Saturday, August 31, 2013

আর্ট



আমি হাত দেখতে জানি, আমি দেরি করে আসার পার্থিব কারণ জানি না
শুধু জানি, তুমি ঘন চুলের মতো গাঢ় আকাশের খুব পাশে আঁকো এক লোহিত সূর্য,
ওখানে মেয়েরা মেঘ হয়ে পাখিদের খুব কাছে ভালোবাসার স্রোতে বেঁচে আছে
মাঝে মাঝে ভালো লাগে তোমার অনাদরের ডাক,
সত্যজিতের সিনেমা খুঁজতে গিয়ে দেখেছি তোমার সজীব চোখে
ঘুঙুর পরা বাঙলার ছোট ছোট নদীরা ভাসছে সবুজ কুয়াশায়;
মুঠোফোনে জানাতে পারিনি তুমি অবিভাজ্য, এবং
আমার কাম্য রক্তমাখা শীর্তাত আগুন তুমি,
অন্ধকারে তুমি সুপ্ত শাড়ির চন্দন গোলাপ,
কেউ তোমাকে নিয়ে লাল-নীল কবিতা লেখেনি,
অথচ তুমি কাব্যকালের গনগনে আলোয় অমূল্য বিপন্ন রেখা,
তোমার পথের যাদুময়ি সুর পৃথিবীকে জানালো
আমাদের আকাশে অজস্র ঘটনায় বেঁচে আছে হুইটম্যানের ঘাস,

সুন্দর মানুষেরাই শুধু জীবনের বেদিতে শিল্প বানায়;
আলো জ্বালে শ্রমিকের রক্তমাখা সাম্যের আঙিনায়;  
যারা শিল্পী ছিল সদ্য ফোঁটা ফুলের পাপড়ির;
তারা হারিয়ে যায় দাহকালের গানের পরে।

আমার দেখতে ইচ্ছে করে জাগরণের গানের পুরোনো ভিডিও
উড়ন্ত পাখির ডানায় আলো ঝিকমিক উড়ন্ত রোদ্দুর,
বাসস্টপে দাঁড়িয়ে শুনতে ইচ্ছে করে তোমার বাজানো গিটারের সুর,
আমি দেখি কবিতার মতো সুরেরও প্রেমে পড়ে আধুনিক তরুণীরা,
অথচ দু-একজন উপযাচক তরুণ কবি হাহাকার করে,
সিনেমার ধারাবাহিক দৃশ্যাবলি আমাকে দেখায় উদাসী জীবন,
পুরোনো দাবার চাল, খেলায় পরাজয়, রাজ্য জয়,
রাজকন্যার হাতবদল, তার এক বুক মরোমরো দুঃখ
আর সত্যটুকু সেই শিল্প যা আমাদের কর্মে বেঁচে থাকে

১০ জুলাই, ২০০৪, টি. এস. সি,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


Friday, August 30, 2013

গোলাপি ডলফিন বিলুপ্তির পথে




গোলাপি ডলফিন বা Indo-Pacific Hump-backed Dolphin, যার বৈজ্ঞানিক নাম  Sousa chinensis, বাংলাদেশে দেখার কোনো রেকর্ড না থাকলেও বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণি জ্ঞানকোষে এটিকে বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রানির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ধরে নেয়া যায় এটি একদা বঙ্গোপসাগরেও পাওয়া যেত। কিন্তু এই  গোলাপি ডলফিন আজ বৈশ্বিকভাবেই মহাবিপন্ন। গত দশকে আমরা দেখেছি ভয়ানকভাবে এই ডলফিনের পরিমাণ কমতে। ২০০৩ সালে যেখানে ১৫৮টি ডলফিন দেখা গেছিল সেখানে ২০১২ সালে দেখা গেছে মাত্র ৬১টি। একথা বলেছেন স্যামুয়েল হুং, হংকং ডলফিন সংরক্ষণ সোসাইটির চেয়ারম্যান। খবর ইটসইন্টারেস্টিং ডট কমের
১৯৮০র দশকের শেষদিকে এই ডলফিনের ওপর নজরদারি শুরু করেন পরিবেশবাদীরা। কিন্তু সেটি অনেক দেরি হয়ে যায়। ২০০০ সালের দিকে গোলাপি ডলফিনের মোট সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ৮০-১৪০টিতে।
২০১৬ সালের ভেতরে যে হংকং-যুহাই-ম্যাকাও ব্রিজ তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে তার কারণে প্রচুর পাইলিং ও অন্যান্য নির্মাণকাজের ফলে পরিবেশ দূষণ বেড়েছে। সাথে সাথে বেড়েছে এই ডলফিন বিলুপ্ত হয়ে যাবার সম্ভাবনা। আমাদের এখন অপেক্ষা শুধু আরো একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবার।


ফটো ও ইংরেজি উইকিপিডিয়ার নিবন্ধটি দেখুন এই লিংকে

আরো পড়ুনঃ

০১. Whales, Dolphins and Porpoises (Cetaceans) of Bangladesh.

০২. Ganges River Dolphin, a critically endangered species in Bangladesh.

Thursday, August 29, 2013

কাসালং বাংলাদেশ ও মিজোরামের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী


কাসালং নদী, ফটো উইকিপিডিয়া থেকে



কাসালং নদী: কাসালং নদী (Kasalong River) বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী, যদিও এই নদীটি যৌথ নদী কমিশন কর্তৃক আন্তঃসীমান্ত নদী হিসেবে স্বীকৃত নয়। নদীটি  মূলত উত্তর-পূর্ব পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় কর্ণফুলী নদীর একটি প্রধান উপনদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১২৫ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৮০ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক কাসালং নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলের নদী নং ০৪।
প্রবাহ: ভারতের মিজোরাম রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় পর্বতশ্রেণি থেকে উৎসারিত হয়ে কয়েকটি ক্ষুদ্র স্রোতধারা রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়ন এলাকায় একত্রে মিলিত হয়ে কাসালং নদীর সৃষ্টি করেছে। অতঃপর নদীটি একই জেলার লংগদু উপজেলা পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে রাঙ্গামাটি থেকে প্রায় ২০ কিমি উত্তরে কেদারমারাতে এসে কর্ণফুলী নদীতে বা কাপ্তাই হ্রদে পড়েছে। গঙ্গারাম ছড়া, শিষক ছড়া এবং মাইনি নদী কাসালং নদীর অন্যতম উপনদী। ৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ গঙ্গারাম ছড়াটি দীঘিনালা উপজেলার উত্তরাংশের পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎপত্তি লাভ করে বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের গঙ্গারাম মুখ নামক স্থান অবধি অগ্রসর হয়ে কাসালং নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত পরিসরে পানি প্রবাহিত হলেও শুকনো মৌসুমে এ নদীর পানির প্রবাহ অনেকটা হ্রাস পায়।[১]
নদীটি ১২৫ কিমি দীর্ঘ এবং সারা বছরই খরস্রোতা। কাপ্তাই বাঁধের ফলে নদীপথে অভ্যন্তরের অনেক দূর পর্যন্ত নাব্য হওয়ায় বনজ সম্পদ আহরণের সুবিধা হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
১. মানিক, মোহাম্মদ রাজ্জাক (ফেব্রুয়ারি, ২০১৫)। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতিঢাকা: কথাপ্রকাশপৃ: ২৮৩-২৮৪।