Wednesday, October 02, 2013

কমরেড এম. এ. মতিনের সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি



কমরেড এম. এ. মতিন
এম. এ. মতিন (মোহাম্মদ আবদুল মতিন) পিতা মো. ইসহাক আলী ব্যাপারী, মাতা মোছাম্মত জমিলা বেগম, গ্রাম-মধ্য দাপুনিয়া, পো. দাপুনিয়া, সদর, ময়মনসিংহজন্ম ২০ নভেম্বর, ১৯৬০ নিজ ইউনিয়নস্থ গোষ্টা গ্রামে মাতুলায়লে, প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন মধ্য দাপুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় হতেমুক্তাগাছা থানাধীন খুকশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যরনরত অবস্থায় ১৯৭২ সনে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতির হাতেখড়ি১৯৭৩ সনে স্কুল ছাত্র সংসদের নির্বাচনে সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হনইতিমধ্যেই, বিপ্লবী ধারার কমিউনিস্ট রাজনীতিতে যুক্ত হন১৯৭৫ সনে ছাত্র সংসদে সাধারণ সম্পাদকের (জি.এস.)এর প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনের মাধ্যমে শূন্য পদে ঐ পদের দায়িত্ব পালন করেন১৯৭৫ এর প্রথমার্ধে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানি কমন্ডার, ই.পি.আর খোরশেদ ও কতিপয় বিপ্লবীরা মুক্তাগাছার সৈয়দ গ্রামে অবস্থান করা অবস্থায় মুক্তাগাছা থানার পুলিশ হামলা চালায়ঐ হামলাতে মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানী কমান্ডার বাবু মান্নান ও বাড়ীওয়ালা বি.ডি.আর নূরুল আমীন শহীদ হন এবং একজন পুলিশ নিহত হয়
বাড়ীওয়ালা নিজাম উদ্দিন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে মারা যান, অন্যান্যরা আহত অবস্থায় গ্রেফতার এড়ানগ্রেফতার এড়ানো ব্যক্তিদের মাঝে সন্দেহ করে উনাকে খুঁজতে থাকায় গোপন জীবনে চলে যান এবং টঙ্গী নিশাদ জুট মিলে শিশু বদলী শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ নেনএপ্রিল ১ম সপ্তাহে সেনা ও পুলিশ যৌথ বাহিনী টঙ্গী স্টেশন সংলগ্ন বাসায় গভীর রাতে হামলা চালায়সে সময় ৫টি রুমের সব বিপ্লবী শ্রমিকদের নিয়ে কৌশলে গ্রেফতার এড়ানপরদিন চাকুরী ছেড়ে এলাকা ত্যাগ করেন১০ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৩ এপ্রিল ১৯৭৫ সনে হালুয়াঘাট থানাধীন জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেনসে সময় হালুয়াঘাট থানার পুলিশ ও সশস্ত্র যুবলীগ যৌথভাবে  হামলা চালায়কয়েক ঘন্টা সশস্ত্র লড়াইয়ে অনেকে গ্রেফতার এড়ালেও ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ও উনি গ্রেপ্তার হনতিনি একনাগাড়ে ৮ বছর বন্দী জীবন কাটান১৯৭৮ সনে জেল জীবনে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল হতে এস.এস.সি (প্রাইভেট) ও ১৯৮৪ সনে আনন্দমোহন কলেজ হতে এইচএসসি পরীক্ষা দেন১৯৮৩ তে জেল থেকে মুক্তি পানইচ্ছা ছিল জেল থেকে মুক্ত হয়ে লেখাপড়া করবেনবাড়ি এসে দেখেন বাবার পাটের ব্যবসার পুঁজি এবং গ্রামের নিজেদের ফসলী জমি শেষ হয়ে গেছেবাধ্য হয়ে সংসারে হাল ধরতে স্থানীয় বাজারে কয়েক মাস মুদি দোকানদার হিসেবে ব্যবসা করেন

শম্ভুগঞ্জ জুট মিল বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি বদলে যায় এবং জুট মিলের শ্রমিকদের নিয়ে মিল রক্ষার জন্য আন্দোলন গড়ে তোলেন। বিপ্লবী রাজনীতির সংস্পর্শে তাঁর ব্যক্তি জীবনে যে উন্নত নৈতিকতা বোধের জন্ম হয়েছিল, সেই উপলব্ধিতে তিনি ৯০ দশকের শুরুতে পুনরায় বিপ্লবী ধারার অন্যান্য শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত হন এবং বস্তি গড়ে তোলা ও বস্তিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন৯২ সনে বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন দ্বিতীয় জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন৯৯ সনে বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনের মতাদর্শিক বিভক্তিতে দ্বিতীয় জাতীয় কমিটির পতাকা উর্ধ্বে তুলে ধরেনপরবর্তী এক দশকে কমিটির সবাই ব্যক্তি জীবনে চলে যাওয়ায় তিনি শূন্য দশক জুড়ে বিভিন্ন প্রতিকুলতার এবং প্রতি পদে হিঃস্রতা এড়িয়ে প্রবল দুঃখ কষ্টের মধ্যেও সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালন করেন এবং সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চে ২০১০ সনে যোগদান করেন এবং কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য নির্বাচিত হন১৯৭১ সনে প্রথম কবিতা লেখেন, প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৭৭ সনে ময়মনসিংহ কারাগারে বিপ্লবী বন্দীদের হাতের লেখা সংকলনেসম্ভবতঃ ১৯৮২ সনে দৈনিক দেশ পত্রিকায় প্রথম কবিতা ছাপা হয়

কমরেড সিরাজ সিকদারের সহযোদ্ধা, মাওবাদী আন্দোলনের নেতা ও বুদ্ধিজীবী, কবি, গীতিকার, প্রাবন্ধিক, আজীবন বিপ্লবী কমরেড এম. এ. মতিন গত ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর

No comments:

Post a Comment