Wednesday, February 05, 2014

বেগুনি কালেম বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি



বেগুনি কালেম, Photo: Kiron Khan
দ্বিপদ নাম/Scientific Name: Porphprio porphyrio
সমনাম: Fulica porphyrio, Linnaeus, 1758
বাংলা নাম: বেগুনি কালেম, কায়িম, কালিম
ইংরেজি নাম/Common Name: Purple Swamphen.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Rallidae
গণ/Genus: Porphprio, Brisson, 1760;
প্রজাতি/Species: Porphprio porphyrio (Linnaeus, 1758)
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকাPorphprio গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ১টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে মোট ৬টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত ও আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে বেগুনি কালেম
বর্ণনাঃ বেগুনি কালেমের দৈর্ঘ্য ৪৫ সেমি.। ওজন ৬৫০ গ্রামের মতো। ডানার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬ সে.মি, ঠোঁট ৪.৫ সে.মি, পা ৯ সে.মি, এবং লেজ ১০ সে.মি হয়ে থাকে। ছেলে ও মেয়ে পাখির চেহারায় তেমন কোনো পার্থক্য নেই। দের মাথার চাঁদি বর্মে ঢাকা। ঠোঁটের গোড়া মোটা এবং ঠোঁট দুপাশ থেকে চাপা। ডানা গোলাকার। তবে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ প্রান্তের পালক সবচেয়ে দীর্ঘ। পা এবং আঙুল বেশ লম্বা ও শক্তিশালী। কালেমের শরীরের অনেকটা অংশ জুড়ে আছে নীলচে বেগুনি রঙের শোভা। তবে মাথা ও গলা ফিকে রঙের, ডানা সবুজ ও লেজতল সাদা রঙের। ঠোঁটের গোড়া থেকে মাথার পেছন পর্যন্ত বর্ম অর্থাৎ, লাল এক আবরণ রয়েছে। স্ত্রী-পুং উভয় লিঙ্গের পাখির চোখের রং রক্তলাল।
স্বভাবঃ বেগুনি কালেম খাবার খাওয়ার সময় লেজের নিচের সাদা অংশ প্রদর্শন করে ও ডাকে চাক চাক। বেগুনি কালেম হাওর, বিল, নলবন ও ঘাসওয়ালা জলাভূমিতে বিচরণ করে। সাধারণত এদের ১০ থেকে একশোটির দলে দেখা যায়।
বিস্তৃতিঃ ২০০৯ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষে বেগুনি কালেমকে বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি হিসেবে বলা হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের হাওরে পাওয়া যায়। ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা: বেগুনি কালেম বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ-প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ: কচুরিপানা তাদের প্রিয় স্থান। বাংলাদেশের সর্বত্র দেখা যায় না। হাতেগোনা কয়েকটি সংরক্ষিত জলাভূমি ছাড়া এদের দেখা পাওয়া দুষ্কর। বাইক্কা বিলের কালেম দেখা যায় মূলত ৯ মাস। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এরা চলে যায় পাহাড়ি এলাকায়।


আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা  

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended