যারা অসুস্থ রুগ্ন
ক্লান্ত, পীড়িত, ব্যথিত, ক্ষুধার্ত অথচ
চেতনায় বলিয়ান, কথার সাবলিল স্বপ্নে পরিপুর্ন
যারা রাস্তার বিষাক্ত বিষ্ঠাটুকু রিয়ে লড়তে জানে,
যারা জঙ্গলের আগাছা সরিয়ে কাঁঠালচাপা, কদম মহুয়ার বাগান বানায়

তারা আমার কালের স্বৈররাষ্ট্রনীতিকে পাল্টানো মানুষ
তারা অলসতা রান্নাঘর ছেড়ে এসেছে
তোমার উঠানে ভোরে ডেকেছে এসো বন্ধু এসো
গল্প শোনো বাজারের খুদে বিক্রেতাটির
যে বাজারে সবজি ফল বেচে বা কেনে
সন্ধায় আলো জ্বালায়
আশা করে আলো পাবে
আশায় থাকে আলোকিত হবে তার সন্তানেরা
হাগবে মুতবে টয়লেটে, ঝরনায় করবে গোসল, পত্রিকা পড়বে,
টিভি দেখবে, কবিতা আবৃত্তি করবে, সিনেমা দেখবে
কিন্তু সন্তানেরা পিতার স্বপ্নের পাছা মেরে
মধ্যযুগের ধর্মীয় ছড়া কাটে, মিলিটারি সাজে
সময়টা ফাঁকিস্তানী আর পরবর্তী কাল
দেখছস কেমন তাগড়া জোয়ান মর্দ
পাবলিক ঠিক রাখতে হলে উর্দি সৈন্য আর পুরুষাঙ্গ দরকার
মগজে গোবর কিংবা দাসত্ব যাই থাকুক
হ্যাঁ স্যার, ইয়েস স্যার, জি স্যার, স্যার, স্যার,
ভৃত্য চেয়ার হতে দাঁড়িয়ে মুখে ফেনা তুলছেন
্যাঁ স্যার ইয়েস স্যার,
মহাজন সমীপে ভৃত্যের দাসত্ব
হায়রে এশিয়া ভারত বাঙলা
সাধারন উপমানুষ ইন্দোএশিয়ার
শাসিত মানুষে পুর্ন গোলক
সাড়ে তিনশো কোটি ভৃত্য,
কেনা ভৃত্য নয় শক্তি দিয়ে বশ করা
চিন্তাকে পাল্টিয়ে উপনিবেশবাদ আর সাম্রাজ্যবাদ দিয়ে
চেতনাকে গুড়িয়ে আচরন পাল্টিয়ে
সেবাদাস সেবাদাসি বানিয়ে;

হাঁতির দাঁত প্যারিসে
জোসেফ কনরাড তোমার ইউরো আমিরিকা
আইভরি কোস্ট হতে হাতিই ধ্বংস করে দিলে, শুধু নামটুকু রেখে

কার রক্তে গড়া এশিয়া আফ্রিকা লাতিন আমেরিকা
হো চি মিন, ফ্রানজ ফানঁ;
দুর্বলতা শক্তিমত্তা, ঢোলের শব্দ, বাজে কবিতা
বাস্তব ছবি;
দেখুন ঘটমান গ্যাসচেম্বার পুরো বাঙলায়
ট্যাবলেট, ক্যাপসুল বা ভেষজ গাছে কী শেষ রক্ষা হয়
প্রত্যেকের ঘরে ঘরে কঙ্কাল মাতৃমুর্তি আর ব্যক্তিবাদ;
আঁকো দুর্বলতা, খোঁজো শক্তিমত্তা, শোনো ঢোলের শব্দ,
লেখো না বাজে কবিতা, বানাও বাস্তব ছবি
একথা কহিছেন আগামীকালের কবি
এসব ভেবেছেন ভবিষ্যতের কবি

No comments:

Post a Comment