Tuesday, September 03, 2013

ভিয়েতনামের জাতিয়তাবাদি বিপ্লবী নেতা হো চি মিন






মুক্তি ও স্বাধীনতার চেয়ে কোনো কিছুই অধিক মূল্যবান নয়।--- হো চি মিন
সাম্রাজ্যবাদবিরোধি জাতীয়তাবাদি যে কয়েকজন নেতার নাম আমাদের চোখে অহরহ পড়ে তাদের মধ্যে হো চি মিন (জন্ম: ১৯শে মে ১৮৯০-মৃত্যু: ৩রা সেপ্টেম্বর ১৯৬৯) অন্যতম।  তিনি জন্মেছিলেন ন-ঘিয়ান প্রদেশের চুয়াগ্রামে। ভিয়েতনাম বাসী তাকে ভালবেসে ডাকেঅ্যাংকেল হোবলেছোটবেলায় তার নাম ছিল নগুয়েন ভ্যান কুংকিন্তু দেশের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসায় পরে তিনি পরিচিত হন নগুয়েক আই কুয়োক (দেশপ্রেমিক নুয়েন) নামেআরো পরে তার নাম হয় হো চি মিন বা আলোর দিশারীপরবর্তীতে এ ছদ্মনামেই তিনি সারাবিশ্বে পরিচিত হন তার পুরানো নাম নগুয়েন তাট থানহ। হো এর পিতা ছিলেন কনফুসিয় পন্ডিত ও ম্যাজিস্ট্রেট

হো চি মিনকে প্রথমে গ্রামের পাঠশালায় ভর্তি করে দেন বাবা নগুয়েন মিন হুয়ে খুব ভালো করায় পরে শহরের এক হাইস্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়শহরে এসেই বুঝতে পারলেন নিজেদের মাতৃভূমিতে কোনো অধিকার নেইতাদের দেশ শাসন করছে ফরাসিরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফরাসিঅন্য শিক্ষকরা ভিয়েতনামি হলেও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস নেইস্কুলের এসব পরাধীনতা তাকে বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে

ঔপনিবেশিক আমলে ভিয়েতনাম ফরাসীদের কব্জায় ছিলভিয়েতনাম, লাওস এবং কম্বোডিয়া নিয়ে তখন গঠিত ছিল ইন্ডো-চায়না১৮৫৯ সালের পর একের পর এক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি অর্থনীতি তথা আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে দেশটিকে প্রায় পঙ্গু করে রেখেছিল। ১৮৮৩ সালে সাম্রাজ্যবাদি ফ্রান্স পুরোপুরি দখল করে ভিয়েতনাম। ভিয়েতনাম হয়ে দাঁড়ায় ফ্রান্সের সরাসরি উপনিবেশ।

সে সময় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু আন্দোলন হলেও সুসংগঠিত কোনো আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। ১৯০৮ সালের কৃষক আন্দোলনের সাথে স্কুল জীবনেই হো চি মিন জড়িয়ে পড়েন। ১৯১০ সালে তিনি প্রায় ৫০০ কিমি পথ অতিক্রম করে ফান থিয়েট শহরে আসেন। এখানেই তিনি পরিচিত হন দেশপ্রেমিকদের এক গোপন বিপ্লবী সংগঠনেহো চি মিন এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ঘুরে ঘুরে মানুষের কাছে প্রচারপত্র বিলি করতেন এবং বোঝাতেন, অত্যাচারী ফরাসিদের দেশ থেকে বিতাড়ন না করলে দেশের মানুষের মুক্তি নেই অল্পদিনের মধ্যেই তিনি হয়ে উঠলেন বিপ্লবী আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাআর এ জন্য ফরাসি গুপ্তচর বাহিনীর শ্যেন দৃষ্টি পড়ে তার ওপরতিনি গুপ্তচর বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে জাহাজে পাড়ি দেন পশ্চিমা কোনো দেশেউদ্দেশ্য_ সেসব দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা 

