Tuesday, June 18, 2013

শ্রমিকের বেদনা গীত




১৬.
দাস ক্যাপিটাল, মানে পুঁজি, কার্ল মার্কস,
রাষ্ট্রের মালিক, আমরা, দেখলাম
আমরা রাষ্ট্রের কর্তা অথচ আছি গৃহকর্তা
খবরদারি মাতব্বরি সব ঘরের মধ্যেই
ফেমেলি, পোলাপান, ঝগড়া,
গালাগাল যে শিল্প তা আমাদের গ্রামে এলে দেখবেন
এখন নজর টাকার উপর,
দারোয়ান, বাড়ির গাড়ির মধ্যে খেলনা পুতুল,
স্বপ্নের সিঁড়ি, আকাশে আলোকিত গ্রহ, আমাদের নগর,
পরিশ্রম, দৈনন্দিন ঘাম, নাইট ডিউটি, ওভারটাইম,
মনে নয় দেহেই বেশি ক্লান্তি, বাদল দিনে হিন্দি গানে,
পত্রিকা, টিভি, মাটি কাটা জটিল কাজ,
কীভাবে খবর আসে ্রতিদিন আমার অফিসে,
ছোটোবেলার চড় থাপ্পড়,
সন্তানের জন্য কান্না, চম্পা বকুলের গন্ধ,
শিশুর ওষুধ, মায়ের শাড়ি,
ছোটোখাটো চুরি, খুঁজে পাওয়া স্কুলের ঘর
পাখির গানে স্মৃতি দেখা,
বিড়ির সংগে বন্ধুত্ব, সিগ্রেট প্রত্যাশি,
স্বপ্ন এবং কয়লাখনি,
কবে ঘরবাড়ি সব উধাও লো নদী ভাঙনে,
ঘরবাড়ি নিলো সরকার, ক্ষতিপুরনবিহীন
পুরোনো ঘাট কোথায় হারিয়েছে
কে আর জল আনতে যায়,
রাধারা সব বোতলে বোতলে লবনাক্ত জল খায়
এখন মালখালাসকারি জল আনে কার্ভাড ভ্যানে
পাইপে জল আসে শহরে,
মুল্য দিয়ে কিনতে হয় খাবার পানি,
আমার অন্য বন্ধুরা হাঁটে মাঠে ঘাটে সমুদ্রবন্দরে
ওইখানে তারা মাল খালাসকারি
ভাবনা আর চাহিদা অনেক কম তাই এই বেশ ভালো থাকা
মজুরি বাড়লে ভালো হত;
অনেক দিন ভালো ঘুমাইনি,
আমার সমবয়সি বন্ধুরা উপশহরে কাজ করে
টিভি দেখে, সিনেমা দেখে
ভাত খায়, সিটি মেরে গান গায়
মেয়েরা বড় হয়, বিয়ে দেয়,
মা হয়, মায়েরা বুড়ায়,
বুড়া-বুড়ির যত্নআত্তি পথ্য, মেলা কষ্ট,
আপনার লগে বিড়ি আছে, ধরাইতাম,
মেলা গল্প, পরে শুনবেন,
সব অভাবের গল্প একই রকম,
বাঁচার নিয়মে ফুর্তি,
মাঝে মাঝে পালাইতে মন চায়,
পাখির মতো ছোট্ট মেয়েটা চিড়িয়াখানায় যেতে চায়
ওর হাতি খুব পছন্দ, মানুষজন অপছন্দ রে
বুঝলেন নিজে ভাল হলে বিপদ বেশি
অন্যকেও ভাল করা লাগে
নীতি চাই, মাইর দিয়া খুব কম কাজই হয়,
তদুপরি শক্তি প্রদর্শন এক বিশাল ফ্যাক্টর
আমার প্রথম টার্গেট শিশুরা সুন্দর হবে
ওরা ভুলপথে যাবে না,

পৃথিবীর সারা শরীরে ব্যথা,
মলম দেবে কে,
কষ্টের কাজ পৃথিবীকে মাথায় বহন,
তার চেয়ে ভালো হয়
এটিকে কোনো ভাগাড়ে ফেলে দিলে

মাটি কাটার শ্রমিকের জীবন অন্তহী,
সত্যকে মাটির গভীরে পাওয়া যায় না,
পোড়া সত্য পোড়া মাটিতেই থাকে,
অর্ধসত্য মিথ্যাবাদির ঘরে ইট বালু পাথরের সংগে মিশে যায়
রিক্সাঅলা, ফেরিঅলার জীবনের অর্থ এবং
আলকাতরা জ্বালিয়ে হয় নতুন শহর,
পুড়ে যায় দেহের স্বাদ,
আমার পড়শি চাকার গতি বাড়াতে ব্যস্ত মানুষ
অথচ তাদের জীবনের চাকা ঘোরে না,
গতিহী আরো অনেকের সাথে আমরা থেমে যাই,
শুধু বাড়ে উপরতলার লিফটের গতি,
উপরে বিশাল ছাদ, নিচে আমি চিহ্নহী
চিহ্ন রাখি ভালোবাসার,
মৃতশিল্প গড়ে কেউ, ফুল রাখে কেউ ফুলদানিতে,
হাতে হাত রেখে কয়েকজন হলো শক্তিশালি
প্রতিবাদি হতে গিয়ে কেউ হলো সুবিধাভোগি,
কেউ আদম ব্যবসার দালাল,
দাদাগিরি চোরাচালানি নারী পাচারকারি,
আজকাল মেপে মেপে দেহ বিক্রি হয় গজ ফিতায়,
বিক্রি হয় হৃদপিন্ড, পাপড় ভাজা, নতুন মিস্ত্রি,
কে বেশি ভাত খায়_ আধুনিক দাস না গৃহের দাসি
কে বলে আরাম নাই আরো আরাম চাই;  
কে জিগায়, কোথায় চলেছো বাজান
উত্তরে কে বলে আশা নগরে আশা কেনা যায় কেজি দরে
কে ভাবে, কীভাবে হবে শ্রমদাসের অবস্থার উন্নতি

এখন তাই শহরের সবাই শক্ত পাথরে খোদাই করে লেখে
দুই সম্রাজ্ঞীর াম
পাদন প্রক্রিয়ায় আগামির মানুষেরা গনতান্ত্রিক
হবে কী হবে না এই নিয়ে বক্তৃতা,
পত্রিকা বিক্রি লাল ক্ষরে
শেষকালে ঝাড়ুমিছিল,
একটা ছেঁড়া টাকা বা ভাঙা কয়েন,
শেষমেষ দাদা, সাদা কাগজে মাতলামি
রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রধর্ম, হিন্দু ট্রেন, মুসলমান বাস, পাদ্রী রাষ্ট্র
এইসব নিয়ে কবিতা,
দাদা, কবির কী দোষ,
স্নেহ আর চর্বি, তেল আর পিচ্ছিল বিপ্লবের
পার্থক্য কবি কতটুকু আর বোঝে,
কুলি আর বেলির প্রেম,
শেলির কবিতা আর গীতবিতানের গান,
জলে ডোবা নদী,
পানি খায় পানকৌড়ি সকাল থেকে সন্ধা অবধি
ডুবে কোনো ক্লান্তি নাই
মাথার খুলিতে গজ নাই
আর একবার সামলালেই
সব ঠিক হয়ে যাবে,
ভরসা চাই ভরসা দাও, সুযোগ আর সম্ভাবনা
তাহলেই এসে যাবে নতুন কবিতা
তু বিপ্ল

No comments:

Post a Comment