Saturday, December 21, 2013

মেটেমাথা কাঠকুড়ালি বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি



মেটেমাথা কাঠকুড়ালি, ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Picus canus Gmelin, 1788
সমনাম: নেই
বাংলা নাম: মেটেমাথা কাঠকুড়ালি
ইংরেজি নাম: Grey-headed Woodpecker.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Picidae
গণ/Genus: Picus, Linnaeus, 1758;
প্রজাতি/Species: Picus canus  Gmelin, 1788
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকাPicus গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৫টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ১৫টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতি চারটি হচ্ছে, ১. মেটেমাথা কাঠকুড়ালি,. ছোট হলদেকুড়ালি, ৩. বড় হলদেকুড়ালি  . দাগিবুক কাঠকুড়ালি ও ৫. দাগিগলা কাঠকুড়ালি। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে মেটেমাথা কাঠকুড়ালি
বর্ণনা: মেটেমাথা কাঠকুড়ালি ছোট আকারের সবুজ কাঠঠোকরা (দৈর্ঘ্য ৩২ সেমি, ওজন ১৪০ গ্রাম, ডানা ১৪.৩ সেমি, ঠোঁট ৯ সেমি, পা ২.৯ সেমি, লেজ ১০.৫ সেমি)প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ সবুজাভ; দেহতল একই রকম ধূসরাভ-সবুজ; কালচে-বাদামি ডানার পালকের শলাকায় সাদা ডোরা; লেজ কালো; মাথার পাশ ধূসর; গলা থেকে ঠোঁটের নিচের ভাগে কালো ডোরা; ধূসরাভ-ছাই বর্ণের থুতনি ও গলা; ধূসর অবসারণীসহ দেহতল ধূসর-সবুজ; ঠোঁটের ফ্যাকাসে সঙ্গমস্থলসহ ঠোঁট শিং-কালো বা নীলচে-স্লেট রঙা; চোখ গাঢ় লাল-বাদামি ও নখর শিং-বাদামি ছেলেপাখির কপাল ও চাঁদির সামনের ভাগ উজ্জ্বল লাল এবং চাঁদির পিছনের অংশ ও ঘাড় কালোমেয়েপাখির কপাল, চাঁদি ও ঘাড় কালো, মধ্যে ধূসর ছিটা-দাগ আছে অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ বেশ ধূসর ও দেহতল ডোরাসহ সাদা১২টি উপ-প্রজাতির মধ্যে P. c. hessei বাংলাদেশে রয়েছে
স্বভাব: মেটেমাথা কাঠকুড়ালি অর্ধ-চিরসবুজ ও নাতিশীতোষ্ণ বনভূমি, পাতাঝরা বা মিশ্র কনিফার বন, প্যারাবন ও গাছগাছালি সমৃদ্ধ বাগানে বিচরণ করে; একাকী অথবা জোড়ায় দেখা যায়মাটির ঢিবিতে অথবা গাছের বাকলে ঠোঁট ঢুকিয়ে এরা খাবার খোঁজে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে পিঁপড়া, উইপোকা, লার্ভা, কাঠ ছিদ্রকারী পোকার পিউপা, ফল ও ফুলের মধুভোরে ও গোধূলিতে এরা বেশি কর্মচঞ্চল থাকে; মাঝে মাঝে উচ্চকণ্ঠে ডাকে: পীক, পীক, পীক, পীক..মে-জুন মাসের প্রজনন ঋতুতে গাছের ফাঁপা ডালে আঘাত করে এরা ড্রাম বাজায়; এবং বনপ্রান্তে গাছের কাণ্ডে গর্ত খুঁড়ে বাসা তৈরি করে ডিম পাড়েডিমগুলো সাদা, সংখ্যায় ৪-৫টি, মাপ ২.৯×২.২ সেমিছেলে মেয়ে উভয়ই বাসার সব কাজ করে
বিস্তৃতি: মেটেমাথা কাঠকুড়ালি বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি; চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের বনে দেখা যায়চিন ও হিমালয়সহ ইউরোপ থেকে শুরু করে সাইবেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চল হয়ে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে
অবস্থা: মেটেমাথা কাঠকুড়ালি বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিতবাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত
বিবিধ: মেটেমাথা কাঠকুড়ালির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ধূসর কাঠঠোকরা (গ্রিক : pikos = কাঠঠোকরা, ল্যাটিন: canus = ধূসর )
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান  


আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা  

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment