Friday, June 07, 2013

মৃত্যুকুপের মাঝে বাঁচার ধুর্ততা




১২.

তারপর বাঙলাদেশের গ্রামে গ্রামে এলো
আঠার বছরের কিশোর, জগতের বোঝা কাঁধে নেবে
আর সুবিধাবাদিরা
হ্যাচারি খুলছে অনেক, প্রতিবাদ বামপন্থা হ্যাচারি
প্রতিবাদে আয় প্রচুর
বৈঠকখানায় চর্চা করে ধান্দামুলক বস্তুবাদ
কতো টাকা আয় হলো গোপনে ডলার ব্যবসা করে
কতো টাকা আয় হলো শেয়ার লগ্নি করে টাকা
জীবনতো একটাই বাকিসব কিছু হচ্ছে ফাঁকা
শ্রেণিভিত্তিক সমাজে গরিব হয়ে বাঁচা যায় না
তাই আমরা ৫১তম ছোট যমুনা পেরিয়ে
জাতিয় বাজেট, জমা খরচ, ভুল হিসাব ঠিক করে লিখলাম;
তোমাদের জীবন নিয়ে কবিতা লিখবো বলে
খাতা কলম কিনেছি
কবিতাকে সংগে নিয়ে রাস্তায় নেমেছি;
অথচ আমাদের সামনে ছিলো ঋষি বা সন্ত বা গান্ধী ভাসানীর
মতো পীর, আমরা এগোতে পারিনি,
প্রেমিকার সংগে দেখা হলে দৌড়ে পালাতে পারিনি;
রামসাগর বা ঢোলসমুদ্রের তীরের অমুল্য
সম্পদ কেড়ে নিয়ে গেছে বিত্তবান পুরুষেরা,
নিস্ব আমরা প্রেমিকাকে বাঁচাতে পারিনি বিক্রি শ্রমদাসীর কবল থেকে;  
শুধু ভেবেছি কার ঘরে মারলে ঠেলা
লুটপাটের সরকারি টাকা পাওয়া যায়
জনগনের সবকিছু মুল্যবান জিনিস কীভাবে হারিয়ে যায় চোরাকাদায়
কীভাবে গড়ে উঠে উপশহর, প্রাসাদ-সাঙহাই গুলশানে;
সকালে রুটি ভালবাসি
বাসে চড়ে শহরে যাওয়া,
লোকাল ট্রেনে চড়ে ভিক্ষেতে, দুটোই দশ বছরের প্রেম
নতুন মুঠোফোনে তোমার সংগে গল্পে সারারাত
ভুলে যাওয়া প্রথম পরিচয়ের গল্প
প্রমিকার ঘরে কিছুক্ষণ বিপদের গন্ধে ভীত
তারও ছয়মাস পরে রটে গেলো যৌন হয়রানির অভিযোগ,  
সাংবাদিকের ছোটাছুটি, খবরের কাগজের টানা হেঁচড়া
কেমন কেমন মাং মা গন্ধ
দুটি পুলিশ তদন্তকারি
আজে-বাজে প্রশ্নোত্তর পর্ব
হালকা ঘুমের শেষে টেলিফোনের বেজে ওঠা,
গানের গে অদ্ভুত মিল প্রেমিকার দেহের পায়ের
ভালোবাসার জন্যে ১০৮টা নীল পদ্ম
কুটিকুটি করে ছেঁড়া,
নাটক লেখা সর্ম্পক ধ্বংসের টানাপোড়েনে ভুগে শেষ হলো,
আইন প্রনেতারাও নাট দেখে
যদিও একদা তারাই ছিল নাটকের বিষয়;
কী নয়া নেতা, কীভাবে উঠে এলে, কীভাবে ভোট পেলে
উত্তরে নেতা বললেন ওই যে দেখছেন হাজতখানা
ওইখানে বহুবার যাতায়াত ছিলো তো
তাই আমি এখন মানুষের গান গাই 

সাম্রাজ্যবাদিরা যখন পুঁজিপতির বন্ধু তখন
এই গল্পকথকের বন্ধু জলফড়িঙ, ঘাসফড়িঙ, কালো পিঁপড়ে, লাল পিঁপড়ে,
মাঠের মজুর, করাতশ্রমিক, হাতুড়ি বাটালিঅলা, নির্মাণ শ্রমিক,
জেলের ছেঁড়া জাল, মাছরাঙার ঠোঁট
আর শিকলপরা মনুমেন্ট;
সেইসব প্রানি বস্তুর গে ঘুমিয়ে
আমি জেনেছি সবাই কথা বলে, জানায় অভিজ্ঞতা;
আমার কেওকারাডঙ, গারো পাহাড়, মহাস্থানের ধুলিকনা,
আমাকে বলে চালাও সাইকেল, চালাও গল্প;
আর আমি দেখলাম
হাতে মুখে বুকে খোসপাঁচড়াঅলা শেষ মোগল সম্রাট
বাহাদুর শাহ জাফর পার্বতীপুর জঙশনে ছদ্মবেশে
রেজদের হাত থেকে পালাচ্ছেন আর পরিকল্পনা করছেন
কীভাবে বাঁচবেন এই তীব্র জোস্নালোকিত রাতে,
তিনি মুখে করুনভাব ফুটিয়ে আমার চোখে তাকিয়ে
দুটি টাকা চাইলেন,
আমি তাকে মাফ করে দিতে বললাম যেনো
আমি একুশ শতকের শেষ অপরাধী;
তুমি পালাবে কোথায়, তুমি যেই হও
বনসাই বা বটবৃক্ষ
তোমাকে আমরা ঠিক ঠিক মধ্যরাতে চিনে নিতে চাই,
তুমি ফালতু এখন, অথচ হৃদয়ে ছিলো সমগ্র ভারত সমগ্ মানুষ,
তোমার বন্ধু কুড়ি শতকে পরিপুর্ন স্বামী সাঙসারিক
ভালোবাসায় ঋদ্ধ ভোরে একাকি লাঙল কাঁধে মাঠে যেত;
শিশুটি নিয়ে গেছে বাবার খাবার মাঠে, জগ হাতে
তোমার বন্ধু গান গেয়েছে ওকি গাড়িয়াল ভাই বা
সারাজীবন বাইলাম নৌকা নদীর ঘাটে পইড়া
আর বিশ শতকে তোমার আরেক বন্ধু বব ডিলান
রেল স্টেশনের পর স্টেশন করেছে ভ্রমন টিকেটবিহিন
গেয়েছে গান আগামি বিশ্ব ডাকছে মানচিত্র বারবার কাঁপছে
লিখেছে গান আসছে আসছে বৃষ্টি আসছে
তোমার বন্ধু জেলা শহরে গিয়ে প্রথম সিনেমা দেখেছিলো
গ্রামের যাত্রাপালা অশ্লীল নাচ_ কিঙবা কবিগান
সেসব বহু আগের কথা, এখন তারা টিভি আর সিডি ডিভিডি
কী মজা, জুলিয়া বা জুলিয়েটরা সখিনা রহিমাদের
সরালো গ্রাম থেকে, ইংরেজি সিনেমায় আধুনিকতা,
ইংরেজি গানের ছন্দ ফিরে এলো হিন্দি গানে আর
প্রভুত্ব এলো, এলো খবরদারি
এলো হাসির টিভি চ্যানেল, হাসলে হার্টের আয়ু বাড়ে কী না,
শুধু ানুষের আয়ু বাড়ে না;
হাসে আর হাসে আর হাসে
আর বারুদ বাসায় রাখে
যে কোনো সময় আগুন জ্বালাতে হতে পারে;
সে আগুন জ্বলছে না হাজারো আহবানেও,
তথাপি আগুনের সংগে বেগুনের মিল ভর্তায়,
বাংলাদেশের সেনাবাহিনি কৃষকের বউয়ের আচার ভর্তা চেনে না
তারা লেফট রাইট বোঝে, 
ডানে াইট করে নিজেদের;
তারা ডানপন্থি সেনাবাহিনি,
বিচারহিন মৃত্যু;_ ক্রসফায়ার, হার্ট এ্যাটাক, এনকাউন্টার
দেখে কে আর ভয় পায়;
মারো, মানুষ মারা আর মুরগি মারা একই কথা;
ছয় মাসে ৬০০ জন, সামরিক অসামরিক ট্রাইবুনালে আরো হাজার দেড়েক;
প্লেগাক্রান্ত ইঁদুরের মতো তারা মার যাবে,
আসবে না প্রেমিকারা কোনোদিন বাঁচাতে তাদের 
ইন্দিরাও মারলো নকশালদের
বাকশালীরাও মারলো নকশালদের;* 
বাড়েনি সমাজবাদ ধর্মনিরপেক্ষতা,
বেড়েছে ধর্ম ব্যবসা;
ইলেকশনের আগে তসবি টুপি মাজার পুজা
পথ বানাও শুধু আর একবার ভোট চাই
দশবার পাঁচবার নয়, হাজার হাজারবা
দল দুটি নানা ছলে জনগকে ভেজে খেলো
শুধু একজন পরদেশির পচা সাহায্য দেখিয়ে বললো
বাঙাল বাল খাতা হ্যায়
আর হিসাব করলো কতদিন বন্দি কাটলো
তিন খাতা চারখাতায়; -বাঙলায় সমস্ত বাঙালির
রাজনীতি কীভাবে হলো ভুলে ভরা নীতি
নীতিবিদ্যা শেখাও কাদের শেষরাতে,
কামসুত্র শিশুদের হাতে,  
বুঝলে তো গুটু গুটু বাবু এইডস আর মুল্যবোধ চলে না এক সাথে
যদি অস্ত্রশিক্ষা চলে বিশ্ববিপনিবিতানে
প্রানভিক্ষা চাইলেও পুত্র হত্যা করে পিতাকে;

দুর্বল করো না কাউকে
শক্তি দাও দ্রুত পায়ে দৌড়ানোর, দুর্বলকে বাঁচার
শক্তি হোক শক্তি হোক জয় হোক জনগণে
বিজয় দেখতে গিয়ে আবার ভাঙন দেখা
শহরে হাঁটতে গিয়ে পথ না পাওয়া অসীম রাত
স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলে ডানা ঝাপটানো
হায়রে খাঁচা, আবার অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ে মারা,  
আবার মুক্তিযুদ্ধ আবার পতন;
পতনকে পাঠাবে কোথায়, নেই তো উত্থান,
শ্রমিক চাইলে সুবিধা দেখে বাক্য গঠ করা যেত,
আমার মনের মতো করে লেখা হতো ক্রিয়াপদ;
ভাষাকে করলে সহজ সবাই এগিয়ে যায়;  
উন্মত্তকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায় লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা
সৃষ্টির নেশায় বিভোর সমাজশিল্পি
সেই একেঁছিল নীচতা হীনতা আর
উঠে দাঁড়াবার প্রবণতা

বি দ্রঃ ফ্যাসিবাদ কীভাবে থাকে তা দেখুন, ২০১৩ সালে, নাসিম কহিলেন 'হয় বিএনপি নয় আমরা থাকবো'

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended