Thursday, January 02, 2014

গোয়ালপাড়িয়া লোকগানের রাজকন্যা প্রতিমা বড়ুয়া পাণ্ডে




প্রতিমা বড়ুয়া পাণ্ডে

প্রতিমা বড়ুয়া পাণ্ডে (অসমীয়া: প্ৰতিমা বৰুৱা পাণ্ডে) (৩ অক্টোবর, ১৯৩৫ ২৭ ডিসেম্বর ২০০২) ছিলেন জনপ্রিয় গোয়ালপাড়িয়া লোকগীতি গায়িকা। কালজয়ী গোয়ালপাড়িয়া লোকগীতি জনপ্রিয়করণের জন্যে প্রতিমা বরুয়া পাণ্ডে ১৯৯১ ভারতের রাষ্ট্রীয় পদ্মশ্রীএবং ১৯৮৮ সালে ভারত ‘সংগীত নাটক একাডেমী পুরস্কার দ্বারা ভূষিত হন। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিমা বড়ুয়া পাণ্ডে বিখ্যাত ছিলেন তার অমর গোয়ালপাড়িয়া গান এবং ভাওয়াইয়া গানের জন্য। ‘হস্তির কন্যা এবং মোর মাহুত বন্ধুরেতাঁর খুব বিখ্যাত দুটি গান তিনি ছিলেন হাতি বিশেষজ্ঞ প্রকৃতীশচন্দ্র বড়ুয়ার কন্যা এবং দেবদাসখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক প্রমথেশ বড়ুয়ার ভাইঝি।
‘গোয়ালপাড়িয়া গীত’ কথাটির প্রচলন তার গানের মাধ্যমে ১৯৫৮ সালে শুরু হয়। তাঁর রেকর্ডভুক্ত গানের সংখ্যা রয়েছে অন্তত ৩২০টি যেগুলো তিনি ১৯৬২ থেকে ১৯৮৮ সালের ভেতরে গেয়েছিলেন। ভাওয়াইয়া গান মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার কৃতিত্ব যাদের তাদের মধ্যে আব্বাস উদ্দিন এবং সুরেন রায় বসুনিয়ার নাম আসে এবং এই দুজনের সাথে আসে প্রতিমার নাম। আমাদের মন প্রাণ জুড়ে বিরাজ করে প্রতিমার লোকগান, যার আর্তি আর উদাত্তের জন্য হয়ে ওঠেন বাংলা লোকগানের রাজকন্যা।
ঋত্বিক ঘটক প্রতিমা বড়ুয়াকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন; প্রতিমার বাবা প্রকৃতীশচন্দ্র বড়ুয়াকে সেকথা জানিয়েছিলেন। প্রকৃতীশচন্দ্র ঋত্বিককে বলেছিলেন “বিয়ে যাকে করতে চাইছ, তাকেই গিয়ে প্রস্তাবটা দাও”। প্রতিমা বলেছেন, “ঋত্বিকদা বোধহয় সাহসে কুলিয়ে উঠতে পারেননি”। পরে ঋত্বিক ঘটক তার ‘বগলার বঙ্গদর্শন’ ছবিতে আটটি গান গাইয়েছিলেন প্রতিমা বড়ুয়াকে দিয়ে। ছবিটি শেষ না হওয়ায় ঋত্বিকের আফসোসের অন্ত ছিল না।
প্রতিমার মৃত্যুর পর ভুপেন হাজারিকা যে আবেগপূর্ণ লেখাটি লিখেছিলেন তা আমাদেরকে প্রতিমাকে চিনতে সহায়তা করে,
“একটা জীবন যতটুকু দিতে পারে তার চেয়ে অনেক বেশি দিয়ে গেছে প্রতিমা। জীবনের পায়ে পায়ে গানের খই ছড়াতে ছড়াতে মৃত্যুর দিকে চলে গেছে ... রেখে গেছে বিশাল ভাণ্ডার। গোয়ালপাড়িয়া লোকগীতিকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে মনপ্রাণ ঢেলে দিয়েছে। গার্হস্থ্য নিয়ে ভাবেনি, সৌখিনতা নিয়েও নয়। সাধারণ পোশাক-আশাক, অথচ কী অসাধারণ সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব।”[১]
বাংলার একেক অঞ্চলের লোকগানের বৈশিষ্ট্য একেকরকম। উত্তরবঙ্গে ভাওয়াইয়া এবং দক্ষিণবঙ্গে ভাটিয়ালি বাঙালির প্রধান লোকগান। কিন্তু এই দুই প্রধান ধারার বাইরে অন্তত আরো ৩০০-৪০০ লোকগান একসময় ছিল যার এখনও কিছু কিছু টিকে আছে। উত্তরবাংলার কুচবিহার ও আসামের গোয়ালপাড়িয়া লোকগানের সাথে বাঁকুড়া-পুরুলিয়ার ঝুমুর গানের বিষয় ও কথায় আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। মানুষের শ্রমের ভিন্নতা এবং ভূখণ্ডের জলবায়ুর প্রকৃতি এই বিভাজন তৈরি করে। কোচবিহার ও গোয়ালপাড়ার লোকসংগীত গবেষক জলি বাগচী লিখেছেন,
কোনো অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থা সেই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন, জীবিকা, চারিত্রিক গঠনের ওপর প্রভাব ফেলে। কোচবিহার ও গোয়ালপাড়ার সাধারণ মানুষ সরল প্রকৃতির, সহনশীল এবং জীবনের চাহিদা খুব কম। এরা মূলত কৃষিজীবী। এই দুটো অঞ্চলেই উল্লেখ করার মতো কোনো কলকারখানা গড়ে ওঠেনি। চা-শিল্প ও কাঠের ব্যবসা রয়েছে। তবে অন্যান্য ধরনের ব্যবসা বাণিজ্যও আছেকোচবিহার ও গোয়ালপাড়ার লোকসংগীতের ওপর এই দুই অঞ্চলের কৃষিজীবন, অঞ্চলের জীবজন্তুর মধ্যে হাতি, বন্যমোষ এবং নদী গভীর প্রভাব ফেলেছে – যা থেকে আমরা পাই মাহুত, মইষাল, সাদু ও নাইয়ার গান।”[২]
শ্রমের গান, দুঃখের গান, প্রেম ভালোবাসার গান হচ্ছে অন্যান্য লোকগানের মতোই গোয়ালপাড়িয়া লোকগানেরও প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর শ্রমের গানের কয়েকটির কথাগুলি এইরকম।
  • তোমরা গেলে কি আসিবেন ও মোর মাহুত বন্ধুরে? ...
  • ... মইষ চড়ান, মইষাল বন্ধু, ঘাটের উজানে।/ তোমার মইষের ঘণ্টা বাজে, মন উড়াং বাইরং করে রে ...
  • গদাধরের পারে পারে ও ঐনা মাউতে চরায় হাতি ...
  • ... তখনি না কইচোং মইষাল রে/ মইষাল না যাইন গোয়ালপাড়া/ কাড়িয়া নিবে হাতের বাঁশি ছিঁড়িবে গলার মালা। মইষাল রে ...
  • ... গৌরীপুরের সৌখিন চেরি রে/ ও রে নাইওর যাবার চায়/ স্বামীর সংগে পেখনা করে/ ঢাকাই শাড়ি চায় রে।। ...
  • ... নাউ কুটিনু ঘুচি রে ঘুচি/ সাধু চালে থুইয়া দাও।/ শিশুতে করাইচেন বিয়া রে/ সাধু এলাউ গন্দায় গাও। ...
  • ... ফুলের সাজি লইয়া রে যশোদা/ যান বা গোয়ালপাড়া/ অলি অলি গলি গলি/ তায় বেচায় কমলা রে। ...
  • ... আগুনের ছলে মুই বাইরা জাং/ তবুও শ্যাম তোর দেখা না পাং ...
  • ... মদকিয়া মদ খায়/ আগুন দিতে আই মোর রাতি পোয়ায়রে/ নলের ডাঙে মোর শরির পরিল কালারে। ...
  • ... কদম গাছে হেলানিরে দিয়া/ কালা বাজায় মোহন বাঁশি সই/ না যাইও যমুনার জলে। ...
  • কলসীর পানী মাজিয়ায় ঢালিয়া/ কলসী হইল মোর খালিরে/ আরে কলসীতে নাই মোর পানীরে। ...
  • ... আরে কমলা সুন্দরীর পেন্দনের শাড়ি/ রইদে ঝিলমিল করে রে/ আরে কমলা সুন্দরীর কানের সোনা/ নাচিয়া যাইতে ঢোলে রে/ ও তুই ভাল করিয়া বাজানরে দোতরা সুন্দরী কমলা নাচে ...
দুঃখের গানের কয়েকটির কথাগুলি এইরকম
  • ও তোমরা গেলে কি আসিবেন মোর মাহুত বন্ধুরে? ...
  • প্রাণ কুকিলা রে, একবার আসিয়া একবার দেখা দিয়া, তোরে বাদে মনটা মোর থাকেরে কান্দিয়া ...
  • ... ও মোর হায় হস্তীর কন্যারে, খানেক দয়া নাই মাহুতোক নাগিয়া রে...
  • ... কচুর পাতার পানি যেমন রে/ ও জীবন টলমল টলমল করে/ ওই মতন মানুষের দেহা/ কখন ঢলিয়া পড়ে জীবন রে ...
  • বালু টি টি পংখীরে কান্দে বালুতে পড়িয়া/ আর গৌরীপুরিয়া মাহুত কান্দে ও/ সখী ঘরবাড়ি ছাড়িয়া, সখিও ...
  • ... ও মোর দান্তাল হাতির মাহুত রে/ যেদিন মাহুত ছাড়িয়া যায়/ নারীর মন মোর ঝুরিয়া রয় রে...  
  • ... হাতির মায়া জানো/ নারীরও বেদনা রে মাহুত/ কিবা তোমরা জানো রে
  • ... আরে বাপো কানা মাও কানা ও/ ও দারুণ বিধি কানা পারার লোক/ পইছার লোভে বেচেয়া খাইচে/ স্বামী নাবালোক/ মন মোর কান্দে রে। ...
প্রেমের গানের কয়েকটির কথা এই রকম
  • কি অ’ বন্ধু কাজল, ভোমরারে, কোন দিন আসিবেন বন্ধু/ কয়া যান কয়া যান রে। ...
  • তোমরা না যাইও না যাইও সই রে ওই না যাইও যমুনা জলে
  • ওই গদাধরের পারে রে/ ও মোর মাউতে চরায় হাতি/ কী মায়া নাগাইলেন মাহুত রে/ ও তোর গলায় রসের কাঠি ...
  • গাও তোলো গাও তোলো বন্ধু গাও তোলো ডাংগিয়া/ ... কোন বা চোরা নিয়া যায় মোক চুরি না করিয়া রে। ...
  • আমার বাড়ি যান ও মোর প্রাণের মইষাল রে/ ও মইষাল বইসতে দিব মোড়া/ বুক্কোতে হেলানি দিয়ারে/ ও মইষাল বাজাইবেন দোতারা।। ...
  • মনের আয়েনা খুলিয়া দেখিলে হয়/ দেহের কপাট মেলিয়া দেখিলে হয়/ মনের মানুষ কোথায় পাওয়া যায়। ...
  • অ’ মোর বন্ধু ধন রসিয়া দেখা দেও মোক/ একবার আসিয়া।/ আসিবার চায়া আসিলেন না/ মনের আগুন মোর নিবাইলেন না ...
প্রতিমা বড়ুয়ার গানে অবশ্যই আছে সামন্তবাদী সমাজের অভাবগ্রস্ত নারীর দুঃখের কথা।  বিরহ ও আশার মাঝখানে দুলতে থাকা সেই যন্ত্রণাগ্রস্ত নারীদের ব্যথার গান প্রতিমার মতো করে আর কেউ কোনোদিন ফুটিয়ে তুলবে না। রাজপরিবারের কন্যা হয়েও কিষাণীর যন্ত্রণাকে বুকে ধারণ করে গান গেয়েছিলেন প্রতিমা। সেই হস্তীর কন্যার প্রতি গোয়ালপাড়িয়া ও ভাওয়াইয়া গানের শ্রোতাদের মুগ্ধতা থাকবে যুগ যুগ ধরে।
জন্ম ও শৈশব:
প্রতিমা বড়ুয়ার জন্ম পশ্চিম আসামের ধুবড়ী জেলার গৌরিপুরের রাজ পরিবারে ১৯৩৫ সালের ৩ অক্টোবর মায়ের নাম মালতীবালা বড়ুয়া। প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন কলকাতার গোখেল মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে এবং মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন অসমের গৌরীপুর বালিকা বিদ্যালয়ে। ১৯৫৩ সনে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সাউথ ক্যালকাটা গার্লস কলেজে ভর্তি হলেও লেখাপড়া শেষ করেননি। লোকগানের প্রেরণা পেয়েছেন ভরতবালা রায়, শরতবালা রায় এবং সোনাইবালা রায়ের কাছে। লোকগানের প্রথম শিক্ষক ভবেন রায়। চটকাগানের শিক্ষক ছিলেন বয়ানউদ্দিন। ছাত্রজীবনে তার গৃহশিক্ষক ছিলেন ভুবনচন্দ্র বড়ুয়া ও নিখিলচন্দ্র রায়। তিনি রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতি শিখেছিলেন মনোরমা বাই দেউরের কাছে।
কর্মজীবন:
প্রথম লোকগান পরিবেশন করেন ১৯৪৯ সালে কলকাতার নিউ এম্পেয়ার থিয়েটার হলে। ১৯৫৬ সালে ভূপেন হাজারিকার সুরে ‘এ্যারাবাটোর সুর’ ছবিতে লোকগান পরিবেশন করেন। ১৯৫৭ সালে ‘মাহুত বন্ধুরে’ চলচ্চিত্রে গান গান গেয়ে অসংখ্য মানুষের হৃদয় জয় করেন। এছাড়া জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পলাশের রঙ, গজমুক্তা, ও বগলার বঙ্গদর্শন সিনেমায় গান পরিবেশন করেন। ১৯৬০ সনে আকাশবাণীতে অডিশন দিয়ে উত্তীর্ণ হন। ১৯৬২ সালে আকাশবাণী গুয়াহাটি কেন্দ্রের সঞ্চালক পুরুষোত্তম দাসের সহায়তায় ‘একবার হরি বলো মন রসনা’ গানটি তার প্রথম রেকর্ড হিসেবে প্রকাশিত হয়। তার মোট রেকর্ডভুক্ত গানের সংখ্যা প্রায় ৩২০টি। তিনি ১৯৬৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গৌরীপুর প্রমথেশচন্দ্র বড়ুয়া কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক গঙ্গাশঙ্কর পাণ্ডেকে বিয়ে করেন। ১৯৭৫ সালে আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠান করেন। পরবর্তীতে তার গান দিল্লি, সিমলা, শিলিগুড়ি, তেজপুর, শিলচর, কার্সিয়াং, গ্যাংটক, ডিব্রুগড়, ইম্ফল ও আগরতলা, কেন্দ্র থেকে নিয়মিত প্রচার হয়েছে। মাঝে মাঝে মধ্যপ্রদেশ, গোয়া, তামিলনাড়ুর কেন্দ্র থেকেও পরিবেশিত হয়েছে। ১৯৮৭ সালে কমলারাণা শর্মা তার সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন যা গুয়াহটি দূরদর্শনে সম্প্রচারিত হয়। দূরদর্শনে নিয়মিত গোয়ালপাড়া গীত পরিবেশন করতেন। ১৯৮৮ সালে ‘ভারত সংগীত নাটক একাডেমী’ পুরস্কার অর্জন উপলক্ষে ড. বীরেন্দ্রনাথ দত্ত কর্তৃক গৃহীত সাক্ষাতকার গুয়াহাটি দূরদর্শনে প্রচার। ২০০২ সালের ২৭ ডিসেম্বর গুয়াহাটির অসমে এই মহান শিল্পীর প্রয়াণ ঘটে।
পুরস্কার ও সম্মাননা:
১৯৭৭ সালে তিনি ‘অসম সাহিত্য সভা’ কর্তৃক ‘অসম শিল্পী দিবস’ সম্মান অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালে অর্জন করেন ‘ভারত সংগীত নাটক একাডেমী’ সম্মান এবং ১৯৯১ সনে পদ্মশ্রী উপাধি। ১৯৯৩ সনে ‘আব্বাসউদ্দীন স্মরণ সমিতি’ কর্তৃক বিশেষ সম্বর্ধনা। ২০০১ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি. লিট. উপাধি প্রদান করে। এছাড়াও আরো পুরস্কার ও সম্মাননা তালিকায় যেগুলো যুক্ত হয়েছে সেগুলো হলও জয়মতী সম্মান, বিষ্ণু রাভা সম্মান, অসম নাট্য সমিতি সম্মান, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সম্মাননা, ধুবড়ী চলচ্চিত্র উৎসব সম্বর্ধনা, বিপিন চক্রবর্তী স্মৃতি সম্মান ইত্যাদি।[৩]   
তথ্যসূত্র:
১. শ্যামল চক্রবর্তী, মাহুত বন্ধুরে প্রতিমা বড়ুয়া পাণ্ডের জীবন ও গান; জ্ঞান বিচিত্রা প্রকাশনী, আগরতলা; ফেব্রুয়ারি, ২০০৫; পৃষ্ঠা- ২০৭।
২. ঐ; পৃষ্ঠা – ১৪।
৩. এই লেখার সমস্ত তথ্যই শ্যামল চক্রবর্তীর উপরোল্লিখিত মাহুত বন্ধুরে গ্রন্থ থেকে নেয়া।

No comments:

Post a Comment