Friday, December 20, 2013

হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালি বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি



হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালি, ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Dendrocopos mahrattensis
সমনাম: Picus mahrattensis Latham, 1801
বাংলা নাম: হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালি
ইংরেজি নাম: Yellow-crowned Woodpecker.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Picidae
গণ/Genus: Dendrocopos, Koch, 1816;
প্রজাতি/Species: Dendrocopos mahrattensis (Latham, 1801)
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকাDendrocopos গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ২২টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতি তিনটি হচ্ছে; ১. মেটেটুপি বাটকুড়ালি, ২. বাতাবি কাঠকুড়ালি ও ৩. হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালি। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালি
বর্ণনা: হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালি সাদাকালো ছোপে ভরা ছোট কাঠঠোকরা (দৈর্ঘ্য ১৮ সেমি, ওজন ৩৫ গ্রাম, ডানা ১০ সেমি, ঠোঁট ২.৪ সেমি, পা ১.৮ সেমি, লেজ ৬ সেমি)প্রাপ্তবয়স্ক পাখির কাঁধ-ঢাকনি ও ডানা-ঢাকনিতে সাদা ছোপ ও লেজের মধ্য পালকে সাদা ডোরা রয়েছে; থুতনি ও গলা সাদা এবং কালচে ডোরাসহ দেহতল পীতাভ; পেটের তলদেশে ক্ষুদ্র উজ্জ্বল লাল পট্টি; লেজতল-ঢাকনি সাদাটে; কপাল ও মাথার সামনের ভাগ হলদে, চোখ ও ঘাড়ের মাঝামাঝি হরিদ্রাভ-বাদামির ডোরা এবং ঘাড়ের উভয় পাশে হরিদ্রাভ-বাদামির পট্টি রয়েছেএর ঠোঁট ফ্যাকাসে ও চোখ বাদামি থেকে লালচে-বাদামি; পা,পায়ের পাতা ও নখর শিঙ-ধূসরছেলে মেয়েপাখির চেহারায় সামান্য পার্থক্য রয়েছে: ছেলেপাখির চাঁদির পিছন ও ঘাড় উজ্জ্বল লাল এবং মেয়েতে তা সোনালী-বাদামিঅপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির অনুজ্জ্বল দেহ ও পেটের মোটা ডোরা ছাড়া দেখতে মেয়েপাখির মত২টি উপ-প্রজাতির মধ্যে D. m. mahrattensis বাংলাদেশে রয়েছে
স্বভাব: হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালি খোলা বন, বাগান, আমবাগান ও চারদিকে ছড়ানো গাছপালায় বিচরণ করে; জোড়ায় অথবা ছোট পারিবারিক দলে থাকেগাছের বাকলে আঘাত করে ও ফাটলে ঠোঁট দিয়ে খাবার সংগ্রহ করে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে পোকামাকড়, লার্ভা, পিঁপড়া, উইপোকা, মথ, গোবরে পোকা, শুয়ো পোকা, শক্ত খোলকওয়ালা গোবরে পোকা, ফড়িং, নরম ফল ও ফুলের মধুপরিবারের পাখিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য এরা কিছুক্ষণ পর পর ডাকে: চাক .. চাক ..; ভয় পেলে ডাকে: ক্লিক, ক্লিক বা ক্লিকার-র-র-র..ফেব্রুয়ারি-মে মাসের প্রজনন ঋতুতে গাছের ডালে ঘা দিয়ে এরা মৃদু শব্দে ড্রাম বাজায়: ডর-র-র-র-র...; এবং গাছের ছোট ডালে গর্ত খুঁড়ে বাসা বানিয়ে অথবা কোনো পুরোনো বাসায় ঢুকে ডিম পাড়েডিমগুলো সাদা, সংখ্যায় ৩টি; মাপ ২.২ × ১.৬ সেমি
বিস্তৃতি: হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালি বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি; চট্টগ্রাম বিভাগের গ্রামাঞ্চলে দেখা গেছে বলে দুটি তথ্য রয়েছেপাকিস্তান, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকাসহ দক্ষিণ এশিয়ায় বিস্তৃতমিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামের সীমানায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে
অবস্থা: হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালি বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণিতে রয়েছে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত
বিবিধ: হলদেচাঁদি কাঠকুড়ালির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ মারাঠি কাঠুরে (গ্রিক : dendron = গাছ, kopos = চূর্ণ; mahrattensis = মারাঠার , ভারত)
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান


আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা  

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ  

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended