Tuesday, March 11, 2014

ধলামাথা কাঠকুড়ালি বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি



দ্বিপদ নাম: Gecinulus grantia
সমনাম: Picus grantia Horsfield, 1840
বাংলা নাম: ধলামাথা কাঠকুড়ালি
ইংরেজি নাম: Pale-headed Woodpecker.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Picidae
গণ/Genus: Gecinulus, Blyth, 1845;
প্রজাতি/Species: Gecinulus grantia (Horsfield, 1840)
ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকাGecinulus গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ১টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ১টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত ও আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে ধলামাথা কাঠকুড়ালি
বর্ণনা: ধলামাথা কাঠকুড়ালি তিন আঙুলের বাদামি কাঠঠোকরা (দৈর্ঘ্য ২৫ সেমি, ডানা ১৩ সেমি, ঠোঁট ২.৬ সেমি, লেজ ৮.৩ সেমি)প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ অনুজ্জ্বল লাল-বাদামি ও দেহতল মেরুন থেকে মেরুন-বাদামি; ঘাড় ও ঘাড়ের পাশ সোনালী জলপাই-হলুদ; ডানার বাদামি প্রান্ত-পালকে পীতাভ-পাটল বর্ণের ডোরা রয়েছে; ফ্যাকাসে ডোরাসহ বাদামি লেজ; ও অনুজ্জ্বল মেরুন থেকে মেরুন-বাদামি পেটএর ঠোঁট পাণ্ডুর বর্ণের, গোড়া ফ্যাকাসে; চোখ লালচে-বাদামি; পা ও পায়ের পাতা জলপাই রঙের এবং নখরগুলো শিং-বাদামিছেলে মেয়েতে পাখিতে পার্থক্য শুধু তাদের মাথার চাঁদির বর্ণে: ছেলেপাখির গাঢ় লাল-পাটল বর্ণ ও মেয়েপাখির সোনালী-জলপাইঅপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির অনুজ্জ্বল মাথা, বাদামি দেহতল ও মাথার চাঁদিতে লাল রঙ ছাড়া দেখতে মেয়েপাখির মত৩টি উপ-প্রজাতির মধ্যে G. g. grantia বাংলাদেশে পাওয়া যায়
স্বভাব: ধলামাথা কাঠকুড়ালি বাঁশ বন ও আর্দ্র পাতাঝরা বনে বিচরণ করে; একা বা জোড়ায় দেখা যায়গাছের কাণ্ড, বাঁশ, পতিত কাঠের গুঁড়ি ও ভূমি থেকে খাবার সংগ্রহ করে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে পোকামাকড়, বিশেষ করে পিঁপড়া ও গুবরে পোকার ছানাছোট্ট লাফ দিয়ে এরা গাছের এক ডাল থেকে অন্য ডালে যায় এবং এক গাছ থেকে অন্য গাছে তরঙ্গাকারে ওপর-নিচ করে ওড়ে চলে; উঁচু থেকে ক্রমান্বয়ে নিচু, ৫-৬টি অনুনাসিক স্বরে ডাকে: চেইক-চেইক-চেইক-চেইক...; বিরক্তি প্রকাশ করতে হ্রস্ব ও তীক্ষ্ণ শব্দে ডাকে: কেরেক-কেরেক-কেরেক... মার্চ-মে মাসের প্রজনন ঋতুতে গাছের কাটা অংশেরপচাগোড়ায় গর্ত খুঁড়ে বাসা বাঁধে এবং নতুন প্রবেশ-পথ তৈরি করে পরপর কয়েক বছর বাসাটি ব্যবহার করে মেয়েপাখি ৩টি ডিম পাড়ে; ডিম সাদা, মাপ ২.৫×১.৯ সেমি
বিস্তৃতি: ধলামাথা কাঠকুড়ালি বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি; চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে পাওয়া যায়হিমালয়ের পূর্বাঞ্চল ও চীনের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস ও ভিয়েতনামে রয়েছে
অবস্থা: ধলামাথা কাঠকুড়ালি বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণিতে রয়েছেবাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত
বাংলাদেশের উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান। 



আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা  

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended