Wednesday, December 04, 2013

নীলমাথা হাঁস বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী পাখি




নীলমাথা হাঁস, ছেলে ও মেয়ে, ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Anas platyrhynchos
সমনাম: নেই
বাংলা নাম: নীলমাথা হাঁস, নীলশির (আই)
ইংরেজি নাম: Mallard  

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Anatidae
গণ/Genus: Anas, Linnaeus, 1758;
প্রজাতি/Species: Anas platyrhynchos Linnaeus, 1758
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকা Anas গণে বাংলাদেশে রয়েছে ১০টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ৪২টি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশর নিম্নোক্ত ১০টি প্রজাতি হচ্ছে ১. উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস, ২. উত্তুরে খুন্তেহাঁস, ৩. পাতি তিলিহাঁস, ৪. ফুলুরি হাঁস, ৫. বৈকাল তিলিহাঁস, ৬. ইউরেশীয় সিঁথিহাঁস, ৭. নীলমাথা হাঁস, ৮. দেশি মেটেহাঁস, ৯. গিরিয়া হাঁস ও ১০. পিয়াং হাঁস। আমাদের আলোচ্য হাঁসটির নাম নীলমাথা হাঁস।
বর্ণনা: নীলমাথা হাঁস বড় আকারের হালকা বাদামি হাঁস (দৈর্ঘ্য ৫৭ সেমি, ওজন ১.২ কেজি, ডানা ২৭ সেমি, ঠোঁট ৫ সেমি, পা ৪.২ সেমি, লেজ ৯ সেমি) ছেলেহাঁসের চেহারা ও আকার মেয়েহাঁসের থেকে কিছুটা আলাদাপ্রজননকালে ছেলেহাঁসের গায়ের রঙ গাঢ় ধূসর; মাথা ও ঘাড় গাঢ় সবুজ; বুক বেগুনি-বাদামি; গলায় সাদা বলয়, কালো পালকের লেজ ওপর দিকে বাঁকানো, ডানায় নীল পতাকা; ও কমলা পাপ্রজননকাল ছাড়া পুরুষ অনেকটা মেয়েহাঁসের মত মেয়েহাঁসের দেহে বাদামি বর্ণের ওপর কালো ডোরা; বাদামি চোখ; ঠোঁট কালচে-সবুজ বা হলুদ, ঠোঁটের গোড়া হলুদ ও আগা কালো; পা ও পায়ের পাতা কমলা-হলুদ থেকে প্রবাল-লাল এবং নখর কালোঅপ্রাপ্তবয়স্ক হাঁস মেয়েহাঁসের মত হলেও তার দেহ অনুজ্জ্বল এবং অল্প সংখ্যক দাগ আছে৫টি উপ-প্রজাতির মধ্যে A. P. platyrhynchos বাংলাদেশে পাওয়া যায়
স্বভাব: নীলমাথা হাঁস অগভীর হ্রদ, নদী, পুকুর ও পার্কে স্বচ্ছন্দে ঘুরে বেড়ায়; সাধারণত ঝাঁক বেঁধে চলেএরা মাথা পানিতে ডুবিয়ে খাবার খোঁজে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে জলজ লতাপাতা, বীজ, কচিকা-, শামুক-জাতীয় অমেরুদণ্ড প্রাণী, ব্যাঙাচি, মাছের রেণু পোনা, কেঁচো, ইত্যাদিখাবার প্রাপ্তির ওপর ভিত্তি করে এরা দিনে অথবা রাতে চরে; ভয় পেলে পানিতে ডুব দিয়ে লুকিয়ে যায় কিন্তখাবার খুজঁতে ডুব দেয় নাএপ্রিল-জুলাই মাসের প্রজনন ঋতুতে পুরুষ হাঁস লোহা ঘসার শব্দের মত নিচু স্বরে ডাকে: কিউয়্যাক-কিউয়্যাক...; স্ত্রীহাঁসডাকে: টিউকাটা-টিউকাটা...সাইবেরিয়ায় পানির ধারে ঘাস, লতাপাতা ও কোমল পালকের বাসা করে এরা ডিম পাড়েডিমগুলো সবুজাভ-ধূসর, সংখ্যায় ৬-১০টি, মাপ ৫.৬ × ৪.০ সেমি২৬ দিনে ডিম ফোটে; সংসারের সব কাজ স্ত্রীহাঁস একাই করে
বিস্তৃতি: নীলমাথা হাঁস বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী পাখি; শীতে বরিশাল, ঢাকা এবং সিলেট বিভাগের হাওর ও বিলে দেখা যায়উত্তর আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ায় এরা বিস্তৃত; এশিয়া মহাদেশে পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, আরব, চীন ও জাপানে আছে; সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজল্যান্ডে বিস্তৃতির সূচনা হয়েছে
অবস্থা: নীলমাথা হাঁস বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিতবাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত
বিবিধ: নীলমাথা হাঁসের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ চওড়াঠোঁট হাঁস (ল্যাটিন: Anas = হাঁস; গ্রীক: platyrhynkhos = প্রশস্ত ঠোঁট )এই প্রজাতিটি আমাদের গৃহপালিত হাঁসের পূর্বপুরুষ

No comments:

Post a Comment