Friday, December 20, 2013

খয়রা কাঠকুড়ালি বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি



খয়রা কাঠকুড়ালি, ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Celeus brachyurus
সমনাম: Picus brachyurus Vieillott, 1818
বাংলা নাম: খয়রা কাঠকুড়ালি
ইংরেজি নাম: Rufous Woodpecker.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Picidae
গণ/Genus: Celeus, Boie, 1831;
প্রজাতি/Species: Celeus brachyurus (Vieillott, 1818)
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকাCeleus গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ১টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ১২টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত ও আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে; খয়রা কাঠকুড়ালি
বর্ণনা: খয়রা কাঠকুড়ালি লালচে বাদামি শরীরে কালো ডোরা পড়া কাঠঠোকরা (দৈর্ঘ্য ২৫ সেমি, ওজন ১০৫ গ্রাম, ডানা ১২.৫ সেমি, ঠোঁট ২.৮ সেমি) প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠের স্পষ্ট কালো পাথালি ডোরা ছাড়া দেহের পূরোটাই লাল-বাদামি মেশানো; মাথার চূড়া লোমশ এবং কাঁধ-ঢাকনি, ডানা, লেজ ও বগলে কালো পাথালি ডোরা রয়েছে; গলার পালকে ফ্যাকাসে প্রান্তদেশ থাকায় আঁইশের মত দেখায়এর চোখের তলে অর্ধ-চন্দ্রাকৃতির উজ্জ্বল লাল পট্টি আছে; চোখ বাদামি-লাল; মুখ ধূসর-পাটল; ঠোঁট কালো; পা ও পায়ের পাতা নীলচে-সবুজ এবং নখর কালোমেয়েপাখির কান-ঢাকনি ফ্যাকাসে-পীতাভ; এবং ছেলেপাখির তুলনায় মেয়ে কিছুটা ছোটঅপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির বুকে ও তলপেটে স্পষ্ট পাথালি ডোরা ও অর্ধ-চন্দ্রাকৃতি দাগ থাকে৯টি উপ-প্রজাতির মধ্যে C. b. phaioceps বাংলাদেশে আছে
স্বভাব: খয়রা কাঠকুড়ালি আর্দ্র পাতাঝরা বন, শালবন, বাঁশবন, বাগান ও লোকালয়ে বিচরণ করে; একা বা জোড়ায় দেখা যায়গাছের বাকল, পিঁপড়ার বাসা অথবা উইপোকার ঢিবি থেকে খাবার সংগ্রহ করে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে পিঁপড়া, উইপোকা, পিউপা, বন্য ডুমুর এবং ফুলের মিষ্টি রসজোড়ার পাখির সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য এরা নাকি সুরে ডাকে: কুয়িন-কুয়িন-কুয়িন..এপ্রিল-মে মাসে প্রজনন ঋতুতে ছেলেপাখিরা গাছে আঘাত করে ড্রাম বাজায় এবং দ্রুত ওড়ে ডানায় ভন ভন আওয়াজ তোলেএরা সাধারণত গাছে পিঁপড়ার বাসার একাংশ খুঁড়ে নিজেদের বাসা বানিয়ে ডিম পাড়েডিমগুলো সাদা, সংখ্যায় ২-৩টি; মাপ ২.৮×২.০ সেমি
বিস্তৃতি: খয়রা কাঠকুড়ালি বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি; সব বিভাগের চিরসবুজ, পাতাঝরা বন এবং গ্রামীণ কুঞ্জবনে দেখা যায়চিন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে
অবস্থা: খয়রা কাঠকুড়ালি বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিতএই প্রজাতিটিকে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয় নি
বিবিধ: খয়রা কাঠকুড়ালির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ খাটো-লেজ সবুজ কাঠঠোকরা (গ্রীক : keleos = সবুজ কাঠঠোকরা , brakhus = ছোট , ouros = লেজ ওয়ালা )
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান


আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা  

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ  

No comments:

Post a Comment