Friday, December 20, 2013

মেটেটুপি বাটকুড়ালি বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি




মেটেটুপি বাটকুড়ালি, ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Dendrocopos canicapillus
সমনাম: Picus canicapillus Blyth, ১৮৪৫
বাংলা নাম: মেটেটুপি বাটকুড়ালি
ইংরেজি নাম: Grey-capped Pygmy Woodpecker

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Picidae
গণ/Genus: Dendrocopos, Koch, 1816;
প্রজাতি/Species: Dendrocopos canicapillus (Blyth, ১৮৪৫)
বাংলা নাম: মেটেটুপি বাটকুড়ালি
ইংরেজি নাম: Grey-capped Pygmy Woodpecker
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকাDendrocopos গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ২২টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতি তিনটি হচ্ছে; ১. মেটেটুপি বাটকুড়ালি, ২. বাতাবি কাঠকুড়ালি ও ৩. হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালি। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে মেটেটুপি বাটকুড়ালি
বর্ণনা: মেটেটুপি বাটকুড়ালি বড় সাদা ভ্রু-রেখা আঁকা খুদে কাঠঠোকরা (দৈর্ঘ্য ১৪ সেমি, ডানা ৮.৭ সেমি, ঠোঁট ১.৭ সেমি, পা ১.৪ সেমি, লেজ ৪ সেমি)প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ সাদা ডোরাসহ কালচে; দেহতল বাদামি ডোরাসমেত হালকা খয়েরি; চাঁদি ও কপাল মলিন ধূসর; প্রশস্ত সাদাটে ভ্রু-রেখা ছিটা-দাগের মত ঘাড়ের পাশে নেমে গেছে; ডানায় প্রশস্ত কালো ও সাদা ডোরা; লেজ-ওপর-ঢাকনি ও কোমর কালো; কালো ডোরাসহ থুতনি ও গলা সাদাটেএর ঠোঁটের কিছুটা শিঙরঙা-বাদামি ও কিছুটা ফ্যাকাসে; চোখ লালচে-বাদামি, পা ও পায়ের পাতা ফ্যাকাসে ও নখর বাদামিছেলে মেয়েপাখির মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে: ছেলেপাখির মাথার দু পাশে লাল দাগ ও মেয়েপাখির দাগ কালো১১টি উপ-প্রজাতির মধ্যে D. c. canicapillus কেবল বাংলাদেশে আছে
স্বভাব: মেটেটুপি বাটকুড়ালি প্যরাবন, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অর্ধ-চিরসবুজ বন, পহাড়ি বন ও বাগানে বিচরণ করে; একা অথবা জোড়ায় চড়ে বেড়াতে দেখা যায় গাছের বাকল জড়িয়ে ধরে ও চিকন ডালে ঠোঁকর দিয়ে এরা আহার সংগ্রহ করে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে পিঁপড়া, পোকামাকড়, ফলের ত্বক ও ফুলের মধুকয়েকটি ওপরমুখি ডালার মিলনস্থলে এরা রাতে থাকে ও খোলা গাছের ডালে জড়িয়ে ধরে সকালে রোদ পোহায়একটি মাত্র ম্রিয়মাণ সুরে ডাকে: কিক..; এবং তা ছাড়া গাছের ফাঁপা মগডালে আঘাত করে হালকা আওয়াজে ড্রাম বাজায়: টিট-টিট-এরররররর...এপ্রিল-মে মাসের প্রজনন ঋতুতে খাড়া চিকন ডালে গর্ত খুঁড়ে এরা ডিম পাড়েডিমগুলো সাদা; সংখ্যায় ৪-৫টি; মাপ ১.৮ × ১.৪ সেমি ১২-১৩ দিনে ডিম ফোটে
বিস্তৃতি: মেটেটুপি বাটকুড়ালি বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি; চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা এবং সিলেট বিভাগের পাতাঝরা ও চিরসবুজ বনে এবং প্যারাবনে বিচরণ করেভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, চিন ও কোরিয়াসহ দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে
অবস্থা: মেটেটুপি বাটকুড়ালি বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিতবাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত
বিবিধ: মেটেটুপি বাটকুড়ালির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ মেটেটুপি কাঠুরে (গ্রিক : dendron = গাছ, kopos = চূর্ণ; ল্যাটিন: canus = মেটে, capillus = টুপি)
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান  


আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended