Thursday, November 28, 2013

পুঁজিপতি বামনদের কালে অমৃতের বিশ্বকে তৈরির ডাক দিয়ে যাই




জীবনানন্দ দাশ
অনেক, অজস্র, অগণন মানুষ দেখি; সড়কে, অভারব্রিজে, ফুটপাথে, হাটে, বন্দরে, ঘাটে; লঞ্চে-বাসে-ট্রেনে। শুধু মানুষ মানুষ আর মানুষ। অনুন্নত পুঁজিবাদী দেশের ক্ষুদে বুর্জোয়া মালিকদের কাছে মানুষ হলো পণ্য উৎপাদনের যন্ত্র আর পণ্য ক্রয়ের প্রাণী। ক্ষুদে বুর্জোয়ারা কোনো আইন নিয়ম নীতি মানে না; তারা সমস্ত আইনকেই ৪২০ বা ফোরটুয়েন্টি ধারায় ফেলে হাজারো অপরাধে সর্বোচ্চ দু’চার মাস জেলের শাস্তি ভোগ করে বীরের বেশে বেরিয়ে পড়ে। এই অনুন্নত পুঁজিবাদের সবচেয়ে পশ্চাৎপদ নেতাদের কালে আমরা জন্মেছিলাম। এবং তার ফল হিসেবে দেখেছিলাম বামনদের মহামানব হিসেবে উপস্থাপনের নোংরা ব্যাধি।

কিন্তু এই কাপুরুষদের কালেও কিছু মানুষ জন্মেছিলেন যারা প্রাণপণে লড়াই করে এই রাষ্ট্রটিকে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের দিকে নিতে চেষ্টা করেছিলেন। মনুষ্যসৃষ্ট সকল বৈষম্য দূর করার জন্য শুধু লড়াই চালাননি, ফ্যাসিবাদী গণশত্রুদের অত্যাচারে প্রাণ পর্যন্ত দিয়েছিলেন। সেসব মহানদের জন্য জীবনানন্দ দাশ ‘অনেক মৃত বিপ্লবী স্মরণে’ কবিতায় লিখেছিলেন,
“গভীর-গভীরতর তবুও জীবন _
নিজেদের দীনাত্মা ব্যক্তির মত মনে ক’রে ওরা
সকলের জন্যে সময়ের
সুন্দর, সীমিত আলো সঞ্চারিত ক’রে দিতে গিয়ে
প্রাণ দিয়েছিল।”[১]

এই জটিল সময়ে আমরা গাছে-নদীতে-আকাশে বিপ্লবীদের নাম লিখতে গিয়ে দেখি শ্রেণিযুদ্ধের বাইরে আর কোনো আলো নেই। ২০১৩ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসজুড়ে প্রতিদিন শ্রমিক-কৃষকেরা ৮-১০ জন করে মারা যাচ্ছে পুঁজির থাবার নিষ্ঠুর বলি হয়ে, সেই সময়ে ঘৃণার চাকা আর ককটেল আর হাতবোমা-পেট্রোলবোমাগুলোকে ঘুরিয়ে দেয়া দরকার ছিল বুর্জোয়া-ফ্যাসিবাদী-প্রতিক্রিয়াশীল-গণশত্রু দ্বি-দলীয় লিগ-বিএনপির বুর্জোয়া একনায়কত্বের দিকে। আর সেই সুবিধাবাদী লেজুড়দের দিকে যারা একটু ক্ষমতার জন্য এই প্রতিক্রিয়াশীলদের সাথে মিলেছিল

কিন্তু শ্রমিক-কৃষকের সেইরাম কমিউনিস্ট পাট্টি কই যারা ঘোষণা দেবেন শ্রমিক-কৃষকেরা সাম্রাজ্যবাদের পোষা বুর্জোয়া-ফ্যাসিবাদী-প্রতিক্রিয়াশীল-গণশত্রু দ্বি-দলীয় লিগ-বিএনপির ককটেল আর আগুন আর হাতবোমা-পেট্রোলবোমার খাদ্য হবে না। বরং এই শ্রমিক-কৃষকেরা উৎখাত করবে সেই প্রতিক্রিয়াশীলদের আস্তানাকেই। গড়ে তুলবে সর্বহারার নেতৃত্বে শ্রমিকশ্রেণির একনায়কত্ব।  

আমাদের ভরসা এইখানে যে এখনো আমরা আছি; কেউ না কেউ লড়ছে। লড়াই থেমে থাকে না; যতদিন শ্রেণি আছে, শ্রেণিশোষণ আছে, ততদিন শ্রেণিসংগ্রাম আছে। যত খারাপ সময় হোক না কেন মানুষ গান গাইবেই; “আমরা মানুষ ঢের ক্রুরতর অন্ধকূপ থেকে/ অধিক আয়ত চোখে তবু ঐ অমৃতের বিশ্বকে দেখেছি”।[] ঐ সাম্যের বিশ্ব ডাকছে; এ-পৃথিবী শ্রমিকের; তারাই এ-পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তাসেই লড়াকু শ্রমিকেরা সবসময় আছেন; আর তাদের সাথে আছেন বিপ্লবীরা। আমরা আশাবাদী, কেননা; “জটিল অন্ধকার একদিন জীর্ণ হবে চূর্ণ হবে ভস্ম হবে/ আকাশগঙ্গা আবার পৃথিবীতে নামবে।”[৩]  

তথ্যসূত্র ও টিকাঃ
. জীবনানন্দ দাশ; ‘অনেক মৃত বিপ্লবী স্মরণে
.  জীবনানন্দ দাশ;  
. সমর সেন।

No comments:

Post a Comment