Sunday, February 02, 2014

চামচঠুঁটো বাটান বিশ্বে মহাবিপন্ন ও বাংলাদেশের দুর্লভ পরিযায়ী পাখি



চামচঠুঁটো বাটান, ফটোঃ উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া

দ্বিপদ নাম/Scientific Name: Eurynorhynchus pygmeus (Linnaeus, 1758)
সমনাম: Platalea pygmaea, Linnaeus, 1758
বাংলা নাম: চামচঠুঁটো বাটান,

ইংরেজি নাম/Common Name: Spoon-billed Sandpiper.


জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Scolopacidae
গণ/Genus: Eurynorhynchus, Nilsson, 1821;
প্রজাতি/Species: Eurynorhynchus pygmeus (Linnaeus, 1758)
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকাEurynorhynchus গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ১টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতেও রয়েছে কেবল সেই প্রজাতিটি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত ও আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে চামচঠুঁটো বাটান
বর্ণনাঃ চামচঠুঁটো বাটান চামচ-আকারের ঠোঁটধারী অনন্য সৈকত-পাখি। এর দৈর্ঘ্য ১সেমি, ডানা ১০ সেমি, ঠোঁট .২ সেমি, চামচ ১.১ সেমি, পা ২.১ সেমি, লেজ ৩. সেমি। কাদাপানি থেকে খাবার সংগ্রহ করার জন্য এর চষ্ণুর প্রান্ত চামচের মতো গোলাকার।
স্বভাবঃ চামচঠুঁটো বাটান শীত মৌসুমে গ্রীষ্মমণ্ডলের সৈকতের কাদাচর ও কিছুটা নোনা লেগুনে এবং গ্রীষ্মে উত্তরের উপকূলীয় এলাকায় বিচরণ করে। প্রজননের জন্য জুলাই-আগস্ট মাসে এরা সাইবেরিয়ায় ফিরে যায়গ্রীষ্মে সাইবেরিয়ায় এরা বাসা বাধে এবং শীতে মায়ানমার বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে বাস করে।
বিস্তৃতিঃ প্রতি বছরই পৃথিবীর মহাবিপন্ন পাখির মধ্যে চামচঠুঁটো বাটানের দেখা মিলছে বাংলাদেশের ভোলার চরাঞ্চলে। পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে মহাবিপন্ন এ পাখিটি যে কোনো সময় পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে পরে। তারা ধারণা করছেন, বর্তমানে পৃথিবীতে মাত্র ১শ জোড়া চামুচঠুটো বাটান পাখি অবশিষ্ট রয়েছে। এরা শীত মৌসুমে সাইবেরিয়া থেকে ছুটে আসে বাংলাদেশে। আবার প্রজননের জন্য জুলাই-আগস্ট মাসে এরা নিজ ভূমে ফিরে যায়। ভারতীয় উপমহাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার কোথাও গত একযুগে এই পাখিটির দেখা মিলেনি। স্বভাবত কারণেই চামুচঠুটো বাটান পাখি অন্য পাখির ঝাঁকের মধ্যে থাকে। ভিজা বালি ও কাঁদার উপরের স্তর থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। ভোলার দমার চর ও চর শাহাজালালে এ পাখিটির বিচরণ রয়েছে।
অবস্থা: ২০০৯ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষে এটিকে বাংলাদেশে দুর্লভ পরিযায়ী পাখি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবিধ: বাংলাদেশের এবং পৃথিবীর মহাবিপন্ন পাখি চামচঠূঁটো বাটাবাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম সৈকত পাখি। আকারে চড়ুইয়ের সমান এ পাখিটি এ দেশের কম মানুষেরই চেনা প্রাণির তালিকায় পড়ে। কক্সবাজারের পাশে ছোট্ট এক দ্বীপসোনাদিয়াতেই পৃথিবীর ১০ শতাংশ চামচঠুঁটো বাটান বাস করে। ১৯৮৯ সালে এই সোনাদিয়া দ্বীপেই একসাথে ২০২টি এই পাখি গোণা হয়েছিল। গত ২০১০ সালে ৪৯টি পাখি গোণা হয়েছে পাখিশুমারিতে। ২০১২ সালের ১১ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত এই দ্বীপে জরিপ চালিয়ে গণনা করা হয়েছে ২৪টি পাখি। আর ২০১৪ সালের জানুয়ারির ২০ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত ৭ দিন ব্যাপী ভোলা জেলায় পাখি গণনাতে এই পাখি দেখা গেছে মাত্র ৩টি। অর্থাৎ এই পাখির সংখ্যা কেবল কমছেই। এই মহাবিপন্ন পাখিটির আবাসস্থল ধ্বংস করলে পুরো পৃথিবী যে আমাদের ধিক্কার দেবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই মহাবিপন্ন পাখিটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সোনাদিয়ার কাদাচরে লবণচাষ ও চিংড়িঘের করা, পাকা বাঁধ দেওয়া এবং বাংলাদেশের পুঁজিপতি ও চিনা শিল্পপতিদের বন্দর বানানোর পরিবেশ বিধ্বংসী পরিকল্পনা বন্ধ করতে হবে।

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা  

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended