Tuesday, December 31, 2013

চলনবিলের পাখি শিকার, একজনের কারাদণ্ড



শিকারি মতিয়ার রহমান, ফটোটির লিংক এইখানে

চলনবিলের পাখি শিকার ও নাটোর জেলার বিভিন্ন স্থানে সুকৌশলে পাখি বিক্রির কাজে লিপ্ত মতিয়ার রহমান স্বপন। বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষবিভাগ, রাজশাহী এর কর্মীরা প্রায় তিনমাসের চেষ্টায় তাকে ২০ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তার ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। এই বিষয়ে পাখি ও বন্য প্রাণি বিশেষজ্ঞ মনিরুল খান বলেছেন ‘যাতে অন্য শিকারিরা পাখি শিকার করতে ভয় পায় সেজন্য এ-ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।’ রাজশাহীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্লা রেজাউল করিম তার ফেসবুকে এই তথ্য জানান। এছাড়াও তিনি লিখেছেন, ‘যার কাছে পাখি পাওয়া যাবে তাকে ধরতে হবে। এছাড়াও মনিটরিং বৃদ্ধি করা দরকার। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’
এক সময় রাজশাহী জেলার নাটোর মহকুমার তিন-চতুর্থাংশ, নওগাঁ মহকুমার রানীনগর ও আত্রাই থানা, পাবনা জেলার চাটমোহর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, বেড়া থানা, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ ও তাড়াশ থানা ও বগুড়া জেলার শেরপুর, নন্দীগ্রাম এলাকার বেশ কিছু এলাকা জুড়ে গঠিত চলনবিল অতিথি পাখির অভয়ারন্য। নানা কারণে চলনবিলের জলসীমা সংকুচিত হওয়ায় অতিথি পাখিদের অবাধে নিরাপদে বিচরণক্ষেত্র এলাকাও কমে গেছে। অতীতের মতো চলনবিলে চলতি শীত মৌসুমে অতিথি পাখির আগমন উদ্বেগজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশের অভাব, অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাকের ব্যাবহার, খাদ্যের অভাব, শৌখিন শিকারীর আগ্রাসনে চলনবিলাঞ্চলে শীত মৌসুমে অতিথি পাখির আগমনের হার ও উপস্থিতি অতীতের তুলনায় বর্তমানে কমে গেছে বহুগুণে। প্রবীণদের মতে জরুরিভাবে পাখি শিকারীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে একদিন এই চলন বিলে আর অতিথি পাখি দেখা যাবে না।
আরো পড়ুনঃ

Tuesday, December 24, 2013

অজয় ভট্টাচার্যের লেখা দশটি গান



অজয় ভট্টাচার্য (জুলাই, ১৯০৬ - ২৪শে ডিসেম্বর, ১৯৪৩) একজন বিখ্যাত বাঙালি কবি ও গীতিকার। তিনি কুমিল্লার শ্যামগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

অজয় ভট্টাচার্যের লেখা দশটি গান এখানে দেয়া হলও

.
তুমি যে গিয়াছ বকুল-বিছানো পথে
নিয়ে গেছ হায় একটি কুসুম
আমার কবরী হতে
নিয়ে গেছ হিয়া কী নামে ডাকিয়া
নয়নে নয়ন দিয়া
আমি যেন হায় ফেলে-যাওয়া-মালা
কূলহারা নদীস্রোতে
খেলাঘরে কবে ধূলির খেলায়
দুটি হিয়া ছিল বাঁধা
আমার বীণাটি তোমার বাঁশিটি
একসুরে ছিল সাধা
সে খেলা ফুরালো, সে সুর মিলালো,
নিভিলো কনক আলো;
দিয়ে গেছ মোরে শত পরাজয়
ফিরে এস জয়রথে।
___সুর ও শিল্পী -শচীন দেববর্মণ


.  
চৈত্র দিনের ঝরা পাতার পথে
দিনগুলি মোর কোথায় গেল, বেলা-শেষের শেষ আলোকের রথে।।
নিয়ে গেল কতই আলো কতই ছায়া,
নিল কানে-কানে-ডাকা নামের মনে-মনে-রাখা মায়া,
নিয়ে গেল বসন্ত সে
আমার ভাঙা কুঞ্জশাখা হতে।।
দূরে দূরে কোথায় আমার স্বপনখানি
কয়ে বেড়ায়, এই তো আমি,
প্রাণে প্রাণে চিরদিনের জানাজানি।।’
কোথায় আমার নয়ন-আলো
কোন প্রদীপের আলোর সনে কেমন করে সে মিলালো!
আবার সে কোন সুদূর বিপুল নভে
অস্তপারের দিনগুলি মোর নূতন ঊষার আলো হয়ে রবে,
আমায় ওরা চিনবে না গো,
চিনবো না আর আমি কোন মতে।
___সুর ও শিল্পী- পঙ্কজ কুমার মল্লিক; ছায়াছবি – ডাক্তার


.
ছিল চাঁদ মেঘের ওপারে বিরহীর ব্যথা লয়ে
বাঁশরীর সুর হয়ে কে গো আজ ডাকিল তারে, ছিল চাঁদ
ধরণীর ধুলি থেকে চামেলি এসে কহে ডেকে
এস প্রিয় আমারই দ্বারে------ছিল চাঁদ
চাঁদ কহে সুদূরে আমি মোর প্রেম জোছনা সে কেঁদে মরে তব বাসে
ওগো ফুল কেমনে নামি ---- চাঁদ কহে সুদূরে আমি
চামেলি কহিল তবে আমি যাই দূর নহি
ঝরিল সে ঝরিল পথের ধারে, ছিল চাঁদ... ...
___সুর হিমাংশু দত্ত, শিল্পী অনুপ ঘোষাল


.
জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল
মুখপানে যার কভু চাওনি ফিরে, কেন তারি লাগি আখি অশ্রু ব্যাকু
মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল জীবনে যারে কভু দাওনি মালা?

চিরদিন যারে তুমি দিয়েছো হেলা, হৃদয় লয়ে শুধু খেলোছো খেলা
বিরহে তারি আজি বলো গো কেন, শুন্য লাগে এই ধরণী বিপুল
মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল, জীবনে যারে কভু দাওনি মালা

আমিতো ছিলাম প্রিয় তোমারই কাছে, সেই বকুল তলে সেই চাঁদিনী রাতে
সেদিন কেন দিলেনাকো হায় যে মালাখানি ছিল তোমারই হাতে
মোর যত প্রেম মোর যত গান, চায়নিতো কভু কোনো প্রতিদান
আমি চিরতরে হায় যবে নিলাম বিদায়
তুমি বুঝেবি কি গো তব হৃদয়েরও ভুল, মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল।।
____সুর হিমাংশু দত্ত, শিল্পী অনুপ ঘোষাল


.
দুঃখে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার দুঃখ কি রে?
হাসবি তোরা বাঁচবি তোরা, মরণ যদি আসেই ফিরে।
অন্ধকারের শিশু তোরা আলোর তৃষায় মিছে ঘোরা,
আপন হৃদয় জ্বালিয়ে দিয়ে জ্বালবি সবার প্রদীপটিরে।।
তোদের প্রাণে বন্দি হয়ে কাঁদে ভুখা ভগবান।
মুখে তবু খেলার বাঁশি যখন বুকে রয় পাষাণ।
হেলায় হেসে নিলি মরণ তাইতো মরণ পেলো লাজ।
ধুলির সাথে মিশে তোরা সোনার মতো হলি আজ।।
এবার যে রে প্রভাত আসে, রাতের আঁধার গেল টুটে,
ভোরের আলোর তিলক প’রে বাহিরপানে আয় রে ছুটে।
দুঃখ তোদের জয়ের মালা দুঃখ হলো মুকুট শিরে।
বাঁধন হলো হাতের রাখী মুক্তি এলো নয়ন-নীরে।।


.
এ গান তোমার শেষ করে দাও      নূতন সুরে বাঁধো বীণাখানি।
আঁধার পথে যাত্রা এবার,            শেষ হয়েছে দিনের জানাজানি।।
কান্না হাসির দিনগুলো সব           একে একে হলো নীরব,
চির রাতের অজানা সুর              বাজাও তবে কঠিন আঘাত হানি।।
ডুবলো যদি একটি রবি              জ্বললো দিনের চিতা
নিভলো যদি একটি বাতি,           জ্বালাও দীপান্বিতা।
বাঁধলে যারে যায় না বাধা            তার লাগি আজ মিছেই কাঁদা,
পরাজয়ের দুঃখ কিরে,               তার মাঝে রয় জয়ের আশার বাণী।।


