Friday, December 20, 2013

বাতাবি কাঠকুড়ালি বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি




বাতাবি কাঠকুড়ালি, মেয়ে, ফটো: রেজাউল হাফিজ রাহী
দ্বিপদ নাম: Dendrocopos macei  
সমনাম: Picus macei Vieillot, ১৮১৮
বাংলা নাম: বাতাবি কাঠকুড়ালি 
ইংরেজি নাম: Fulvous-breasted Woodpecker, (Fulvous-breasted Pied Woodpecker).

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Picidae
গণ/Genus: Dendrocopos, Koch, 1816;
প্রজাতি/Species: Dendrocopos macei (Vieillot, 1818)
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকাDendrocopos গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ২২টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতি তিনটি হচ্ছে; ১. মেটেটুপি বাটকুড়ালি, ২. বাতাবি কাঠকুড়ালি ও ৩. হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালি। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে বাতাবি কাঠকুড়ালি
বর্ণনা: বাতাবি কাঠকুড়ালি কালো কাঁধ-ঢাকনি পড়া পাকরা কাঠঠোকরা (দৈর্ঘ্য ১৯ সেমি, ওজন ৪৫ গ্রাম, ডানা ১০.৫ সেমি, ঠোঁট ২.৩ সেমি, পা ১.৮ সেমি, লেজ ৬.৫ সেমি)প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহতল কালচে সরু ডোরা সমেত পীতাভ লাল-বাদামি; কাঁধ-ঢাকনি কালো; ডানা-ঢাকনিতে সাদা কালো ডোরা আছে; বুকে ও লালচে অবসারণীতে আবছা কালো ডোরাসহ ঘাড়ের উপরিভাগ ও গলা একই রকম ফ্যাকাসে লাল-বাদামি দেখায়এর চোখের ও ঘাড়ের মাঝের ডোরা কালো; ঠোঁটের রঙ দুরকমের: ঠোঁটের উপরের অংশ শিঙ-বাদামি ও নিচের ভাগ ফ্যাকাসে-স্লে, আগা কালচে; চোখ লালচে-বাদামি, পা ও পায়ের পাতা সবুজাভ-স্লেট এবং পায়ের তলা সাদাছেলে মেয়েপাখিতে বড় পার্থক্য মাথার চাঁদিতে: ছেলেপাখির চাঁদি লাল ও মেয়েপাখির চাঁদি কালোঅপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহ ফ্যাকাসে ও অবসারণী পাটল বর্ণের৫টি উপ-প্রজাতির মধ্যে D. m. macei বাংলাদেশে পাওয়া যায়
স্বভাব: বাতাবি কাঠকুড়ালি খোলা বন, বনপ্রান্ত, পত্রবহুল খোলা বন, লোকালয় ও রাস্তার ধারের গাছে বিচরণ করে; সাধারণত একটিমাত্র ছোট গাছেই সপরিবারে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যায়গাছের বাকলের ফাঁক থেকে এরা আহার সংগ্রহ করে; খাদ্যতালিকায় আছে পোকা, পিউপা, বিছা, পিঁপড়ার ডিম, ফুলের মধু, বাকলের রস, ইত্যাদিখাওয়ার সময় এরা কোমল সুরে ডাকে: পিক...পিক..; প্রতিবাদ করার জন্য জোরে ডাকে: পিক-পিপিপিপিপিপিপিপিপি..এপ্রিল-মে মাসে প্রজনন ঋতুতে ছেলেপাখি মেয়েপাখির পাশে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে ও ঘাড় দু পাশে নাড়ায়; এবং ছোট গাছে বা শাখায় গর্ত খুঁড়ে বাসা বানালে মেয়েপাখি ডিম পাড়েডিমের সংখ্যা ৩-৫টি, মাপ ২.২ × ১.৬ সেমি
বিস্তৃতি: বাতাবি কাঠকুড়ালি বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি; সব বিভাগের খোলা বন, গ্রাম ও শহরে পাওয়া যায়ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কাম্পুচিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে
অবস্থা: বাতাবি কাঠকুড়ালি বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিতবাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত
বিবিধ: বাতাবি কাঠকুড়ালির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ম্যাসির কাঠুরে (গ্রিক : dendron = গাছ, kopos = চূর্ণ; macei = এম. ম্যাসি, ১৭৫০ সালে ভারতে ভ্রমণকারী ফরাসি নাগরিক)
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান


আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ 

No comments:

Post a Comment