Sunday, December 22, 2013

অজয় ভট্টাচার্য, বাংলা আধুনিক রোমান্টিক গানের গীতিকার









অজয় ভট্টাচার্য (জুলাই, ১৯০৬ - ২৪শে ডিসেম্বর, ১৯৪৩) একজন বিখ্যাত বাঙালি কবি ও গীতিকার। তিনি কুমিল্লার শ্যামগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী। কৃতি ছাত্ররূপে তিনি ১৯২৯ সালে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান এবং ১৯৩৪ সাল থেকে জীবিকার জন্য চলে আসেন কলকাতায়।
চলচ্চিত্র ও গ্রামোফোন রেকর্ডউভয় ক্ষেত্রেই তাঁর লেখা গান সাড়া জাগিয়েছিল। হিমাংশু দত্ত সুরসাগরের সুরে তাঁর লেখা গান চল্লিশ দশকের কলকাতার সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে বিপুল সাড়া জাগায়। বাংলা সবাক চলচ্চিত্রের শুরু থেকেই তাঁর লেখা গান রাইচাঁদ বড়াল, পঙ্কজ মল্লিক, শচীন দেববর্মণ ও অনুপম ঘটকের সুরে সারা দেশে বারে বারে উচ্চকিত হয়ে ওঠে। এর ফলে চিত্রজগতের সাথে তাঁর অন্যতর সম্পর্ক স্থাপিত হয়। চলচ্চিত্রের কাহিনী ও সংলাপ রচনায় মন দেন তিনি। অধিকার, শাপমুক্তি, নিমাই সন্ন্যাস, মহাকবি কালিদাস ইত্যাদি চলচ্চিত্রের কাহিনী বা সংলাপ লেখেন। অশোকছদ্মবেশী নামের দুটি চলচ্চিত্রও তিনি পরিচালনা করেন
তিনি দুই হাজারেরও বেশি গান লিখেছিলেন। সেসব গানে বেদনাবিধুর প্রণয়-স্বপ্নের মহিমা এবং রোমান্টিক বাসনা-বিলাসের দোলাচল গীত-রসিক সমাজে সাড়া জাগায়। তাঁর অনেক গান আমাদের আশাবাদী করে তোলে। দুঃখের ভেতরে থেকেও তিনি আশার প্রদীপ জ্বেলে রাখেন। ‘দুঃখে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার দুঃখ কি রে?’ গানটিতে তিনি বলেছেন, ‘হাসবি তোরা বাঁচবি তোরা, মরণ যদি আসেই ফিরে।’ তবে তাঁর আশাবাদ আমাদের বিদ্রোহী হতে সাহায্য করে না। বরং তাঁর আশাবাদ আমাদের কাছে হয়ে ওঠে এক রোমান্টিক মনোবেদনা। তিনি দুঃখকে বরণ করতে আমাদেরকে সাহসী করেন; কিন্তু দুঃখের কারণগুলোকে উপড়ে ফেলার জন্য পথ বাতলে দেন না। বাঙালি মধ্যবিত্তের প্রেম, আশা আর মনোবেদনার কানাগলিতে তাঁর ঘোরাফেরা। বাংলা গণসংগীতের দিকে তিনি যেতে পারেননি। জনগণের মুক্তিসংগ্রাম আর স্বাধীনতার আলো তিনি গানে আনতে হয়তো পারেননি। অথচ তাঁর গানে আলো শব্দটি বহুলব্যবহৃত। এই আলো দ্বীপশিখা হয়ে বন্ধুর মনে জ্বালানোর জন্যে। বাঙালি মধ্যবিত্তের বিরহ-বিধুর ছিঁচ-কাঁদুনে যন্ত্রণার চিহ্ন ছড়িয়ে আছে এই বিখ্যাত গীতিকারের গানে।   
তাঁর প্রখ্যাত গানগুলি পরে অনেকগুলি সংকলন আকারে প্রকাশিত হয়। এদের মধ্যে শুকসারি, সুরের লিখন, একদিন যবে গেয়েছিল পাখি, আজো ওঠে চাঁদ, আমার দেশে যাইও সুজন, যদি মনে পড়ে সেদিনের কথা, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তিনি বেশ কিছু কবিতাও লিখেছিলেন তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ রাতের রূপকথা, ঈগল ও অন্যান্য কবিতা, সৈনিক ও অন্যান্য কবিতা, ইত্যাদি। ১৯৪৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর তাঁর প্রয়াণ ঘটে।
উল্লেখ্য অজয় ভট্টাচার্যের কোনো ফটো আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি। কারো কাছে থাকলে দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

No comments:

Post a Comment