.
আমি ছিনু একা বাসর জাগায়ে
হৃদয়ের ব্যথা ছিল মিশে।
প্রদীপে শুধানু, ‘কিছু জান কি গো?’
শুধু সে কহিল, ‘সে যে মায়ামৃগ,
     কিছু তার আলো কিছু ঢাকা ছায়ে।’
কহিনু কাঁদিয়া, ‘যে গান পাঠানু
    শুনিলো না সে কি?’
দ্বার খুলে দেখি সে গান আমার  
    ফিরে এল এ কি!
কেতকী কহিল, ‘তারে কোথা পাই,
ফুটেছিনু পথে আজি ঝ’রে যাই,  
দিয়ে যাই কাঁটা দিও তার পায়ে।।’
_____ শিল্পী - শচীন দেববর্মণ

.  
আমার ব্যথার গানে তোমায় আমি
      ছুঁয়ে গেলাম বারে বারে
কেমন ক’রে ভুলবে তারে।।
     অশ্রু আমার বাদল হয়ে
     তোমায় কাঁদায় র’য়ে র’য়ে,
আমার জ্বালা প্রদীপ হয়ে
     জ্বলে তব অভিসারে।।

কণ্ঠমালায় হয় নি যে ঠাঁই
     পথপারের কুসুম আমি,
সুবাস দিয়ে তোমার পায়ে
           জানাই প্রণাম দিবসযামী।
      শেষ হয়েছে বিফল চাওয়া,
      এবার শুধু এড়িয়ে যাওয়া,
      যে নাম ছিল মনের মাঝে
            মুছে যাবে নয়নধারে।।


.
কথা কও দাও সাড়া;
শেষ রাগিণীর বীণ বাজে প্রাণে,
                ফুটেছে বিদায়-তারা।
       মনে পরে সব কাজে
তব মণিহার বিরহ রচিত
                নিশীথ শয়ন মাঝে,
আজ কোথা তুমি কত দূরে আমি
                হিয়া মোর হিয়া ছাড়া।
আমার গানের একটি কথা যে
               ভালবেসেছিলে কত,
শত গান আজি গাহি আর ভুলি
               ভুলি না তো ব্যথা যত।
       আজো মোর মনে পড়ে
আমার কাঁদনে কাঁদিয়াছ তুমি
                তবু কেন গেলে সরে;
ভুল নিয়ে বুঝি হয়েছিল শুরু
                ভুলে তাই হলো সারা।।


১০.
সে নিল বিদায়
         না-বলা ব্যথায়
আমি ছিনু অভিমানে
         রজনীগন্ধা জানে
সে কেন তাহারে
         সাধিল না হায়!
ছিল মোর চোখে জল
         দেখি নি যাবার আগে,
যূথী কেন কহিল না, -
         ‘যেও না, শপথ লাগে।’
পথে তৃণদল ছিল
         সে কেন রে যেতে দিল,
ফুটিল না কেন নিঠুরের পায়।।


উপরের এই গান দশটির কথা তিনি লিখেছিলেন। আর নিচের গানের তালিকাতে যেগুলো আছে সেসব গানও লিখেছিলেন অজয় ভট্টাচার্য। তবে নিচের তালিকার সব গানগুলো গেয়েছেন শচীন দেববর্মণ।

এই মহুয়া বনে [কথা: অজয় ভট্টাচার্য]
ওরে বন্ধুরে মনের কথা [কথা: অজয় ভট্টাচার্য]
কথা কও দাও সাড়া [কথা: অজয় ভট্টাচার্য]
কাঁদিবো না ফাগুন গেলে [কথা: অজয় ভট্টাচার্য]
তুমি যে ছিলে মোর [কথা: অজয় ভট্টাচার্য]
তোমার সাথে সুরে পরিচয় [কথা: অজয় ভট্টাচার্য]
ফুলের বনে থাকো ভ্রমর [কথা: অজয় ভট্টাচার্য]
Aalo chhaaya dolaa [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Aamaar milan maalati [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Baansuriya rey [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Badhoon eso madhu raate ... [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Bolo bolo bolo bandhu [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Champak jaago jaago [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Godhulir chhayapathey [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Jaago mon saheli go [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Jhan jhan jhan manjiraa [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Kanthey tomaar dulbey boley [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Ke jaabi chal brindaaboney [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Megh jharey jay [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Momo mandirey eley ke [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Mono dukkhey mori rey [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Natun phaagun jabey [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Paradeshey keno go [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Phooler boney thaako bhramar [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Pohaalo raati jaagiyaa [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Prem jamunaar paarey [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Priyo aajo nay [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Saaji nawal kishore [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Swapan dekhechhey [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]
Tumi ni aamaar bandhu [Lyricist : Ajoy Bhattacharya]

Recommended