Wednesday, October 02, 2013

কমরেড এম. এ. মতিনকে নিবেদিত চারটি কবিতা




কমরেড এম. এ. মতিন


রাতের শেষ প্রহরের যোদ্ধা
কমরেড এম.. মতিনকে
____অনুপ সাদি

ছোট্ট মানুষটি বহুদিন আগে থেকে অতি ধীরে ধীরে
নীলাকাশ ছাড়িয়ে উঠে গেছেন মহাশূন্যে
ঘুরে ঘুরে দেখছেন কালোমেঘ ঝড় আর কৃষকের সুখভোগ,
লাখো লাখো শিশুদের ভিড়ে
বলবান দশ হাতের আঙুলে আঙুল গুনে বুঝে নেন
মমতা মানুষ আর ফসলের ঘ্রাণ

পোড়ামাটি নীতির কখনো মৃত্যু হয় না জেনে
রোগাটে শরীর নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে
নির্ভীক এক অদম্য সমরনায়ক,
ভুল পথে চলে যারা তাদের দেখিয়ে দেন 
ফুলগুলো ফোটে আর ভুলগুলো ঝরে যায় 

কাঁটাতার পেরিয়ে কৃষকের কাস্তে হাতে
জড়িয়ে যান এক ফুল বালিকার সাথে,
আমরা তখন কজন ছোট ছোট ছেলেমেয়ে
মিছিলের ঘ্রাণ শুঁকে পেয়ে যাই পরশপাথর

রাত বাড়ে, স্বপ্ন ওড়ে, সামুদ্রিক টর্নেডোয়
বাঁচাতে যান মানবিক বস্তির শেষ কিছু চারাগাছ
তারপর ছেয়ে যায় দশদিক শত্রুর কালো থাবায়;_
কে যায়, কে যায় বলে ধরলো অন্ধকারে কজন চোরা হামলাকারী
এরপর টিকে থাকা বুলেটের মাঝখানে শত নির্যাতনে

ভোর দেখিনি আজো, লাল দিন দূরে বহুদূরে,
সূর্যের তেজোদীপ্ত তামাটে মানুষটি আজ আমাদের অনেক উপরে



শিরোনামহীন
___জাকির মুস্তাফিজ

কী এমন ক্ষতি হতো একটু
দেরি করে গেলে,  
না হয় যেতে কমরেড একবার
আড্ডায় ব্রক্ষ্মপুত্রের ধারে
আর একবার শুধু চা খাওয়া, খুনসুটি
অতীত দিনের মজার কথায় যৌথ অট্টহাসি
শুধু একবার কমরেড তোমার ঠোঁটের স্পর্শ
পাওয়া বিড়িটার টান আমার ঠোঁটে
তাকে এনে আমার বুকে রাখতাম
তারপর চলে গেলে নিঃশ্বাসের সাথে
কী আর এমন দোষ দিতাম!!!


কমরেড
___
কাজী মুকুল সারথি

তুমি মুক্তি খুঁজেছিলে অনন্ত খোলা আকাশে
বাতাসে বাতাসে গেয়েছিলে অন্তরন্যাশনাল মুক্তির গান।
পুঁজিবাদী লোহার খাঁচায় বন্দি তোমার স্বপ্ন
লুটেরা বুর্জোয়া শিকলে বাঁধা ভাষায়, তুমি_
নাকি ছিলে প্রলেতারিয়েত সন্ত্রাসী! অথচ_
তুমি দেখেছিলে কৃষক নিজের চোখের জলে
নিজ জমিনে দিয়েছে সেচ; শোষণের গনগনে পতিত আগুনে_
জ্বলে পুড়ে ছাই হয়েছে শ্রমিকের সংসার।
চোখের ক্যানভাসে তুমি ছবি এঁকেছিলে_
শোষণহীন সর্বহারা সমাজ সভ্যতার।
এখন কেবলি এসব প্রশ্নবোধক চিহ্ন?
এখনও কালো রাজপথে সতীর্থদের রাঙা জ্বলজ্বলে
পোস্টার হাতে, সমুদ্রের সফেন ঢেউয়ের মতোন
শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হবে_
"কেউ খাবে তো কেউ খাবে না"
কবিতার শব্দে শব্দে বেজে উঠবে বিপ্লবী সুরের জোয়ার।
শুধু নেই তুমি!
কুয়াশার চাদরে ঢাকা চাঁদের কলস গড়িয়ে নামা জ্যোৎস্নায়_
শিশির ভেজা ঘাসে নিঃশব্দে তোমার_
অভিমানী চলে যাওয়া অন্য কোথাও অন্য কোনোখানে।
শাদা কাফনের ঘরে শুয়ে আছো_
নিরব নিথর কমরেড কবি মতিন।


৪ অক্টোবর, ২০১৩, ময়মনসিংহ।




আর আমাদের ভালবাসা?
_____Hason Lal

আমি অকবি হাসন লাল
উত্তর দক্ষিণ এখানে সেখানে
স্টেশন টারমিনাল ঘুরে
যার সাথে দেখা হত আমার
সেই এম. এ.  মতিন আমার ভাই অথবা বন্ধু
অভাগা বাংলার প্রতীক
জানতেন
আমাকে আসতেই হবে
আমাদের জীর্ণ জীবনগুলো
একটি কেন্দ্রে আবর্তিত
হতেই হতো
তিনি প্রবলভাবে ঘৃণা করতেন
আমি প্রবলভাবে ঘৃণা করতাম
আমরা প্রবলভাবে ঘৃণা করি
বল ঘৃণা করি
ঘৃণা করি.........
কী ঘৃণা করি?
........................
আর আমাদের ভালবাসা?



বি. দ্রঃ আজীবন বিপ্লবী, মাওবাদী নেতা ও বুদ্ধিজীবি, দরিদ্র নিপীড়িত মানুষের বন্ধু, কমরেড সিরাজ সিকদারের একনিষ্ঠ অনুসারী কমরেড এম. এ. মতিনের স্মরণে এই কবিতাগুলো লেখা হয়। মোট চারটি কবিতা লেখা হলো কমরেড মতিনকে উদ্দেশ্য করে। উল্লেখ্য, কমরেড মতিন গত ২৯ সেপ্টেম্বর স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended