Saturday, September 07, 2013

নাকতা হাঁস বাংলাদেশের প্রাক্তন আবাসিক এবং বর্তমানে বিরল পরিযায়ী পাখি




নাকতা হাঁস, ছেলে; ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Sarkidiornis melanotos (Pennant, 1769)
সমনাম: Anser melanotos Pennant, 1769
বাংলা নাম: নাকতা হাঁস, নকতা (আলী)
ইংরেজি নাম: Knob-billed Duck (Comb Duck)

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Anatidae
গণ/Genus: Sarkidiornis, Eyton, 1838;
প্রজাতি/Species: Sarkidiornis melanotos (Pennant, 1769)

ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকাSarkidiornis গণে ১টি প্রজাতি রয়েছে এবং পৃথিবীতে রয়েছে ১টি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশ ও পৃথিবীর প্রজাতিটি হচ্ছে ১. বাদি হাঁস। 
বর্ণনা: নাকতা হাঁস বিরাট আকারের কালচে ডানার হাঁস (দৈর্ঘ্য ৬৬ সেমি, ওজন ২.২ কেজি, ডানা ৩৪ সেমি, ঠোঁট ৬.৪ সেমি, পা ৭ সেমি., লেজ ১৪.৫ সেমি)পুরুষ ও স্ত্রীহাঁসের আকার ও চেহারায় কিছুটা পার্থক্য আছেপুরুষপাখির পিঠ দেখতে কালো, সবুজ ও বেগুনি আভা আছে; সাদা মাথা ও গলা; সাদা গলায় কালো তিলা এবং ঠোঁটে স্ফীত মাংসপিন্ড থাকেস্ত্রীহাঁস অনেক ছোট ও এর অনুজ্জ্বল পিঠে বাদামি ফোঁটা ছিটানো; ঠোঁটে স্ফীত মাংসপিন্ড নেইপুরুষ ও স্ত্রীহাঁসের উভয়েরই চোখ ঘন বাদামি, ঠোঁট কালো এবং পা ও পায়ের পাতা ফ্যাকাসে অপ্রাপ্তবয়স্ক হাঁসের হালকা ভ্রু-রেখা, অনুজ্জল দেহ, পিঠে পীতাভ আঁশের দাগ ও দেহতল লালচে-বাদামি২টি উপ-প্রজাতির মধ্যে S. m. melanotos বাংলাদেশে দেখা যায়
নাকতা হাঁস, মেয়ে; ফটো ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
স্বভাব: নাকতা হাঁস নলবনে ও বাদাভূমিতে বিচরণ করে; সাধারণত ৪-১০টির পারিবারিক দলে দেখা যায়, ২৫-১০০টির ঝাঁকও চোখে পড়েঅগভীর জলাশয়ে সাঁতার কেটে ও মাথা পানিতে অল্প ডুবিয়ে খাবার খায়; খাদ্যতালিকায় আছে শস্যদানা, কচিকা-, জলজ উদ্ভিদের বীজ, ব্যাঙ ও জলজ পোকামাকড়বেশ উড়তে সক্ষমবিপদে পড়লে এরা পানিতে ডুব দিয়ে পালায়; তবে খাদ্যের খোঁজে তা করে না; প্রায়শঃ গাছের ডালে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম করেপুরুষপাখিরা নিচু স্বরে ব্যাঙের মত ডাকে এবং প্রজনন ঋতুতে গাড়ির হর্নের শব্দে ডাক দেয় জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসের প্রজনন ঋতুতে পানির কাছাকাছি কোন প্রাচীন গাছের প্রাকৃতিক গর্তে ডালপালা, ঘাস, শুকনো পাতা ও পালক দিয়ে বাসা বেঁধে ডিম পাড়েডিমগুলো ফ্যাকাসে ও পীতাভ, সংখ্যায় ৭-১৫টি, মাপ ৬.২-৪.৩ সেমি স্ত্রীহাঁসএকাই ডিমে তা দেয়; ৩০ দিনে ডিম ফোটে
বিস্তৃতি: নাকতা হাঁস বাংলাদেশের প্রাক্তন আবাসিক এবং বর্তমানে বিরল পরিযায়ী পাখি; এখন শীতে ঢাকা ও সিলেট বিভাগের আর্দ্রভূমি ও হাওরে চোখে পড়ে যেখানে তারা আগে স্থায়িভাবে বাস করতবাসা তৈরির উপযুক্ত জায়গার অভাবে এখন এ দেশে এর প্রজনন সম্ভব নয়দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে; এশিয়ার মধ্যে দক্ষিণ চিন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কাম্পুচিয়া, লাওস, এবং ভুটান ও মালদ্বীপ ব্যতীত ভারত উপমহাদেশের অন্যান্য দেশে আছে
অবস্থা: নাকতা হাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত ও বাংলাদেশে মহাবিপন্ন বলে বিবেচিতবাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত
বিবিধ: নাকতা হাঁসের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ নাকওয়ালা কালোপিঠ (গ্রিক: sarc = মাংসল উপাঙ্গ, ornis = পাখি, melas = কালো, notos = পিঠের)

বাংলাদেশের উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও এম. কামরুজ্জামান।


আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment