Friday, January 10, 2014

চিনের মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব



চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব গ্রন্থের প্রচ্ছদ
চিনের মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব শ্রমিকশ্রেণির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। সাংস্কৃতিক বিপ্লব জনগণের চিন্তাকে এমনভাবে পাল্টে দিয়েছিল যা এর আগে কখনোই ঘটেনি। জনগণের গণতান্ত্রিক একনায়কত্বকে আঁকড়ে ধরে চিনের মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব বুর্জোয়াদের পথ-গ্রহণকারী কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরের প্রতিক্রিয়াশীলদের উৎখাতে চেষ্টা করেছিল। যেমন, সাংস্কৃতিক বিপ্লবের শুরুতেই সদর দপ্তরে কামান দাগো শিরোনামের প্রথম বড় হরফের পোস্টারে মাও সেতুং লিখেছিলেন,
“কেন্দ্র থেকে শুরু করে নিচে স্থানীয় স্তর পর্যন্ত কিছু নেতৃস্থানীয় কমরেড পুরোপুরি উল্টোভাবে কাজ করেছে। বুর্জোয়াদের প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থান গ্রহণ করে তারা এক বুর্জোয়া একনায়কত্ব চাপিয়ে দিয়েছে এবং সর্বহারার মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উত্তাল তরঙ্গময় আন্দোলনকে আঘাত করেছে।
তারা তথ্যগুলোকে উল্টে দিয়েছে এবং কালো ও সাদাকে গুলিয়ে ফেলেছে, বিপ্লবীদেরকে ঘেরাও করেছে ও দমন করেছে, তাদের নিজেদের থেকে ভিন্ন এমন মতামতগুলোকে রুদ্ধ করেছে, শ্বেত সন্ত্রাস চাপিয়ে দিয়েছে, এবং নিজেদের নিয়ে খুব সন্তুষ্টিতে ভুগেছে। তারা বুর্জোয়াদের ঔদ্ধত্যকে চাঙ্গা করেছে এবং সর্বহারা শ্রেণির মনোবলকে চুপসে দিয়েছে।”
চিনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছিল বুর্জোয়াদের ঔদ্ধত্যকে উপড়ে ফেলার জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রাম। এই বিপ্লবের ১৬ দফা কর্মসূচিতে যেসব বিষয় ফুটে ওঠে তা এমন এক সংগ্রাম যা মানুষকে বদলে দেবার জন্য পরিচালিত।

এমন একটি বিষয় নিয়ে বাংলা  ভাষায় বইয়ের সংখ্যা খুব কম। তদুপরি, আমরা মোট তিনটি বই বাংলা ভাষায় পেয়েছি। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বইটি হচ্ছে সমীরণ মজুমদার রচিত। অন্য দুটি বই বাঙলায় অনূদিত। বইগুলোর নাম তলত দেয়া হলও।
১. সমীরণ মজুমদার, চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব, র‍্যামন পাবলিশার্স, ঢাকা; ফেব্রুয়ারি, ২০১০।
০২. এডগার স্নো, চীনের মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব; দ্বিজেন গুপ্ত অনূদিত; র‍্যাডিক্যাল, কলকাতা, জানুয়ারি, ২০০৯।
০৩. ডংপিং হান, চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অজানা কথা, একটি গ্রামের বিপ্লবী রূপান্তরের কাহিনী; সুশোভন মুখোপাধ্যায় অনূদিত; কর্নারস্টোন পাবলিকেশনস; জানুয়ারি, ২০০৯।

No comments:

Post a Comment