১৯১১ সালের ২ জুন তিনি ট্রিভিলি জাহাজে সহকারী রাঁধুনির কাজ গ্রহণ করেন। পরের প্রায় তিন বছর সময় তিনি জীবিকা অন্বেষণের কাজে ঘুরে বেড়ান ইউরোপ, আমেরিকা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন বন্দরে। এই জাহাজে ঘুরতে ঘুরতে তিনি ভারত মহাসাগর, আরব সাগর, লোহিত সাগর, আফ্রিকা পেরিয়ে নিউইয়র্কে ভিড়লেন। দেখলেন স্বপ্নের আমেরিকায় দারিদ্রক্লিষ্ট মানুষ। মোহমুক্তি ঘটতে দেরি হলও না। জাহাজে চেপে এসে পড়লেন লন্ডনে। এখানে নিলেন হোটেল বয়-এর চাকরি। এই তিন বছর অবসরে পড়তেন ইতিহাস বই ও সংবাদপত্রউদ্দেশ্য পশ্চিমা সমাজ ও রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ামাতৃভূমির বঞ্চনা তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াত প্রবাস জীবনেও

নানা দেশ ঘুরে ঘুরে হো ১৯১৭ সালে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে এসে পৌঁছলেন প্যারিসে। দেখতে পান ভিয়েতনামে উপনিবেশ গড়ে তোলা ফরাসিদের সঙ্গে সামান্যতম মিল নেইসুস্থ সংস্কৃতির চেতনায় উদ্বুদ্ধ রুশো, ভলতেয়ারের দেশের মানুষদের দেখে তিনি মুগ্ধ হনস্থির করেন বিপ্লবের জন্মভূমি ফ্রান্স থেকেই অর্জন করবেন বিপ্লবের মন্ত্র। জীবিকার জন্য কাজ নিলেন ছবির দোকানে তুলি দিয়ে রিটাচার করা। যে ঘরে থাকতেন সেখানে থাকত কিছু প্রবাসি ভিয়েতনামী। এই বাড়ির কর্তা ফ্যান ভ্যান ট্র্যং এবং তার সাথে যোগাযোগ ছিল ভিয়েতনামের কিছু জাতিয়তাবাদির যাদের নেতা ছিলেন ফ্যান চু ত্রিন (১৮৭২-১৯২৬)এর। পরিচয় ঘটলো ফরাসি সমাজতান্ত্রিক নেতাদের সঙ্গেতিনি যখন ফ্রান্সে বসবাস শুরু করেন, ঠিক তখনই তাঁর মানসে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হয়ফ্রান্সের শ্রমিক শ্রেণীর নেতাদের সাথে সেই সময় তাঁর বেশ ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়

১৯২০ সালে তিনি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ফ্রান্সের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। সেই বছর প্যারিসে ফরাসি সোস্যালিস্ট পার্টির অধিবেশন বসলে বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক প্রতিনিধি যোগ দেনএ সময় হো যোগ দিয়েছিলেন ভিয়েতনামের প্রতিনিধি হিসেবেএই প্রথম তিনি বিশ্বের প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন ভিয়েতনামের ওপর ফরাসিদের শোষণ আর অত্যাচারের কথাহো বুঝতে পারলেন, দেশের মানুষের সম্মিলিত ঐক্য আর সংগঠনের মাধ্যমেই গড়ে তুলতে হবে বিপ্লবযার জন্য প্রয়োজন একটি রাজনৈতিক দলেরতিনি গড়ে তোলেন ভিয়েতনামি বিপ্লবী তরুণ সংঘ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২৩ সালে তিনি মস্কোয় অনুষ্ঠিত কমিউনিস্ট আনত্মর্জাতিক কংগ্রেসে যোগ দেনভিয়েতনামের স্বাধীনতা আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে তিনি 'ভিয়েতমিন' নামে একটি সংগঠন তৈরি করেনভিয়েতনামের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন পরিচালনায় তাঁর এই সংগঠন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

১৯২৫-২৬ সালে তিনি সংগঠিত করেন তরুণ শিক্ষা শ্রেণি এবং এতে মাঝে মাঝে ভিয়েতনামী জাতিয়তাবাদিদের সামনে বক্তৃতা দিতেন। তিনি ১৯২৬ সালের অক্টোবরে জেং জুয়েমিন (১৯০৫-১৯৯১) বিয়ে করেন। ১৮ অক্টোবর যখন সহ-কমরেডরা এই বিয়ের বিপক্ষে কথা তোলেন তখন তিনি বলেন,
“I will get married despite your disapproval because I need a woman to teach me the language and keep house.[১]

তিনি সেই একই স্থানে বিয়ে করেন যেখানে চৌ এন লাই (১৮৯৮-১৯৭৬) বিবাহ করেছিলেন। এরপর তিনি কমিন্টার্ন এর প্রতিনিধি মিখাইল বরোদিনের(১৮৮৪-১৯৫১) বাড়িতে বসবাস করেন।

১৯২৭ সালের এপ্রিলে তিনি পুনরায় মস্কো যান। যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে কিছুদিন ক্রিমিয়ায় থাকেন। পরে প্যারিস হয়ে বার্লিন, সুইজারল্যান্ড, ইটালি পেরিয়ে ব্যাংকক থেকে এক চিঠিতে স্ত্রী জেং জুয়েমিনর কাছে লেখেন,
“Although we have been separated for almost a year, our feelings for each other do not have to be said in order to be felt”, he reassured Minh in an intercepted letter. [২]

১৯২৯ সালে তাঁর গোপন সংগঠন থান নিয়েনহংকং শহরে মিলিত হয়ে গোপনে ইন্দো-চায়নিজ কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের জন্য বিশেষভাবে উদ্যোগী হয়ে ওঠেনঅবশেষে ১৯৩০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়১৯৩০ সালের অক্টোবরের পার্টির প্রথম প্লেনামে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির নাম পালটে রাখা হলও ইন্দোচিনের কমিউনিস্ট পার্টি। ১৯৩১ সালের জুনে হংকং-এ বন্দি হলেন। কিছুদিন পর মুক্তি পেয়ে মস্কো গেলেন। ১৯৩৮ সালে চিনে আসার অনুমতি পেলেন। ১৯৪০ সাল থেকে তিনি আগের ছদ্ম নাম গুলো বাদ দিয়ে হো চি মিন নাম ব্যবহার করতে শুরু করেন।

১৯৪১ সালের পরবর্তী সময়ে তাঁর নেতৃত্বেই স্বাধীনতা সংগ্রাম বজায় থাকে। ১৯৪২-৪৩ সালে মোট ১৩ মাস তিনি চিয়াং কাই শেক (১৮৮৭-১৯৭৫) এর জেলে বন্দি ছিলেন। এসময় প্রিজন ডায়েরিতে তিনি লিখেছিলেন বেশ কিছু কবিতা। সেগুলোর একটি হলও এমন,
দেহটাই থাকে জেলখানায়
মনটা তো থাকে না।
মহত প্রচেষ্টা চালাতে হলে
অটুট থাকা চাই মনের বল।[৩]

ভিয়েত মিন দ্বারা পরিচালিত আগস্ট বিপ্লবের পর, ১৯৪৫ সালে কমিউনিস্ট শাসিত ডেমোক্রাটিক রিপাবলিক অফ ভিয়েতনাম সরকার প্রতিষ্ঠা হয়দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সাম্রাজ্যবাদী জাপান তখন অন্য ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের পূর্ব-এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে বিতাড়িত করেকিন্তু হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে এ্যাটম বোমা নিক্ষেপ তাদের পুরোপুরি পরাস্ত করেভিয়েতনামের দুই প্রধান শত্রু যখন পুরোপুরি পরাজিত ঠিক সেই সময় আংকেল হো তাঁর গেরিলা বাহিনী এবং অন্যান্য মুক্তিফৌজের সমবেত সাহায্যে জনতার সম্মুখে ভিয়েতনামকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ২ সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করেন

কিন্তু বিশ্বযুদ্ধ শেষে মিত্রশক্তির চক্রান্তে আরও নগ্নভাবে দেশটিতে নব্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো আসন গেড়ে বসেবিশ্বশক্তিগুলোর সেই চক্রান্তে ফ্রান্স পুনরায় দেশটি দখল করে নেয়আংকেল হো চেয়েছিলেন ফ্রান্সের সাথে একটি সমঝোতায় আসারকিন্তু তারা কখনই তার দাবি মেনে নেয়নিঅবশেষে গেরিলা যুদ্ধের কৌশল এবং দাপটের কারণে ফ্রান্সের বাহিনীর শক্তি ও রসদ ফুরিয়ে আসে তারা পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়যুদ্ধের পর জেনেভা চুক্তি অনুযায়ী পুনরায় ভিয়েতনামকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়উত্তর ভিয়েতনাম এবং দক্ষিণ ভিয়েতনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চক্রান্তে পুনরায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েমার্কিন মদদপুষ্ট দিয়েম সরকার জেনেভা চুক্তি অনুসারে ভিয়েতনামের সংযুক্তির প্রস্তাব বাতিল করেফলে অনিবার্য সংঘাত পুনরায় দেশটিকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেয়মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনসনের নির্দেশে জেনারেল ওয়েস্টমোরল্যান্ড-এর নেতৃত্বে প্রায় ১,৮৮,০০০ মার্কিন সেনা দেশটির যুদ্ধ অংশ নেয়সে যুদ্ধ প্রায় (১৯৬৪-১৯৭৫) দশ বছর স্থায়ী হয়েছিলবিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে স্বাধীনতাকামী সে মহান যোদ্ধাদের নৈতিকভাবে সমর্থন যোগায়। যুদ্ধে ভিয়েতনাম জয়লাভ করে। পৃথিবীর অন্যতম পরাশক্তির এমন নির্লজ্জ পরাজয় উপভোগ করে পৃথিবীর স্বাধীনতাকামী আপামর জনতা

পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালে ফ্রেঞ্চ ইউনিয়নকে দিয়েন বিয়েন ফু যুদ্ধে পরাস্ত করে১৯৪৫ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত হো চি মিন ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি ও রাষ্ট্র নেতা হিসেবে ভিয়েতনামের জনগণকে নিয়ে বিপ্লবী ক্ষমতা সুরক্ষার সংগ্রাম করেছেন, এবং ফ্রান্সের হামলা প্রতিরোধের যুদ্ধে মহান বিজয় লাভ করেছেন১৯৫৪ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত, তিনি ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং স্বদেশের পুনরেকত্রিকরণ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেনষাটের দশকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং অনেক ঘটনার পর ১৯৭৬ সালের ২ জুলাই উভয় ভিয়েতনাম একীভূত হয়

দীর্ঘকালের কঠোর বিপ্লবী জীবন গুরুতরভাবে তাঁর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে ১৯৬৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি ও রাষ্ট্র নেতা কমরেড হো চি মিন গুরুতর হৃদরোগের কারণে মৃত্যুবরণ করেন মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিলো ৭৯ বছরসফল নেতৃত্বের জন্য টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী একশ ব্যক্তিত্বের অন্যতম ছিলেন হো

উত্তর ভিয়েতনামের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ১৯৫০-এর দশকের শেষভাগে সীমিত হয়ে আসেদক্ষিণ ভিয়েতনামের স্বাধীনতা অর্জনের পর সেখানকার পূর্বতন রাজধানী সাইগনের নাম পাল্টে হো চি মিন শহর রাখা হয় তাঁর সম্মানার্থে হো চি মিন আর ভিয়েতনাম মূলত একই সূত্রে গাঁথাভিয়েতনামের প্রতি তাঁর জ্বলন্ত দেশপ্রেমের কারণে তাকে ডাকা হতো আই ক্যোকএছাড়া ভিয়েতনামবাসী তাঁকে ভালবেসে ডাকে আংকেল হো ভিয়েতনামের মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য অবদান পৃথিবীর মুক্তিকামী ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে কমরেড হো চি মিনের জীবন আজো দুনিয়ার শোষিত-নিপীড়িত মানুষের কাছে অসামান্য প্রেরণা বিশ্বের মানুষের কাছে তিনি বিপ্লবের প্রতীকযার অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে জনগণ ফরাসি ও আমেরিকান বাহিনীকে বিতাড়ন করে নতুন পতাকা উড়িয়েছিল। তিনি বলতেন এক অমোঘ কথা মুক্তি ও স্বাধীনতার চেয়ে কোনো কিছুই অধিক মূল্যবান নয়[৪] আমরাও তার এই কথাকে এখনো খুবই সত্য বলে মনে করি। পৃথিবীতে যতদিন শ্রেণিভেদ থাকবে ততদিন মানুষ মুক্তির লড়াইয়ে হো চি মিনকে মনে রাখবে।[৫]    


তথ্যসূত্র ও টিকাঃ
১. Ho chi Minh, A Biography, by Pierre Brocheux; Page: 39.
২. Ho chi Minh, A Biography, by Pierre Brocheux; Page: 40.
৩. সন্ধানী মিত্র; দিতে পারি তরি পাড়ি আর হাজার বছর; বাসদ, ঢাকা; জিন, ২০০২; পৃষ্ঠা ৪৬।
৪. Ho Chi Minh; World Marxist Review: Problems of Peace and Socialism (1979), p. 91
৫. এই লেখার তথ্য বাংলা বিভিন্ন দৈনিক, সন্ধানী মিত্রের পুস্তিকা ও ইংরেজি উইকি থেকে নেয়া। 

No comments:

Post a Comment