Friday, December 13, 2013

ছোট নাটাবটের বাংলাদেশের প্রাক্তন আবাসিক পাখি



ছোট নাটাবটের ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Turnix sylvatica
সমনাম: Tetrao sylvaticus Desfontaines, 1787
বাংলা নাম: ছোট নাটাবটের, ছোট বটের (আলী)
ইংরেজি নাম: Kurrichane Buttonquail (Small Buttonquail)

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Turnicidae
গণ/Genus: Turnix, Bonnaterre, 1791;
প্রজাতি/Species: Turnix sylvatica (Desfontaines, 1787)
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকাTurnix বা নাটাবটের গণে রয়েছে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ১৫টি প্রজাতি। বাংলাদেশের প্রজাতি তিনটি হচ্ছে; ১. দাগি নাটাবটের,. ছোট নাটাবটের ও ৩. হলদেপা নাটাবটের। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে ছোট নাটাবটের
বর্ণনা: ছোট নাটাবটের খাটো, সুচালো লেজওয়ালা খুদে ভূচর পাখি (দৈর্ঘ্য ১৩ সেমি, ওজন ৪০ গ্রাম, ডানা ৭ সেমি, ঠোঁট ১ সেমি, পা ২ সেমি, লেজ ৩.৫ সেমি)মেয়েপাখি ছেলেপাখির চেয়ে বড় কিন্তু দেখতে অভিন্ন প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ লালচে কালো; দেহতল পীতাভ সাদা; পিঠে বিশেষ করে কাঁধ-ঢাকনিতে প্রশস্ত পীতাভ ডোরা আছে; মাথার চাঁদি বাদামি ও মরচে রঙের ঘাড়; গলা, পেট, অবসারণী ও লেজতল-ঢাকনি সাদা; বুক কমলা-পীতাভ এবং বগলে কালো ও তামাটে চিতি; চোখ হালকা হলুদ ও ঠোঁট ফ্যাকাসে; পা ও পায়ের পাতা পাণ্ডুর ও ধূসর নীলঅপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ লালচে-বাদামি, দেহতল ফ্যাকাসে-পীতাভ এবং ঘাড়ের পাশে ও বুকে কালো চিতি রয়েছে৯টি উপ-প্রজাতির মধ্যে T. s. dussumier বাংলাদেশে রয়েছে
স্বভাব: ছোট নাটাবটের তৃণভূমি ও ঘাসে ভরা আবাদি জমির কিনারার ক্ষুদ্র ঝোঁপে বিচরণ করে; একা বা জোড়ায় থাকেমাটিতে হেঁটে ঝরাপাতা উল্টে এরা খাবার খুঁজে বেড়ায়; খাদ্যতালিকায় রয়েছে বীজ, শস্যদানা, কচিকাণ্ড, উইপোকা, কালো পিঁপড়া ও অন্যান্য পোকামাকড়নিজস্ব বিচরণভূমিতে এরা অন্য পাখির অনুপ্রবেশে বাধা দেয়সারা বছরই এদের প্রজনন ঋতু, তবে বর্ষা মৌসুমে বেশি; পূর্বরাগের সময় ছেলেপাখিরা গর্জনের মত ডাকে: (গ্রু গ্রু) ডরর-র-র-র-র...হু-ওও-ওন...হু-ওও-ওন...মাটি সামান্য খুঁড়ে নিয়ে ঘাস ও ঝোঁপে সেটা আবৃত করে এরা বাসা বানায় এবং বাসার প্রবেশ পথের ঘাস বাকা করে এক সারি তোরণ বানায় মেয়েপাখি ধূসরাভ ৪টি ডিম পাড়ে, মাপ ২.১ × ১.৭ সেমি। ছেলেপাখি একাই ডিমে তা দেয় ও ছানা লালন করে; ১২ দিনে ডিম ফোটে; ১৪-১৬ দিনে ছানার গায়ে ওড়ার পালক গজায়
বিস্তৃতি: ছোট নাটাবটের বাংলাদেশের প্রাক্তন আবাসিক পাখি; ঢাকা বিভাগের তৃণভূমি ও গ্রামে পাওয়া যেত, এখন নেই এখন আফ্রিকা ও এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে; এশিয়া মহাদেশে পাকিস্তান, ভারত, চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড থেকে মালয়েশিয়া এবং ফিলিপাইনে পাওয়া যায়
অবস্থা: ছোট নাটাবটের বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণিতে রয়েছেবাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত
বিবিধ: ছোট নাটাবটের পাখির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ কাঠ-তিতির (ল্যাটিন: coturnix = তিতির, silvaticus = কাঠ )
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক এম আনোয়ারুল ইসলাম ও সুপ্রিয় চাকমা  


আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended