Sunday, December 01, 2013

জনগণ কী প্রতিক্রিয়াশীল লিগ-বিএনপি’র রাজনীতির জ্বালানি?




জ্বলছে আগুন, পুড়ছে জনগণ
শ্রমিক-কৃষক পুড়ছে, কাজের প্রয়োজনে বের হওয়া অসহায়েরা মরছে; গত এক সপ্তাহে লাশের সংখ্যা প্রায় ৩০এই মৃত্যুর মিছিলকে ঘুরিয়ে দিন প্রতিক্রিয়াশীল লিগ-বিএনপিকে উৎখাতের দিকে, নতুবা লাশ বাড়তেই থাকবে।

গত ১ বছরের ইতিহাসের দিকে একটু তাকাই। রানা প্লাজায় ধ্বস হয়েছিল, আগুন লেগেছিল তাজরিন গার্মেন্টসে। লাশ হয়েছিলেন হাজার হাজার। ২ মে, ২০১৩ তারিখে মাত্র একদিনের হরতাল দিয়েছিলেন, কিছু গণতন্ত্রী, সমাজ-গণতন্ত্র, বামপন্থী, সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্টরা। সাথে সাথেই প্রতিক্রিয়াশীল লিগ-বিএনপির সমর্থকেরা সেই হরতালের বিরুদ্ধে উঠে-পড়ে লেগেছিল। আর সেই হরতালটি স্থগিত করেছিলেন সেই দলগুলোর নেতৃবৃন্দ। সেই হরতাল আর তারা ডাকলেন না। সময় গড়িয়ে গেল।

২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর ও ১৬ জানুয়ারি ২০১৩তে মোট ২টি হরতাল করেছিলেন গণতন্ত্রী, সমাজ-গণতন্ত্রী, বামপন্থী, সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্টরা। সেই হরতাল দুটির বিরুদ্ধেও প্রতিক্রিয়াশীল লিগ-বিএনপি খুব চেঁচিয়েছিল।

নভেম্বর মাসের প্রায় পনের দিন দেশ হরতাল-অবরোধের ভিতর আছে। প্রতিক্রিয়াশীলরা খুব অস্বস্তিতে আছে। লিগের ক্ষমতা নড়বড়ে হচ্ছে; বিএনপি জনগণ থেকে পুরো বিচ্ছিন্ন। তাদের ভাড়াটে গুন্ডা ছাড়া জনগণের একাংশও লিগ-বিএনপির পক্ষে নেই। ফলে এই দ্বি-দলীয় স্বৈরতন্ত্র চালু রাখতে ভাড়াটে খুনি ও পুলিশকে কাজে লাগাচ্ছে লিগ-বিএনপি।

এরকম পরিস্থিতিতে সিপিবি-বাসদ সাম্রাজ্যবাদের পরীক্ষিত বন্ধু কামাল হোসেন ও ডানপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল মাহমুদুর রহমান মান্নার সাথে একত্রে মিছিল পর্যন্ত করে ডানদিকে ঝুঁকে পড়েছে।

আর জনগণ আগুনে পুড়ছে। ... ... ১৯৭২ সাল থেকে বৃহত্তর বাম ঐক্য করে কার্যকরী প্রতিরোধ বামপন্থিরা গড়ে না তোলার কারণে দেশে পুরো ৭০ দশকে রক্তগঙ্গা বয়ে যায়। কমিউনিস্ট ও বামপন্থিদের সামান্যতম ভুলও আবার দেশের জনগণকে রক্তপাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। প্রতিক্রিয়াশীল লিগ-বিএনপি রক্তপাতের ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ক্ষমতায় যেতে ও ক্ষমতায় থাকতে চায়।

এই সন্ত্রাসের রাজত্বের ষড়যন্ত্রকে ছিন্ন করে এগিয়ে যাওয়ায় এখন কমিউনিস্টদের কাজ। আর সে- কাজে প্রধান বাধা দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ। শান্তি, নিরাপত্তা, খাদ্য ও কাজের দাবিতে কমিউনিস্ট, সমাজতন্ত্রী, বামপন্থি, সমাজ-গণতন্ত্রী ও গণতন্ত্রীদের পক্ষ থেকে একটি দৃশ্যমান কর্মসূচি (হরতাল বা তার চেয়েও কঠোর অন্য কোনো কর্মসূচি) ও তার পরদিন ঢাকা শহরে জনগণকে রাস্তায় নেমে কমিউনিস্টদের পক্ষে দাড়ানোর জন্য কাজ করতে আহবান জানাই।

দৃশ্যমান কর্মসূচি কমিউনিস্টরা না দিলেও এ-পরিস্থিতিতে মানুষ মরতেই থাকবে। কমিউনিস্টদের সঠিক রাজনৈতিক কর্মসূচিই প্রতিক্রিয়াশীল লিগ-বিএনপির সকল ষড়যন্ত্রকে রুখতে পারে।

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended