Monday, September 02, 2013

লাল বনমুরগি বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি




লাল বনমুরগি, ছেলে, Photo:  Sourav Mahmud
বৈজ্ঞানিক নাম: Gallus gallus (Linnaeus, 1758)
সমনাম: Phasianus gallus Linnaeus 1758
বাংলা নাম: লাল বনমুরগি, বন মোরগ (অ্যাক্ট)
ইংরেজি নাম: Red Junglefowl

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Phasianidae
গণ/Genus: Gallus, Brisson, 1760;
প্রজাতি/Species: Gallus gallus (Linnaeus, 1758)
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকাGallus গণে একটি প্রজাতি পাওয়া যায় এবং পৃথিবীতে পাওয়া যায় ৪টি প্রজাতি। আমাদের আলোচ্য পাখি লাল বনমুরগি।  
বর্ণনা: লাল বনমুরগি সবার পরিচিত বর্ণাঢ্য ভূচর পাখি (দৈর্ঘ্য ৫৭ সেমি, ওজন ১ কেজি, ডানা ২০.৫ সেমি, ঠোঁট ২ সেমি, পা ৭.৫ সেমি, লেজ ২৪.৭ সেমি); পুরুষপাখি সব ঋতুতে সুরেলা কন্ঠে ডাকেএর চেহারা ও আকার স্ত্রীপাখি থেকে অনেকটা আলাদাপুরুষপাখির পিঠে গাঢ় কমলা-লাল রঙের ওপর সোনালী হলুদ মেশানো ঝুলন্ত পালক ঘাড় থেকে নেমে গেছে; কাস্তের মত লম্বা কেন্দ্রীয় পালকসহ লেজ সবুজাভ কালো; দেহতল কালচে বাদামি; উপরের ঠোঁট থেকে মাংসল ঝুঁটি ও নিচের ঠোঁটে ঝুলন্ত লতিকা থাকে; চোখ কমলা-লাল; এবং ঠোঁট লাল ও ঠোঁটের গোড়া বাদামিস্ত্রীপাখির কপাল তামাটে ও মাথার চূড়া অনুজ্জ্বল লাল; দেহতলে হালকা লাল-বাদামির ওপর পীতাভ ডোরা; চোখ বাদামি ও ঝুঁটি গাঢ় লাল; এবং ঠোঁটের হলুদাভ গোড়া ছাড়া বাকি অংশ পুরুষপাখির ঠোঁটের মতপুরুষ ও স্ত্রীপাখি উভয়ের পা, পায়ের পাতা ও নখর স্লেট-বাদামি৫টি উপ-প্রজাতির মধ্যে G. g. murghi বাংলাদেশে পাওয়া যায়
স্বভাব: লাল বনমুরগি সব ধরনের বন ও বাঁশের ঝোপে বিচরণ করে; সাধারণত জোড়ায় বা পারিবারিক দলে ঘুরে বেড়ায়এরা মাটিতে হেঁটে পায়ের আঁচরে ঝরাপাতা সরিয়ে খাবার খোঁজে: খাদ্যতালিকায় আছে শস্যদানা, ঘাসের কচিকা-, ফসলাদি, ফল, কেঁচো ও পোকামাকড়এরা ভোরে ও গোধূলিতে বেশি সক্রিয় থাকে; পুরুষপাখি উচ্চ স্বরে ডাকে: কোক-আ-ডুড্ল-ডু ..জানুয়ারি-অক্টোবর মাসের প্রজনন ঋতুতে পূর্বরাগের সময় পুরুষপাখি ডানা মেলে স্ত্রীপাখির চারদিকে ঘুরে বেড়ায়স্ত্রীপাখি ঘন ঝোপের নিচে নখর দিয়ে মাটি আঁচড়ে গর্ত করে ঘাস, লতাপাতা দিয়ে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়েডিমগুলো ফ্যাকাসে পীতাভ থেকে লালচে বাদামি, সংখ্যায় ৫-৬টি, মাপ ৪.৫-৩.৪ সেমিস্ত্রীপাখি একাই ডিমে তা দেয়; ২০-২১ দিনে ডিম ফোটেডিম ফোঁটার পর ছানারা বাসা ছেড়ে যায় ও মায়ের পাশে হেঁটে নিজেরা খাবার খুঁটে খায়
বিস্তৃতি: লাল বনমুরগি বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি; চট্রগ্রাম, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের সব বনে দেখা যায়ভারতবর্ষ ছাড়া মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে এ পাখির বিস্তৃতি রয়েছে
অবস্থা: লাল বনমুরগি বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিতবাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত
বিবিধ: লাল বনমুরগির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ গোলাবাড়ির মুরগি (ল্যাটিন : gallus = গোলাবাড়ি সংলগ্ন জমির মুরগি)লাল বনমুরগি থেকেই পৃথিবীর সব পোষা মুরগির আবির্ভাব হয়েছে

No comments:

Post a Comment