Saturday, May 31, 2014

লালমাথা কুচকুচি বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি



লালমাথা কুচকুচি, ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Harpactes erythrocephalus
সমনাম: Trogon erythrocephalus Gould, 1834
বাংলা নাম: লালমাথা কুচকুচি, কুচকুচিয়া (আলী)
ইংরেজি নাম: Red-headed Trogon.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Trogonidae
গণ/Genus: Harpactes, Swainson, 1833;
প্রজাতি/Species: Harpactes erythrocephalus (Gould, 1834)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাHarpactes গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ১টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ১১টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিটি হচ্ছে আমাদের আলোচ্য লালমাথা কুচকুচি
বর্ণনা: লালমাথা কুচকুচি আগুনরঙ পাখি (দৈর্ঘ্য ৩৫ সেমি, ওজন ৭৫ গ্রাম, ডানা ১৪.৫ সেমি, ঠোঁট ২.২ সেমি, পা ১.৯ সেমি, লেজ ১৯.২ সেমি)ছেলে মেয়েপাখির চেহারায় পার্থক্য রয়েছেছেলেপাখির মাথা,ঘাড় ও বুক গাঢ় লাল; পিঠ মরচে বাদামি ও দেহতল পাটল বর্ণের; বুকের বড় সাদা ফেটা; ডানার পালক-ঢাকনি ধূসর ও সূক্ষ্ম কালো দাগে ভরা; লেজ লম্বা, ক্রমান্বয়ে ছোট থেকে বড় পালকে গড়ামেয়েপাখির মাথা, ঘাড় ও বুক দারুচিনিরঙেরছেলে মেয়ে উভয়ের চোখ গাঢ় লাল, চোখের গোলকের ত্বক বেগুনি-নীল এবং ঠোঁটের সঙ্গমস্থল প্রায় বেগুনি; পা ও পায়ের পাতা বেগুনি; দুই রঙের ঠোঁট: উপরের পাটি বেগুনি-নীল ও নিচের পাটি কালোঅপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির বুক, বগল ও তলপেট পীতাভ সাদা১০টি উপ-প্রজাতির মধ্যে H. e. erthrocephalus বাংলাদেশে রয়েছে
স্বভাব: লালমাথা কুচকুচি ঘন প্রশস্ত পাতার চিরসবুজ বন ও মিশ্র বাঁশ বনে বিচরণ করে; একা বা জোড়ায় থাকতে দেখা যায়বনের ৪-৬ মি উঁচু ডালে নীরবে বসে থাকে এবং ওড়ে এসে শিকার ধরে অথবা মাটিতে নেমে খাবার খায়; খাদ্যতালিকায় রয়েছে উড়ন্তÍ পোকামাকড়, লার্ভা ও রসালো ফলএরা শান্ত লাজুক পাখি; আবডালে থেকে নম্র মধুর সুরে বার বার ডাকে: কিউ.. কিউ ..; মাঝে মাঝে গানগায়: টিয়াউপ... টিয়াউপ..এপ্রিল-জুলাই মাসে প্রজনন ঋতুতে ঘন বনে বৃক্ষের প্রাকৃতিক কোটরে বা কাঠঠোকরার শূন্য গর্তে বাসা করে এরা ডিম পাড়েডিমগুলো পীতাভ, সংর্খায় ৩-৪টি, মাপ ২.৮×২.৪ সেমি
বিস্তৃতি: লালমাথা কুচকুচি বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি; চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে পাওয়া যায়ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, ইন্দোচীন ও ইন্দোনেশিয়াসহ হিমালয়ের পাদদেশ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব পর্যন্ত এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে
অবস্থা: লালমাথা কুচকুচি বিশ্বে বিপদমুক্ত ও বাংলাদেশে বিপন্ন বলে বিবেচিতবাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত
বিবিধ: লালমাথা কুচকুচির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ রাঙ্গামাথা ফলচোর (গ্রীক: harpaktes = ফলচোর, eruthro = লাল, kephalos = মাথা)
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

পাতি হুদহুদ বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি



পাতি হুদহুদ, ফটো: রেজাউল হাফিজ রাহী
দ্বিপদ নাম: Upupa epops
সমনাম: নেই
বাংলা নাম: পাতি হুদহুদ
ইংরেজি নাম: Eurasian Hoopoe.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্যKingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Upupidae
গণ/Genus: Upupa, Linnaeus, 1758;
প্রজাতি/Species: Upupa epops Linnaeus, 1758
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাUpupa গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ১টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে ২টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিটি হচ্ছে আমাদের আলোচ্য পাতি হুদহুদ।
বর্ণনা: পাতি হুদহুদ মাথায় মুকুট পড়া ডোরাকাটা পাখি (দৈর্ঘ্য ৩১ সেমি, ওজন ৬৫ গ্রাম, ডানা ১৪.৩ সেমি, ঠোঁট ৪.৭ সেমি, পা ২.৩ সেমি, লেজ ১০ সেমি) প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মুখ গলা ও বুক কমলা-পীতাভ বা লালচে-কমলা; ডানায় কালো ও সাদা জেব্রা প্যাটার্ন; মাথায় কাকাতুয়ার মত বিশাল ঝুটি, ঝুটির রঙ কমলা, ডগা কালো, ঝুটি গুটালে মাথার পিছনে ভাঁজ হয়ে পড়ে থাকে; লেজের বর্ণবিন্যাস কালো ও সাদাএর ঠোঁট শিঙ-বাদামি বা শিঙ-কালো; মুখ মেটে ফ্যাকাসে; চোখ বাদামি এবং পা ও পায়ের পাতা স্লেট-বাদামিছেলে মেয়েপাখির চেহারা অভিন্নঅপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ অনুজ্জ্বল ও ফ্যাকাসে এবং দেহতল বাদামি৯টি উপ-প্রজাতির মধ্যে U. e. longirostris বাংলাদেশে আছে
স্বভাব: পাতি হুদহুদ হালকা বনপ্রান্ত, খোলা মাঠ, উদ্যান, নদীতীর, আবাদি জমি ও গ্রামাঞ্চলে বিচরণ করে; সাধারণত একা বা জোড়ায় থাকে; পরিযায়নের সময় ১০-২০টি পাখির বিচ্ছিন্ন দল গঠন করেমাটিতে লম্বা ঠোঁট ঢুকিয়ে এরা খাবার সংগ্রহ করে; খাদ্যতালিকায় রয়েছে পোকামাকড়, পিউপা, ঝিঁঝিঁ পোকা, পঙ্গপাল, ফড়িং ও শুঁয়োপোকাধীরে ও আঁকাবাঁকা ঢেউয়ের মত ওঠানামা করে এরা ওড়ে চলে; বসার মুহূর্তে ঝুটি ওঠায়; মাঝে মাঝে ডাকে: হুদ..হুদ..; এবং প্রজননকালে গানগায়: উপ্-উপ্-উপ্ ..এপ্রিল-জুন মাসে প্রজনন ঋতুতে গাছের অথবা দালানের ফাটলে পাতা, ঘাস, পশম, পালক ও আবর্জনা দিয়ে বাসা বেঁধে ডিম পাড়েডিমগুলো নীল; সংখ্যায় ৫-৭টি; মাপ ২.৫×১.৮ সেমি মেয়েপাখি একাই ডিমে তা দেয়; ছেলে মেয়ে উভয়েই বাসার বাকি কাজ করে ১৫-১৭দিনে ডিম ফোটে
বিস্তৃতি: পাতি হুদহুদ বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি; সব বিভাগের গ্রামের খোলা জায়গায় বিচরণ করেইউরোপ, আফ্রিকা, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে
অবস্থা: পাতি হুদহুদ বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিতবাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত
বিবিধ: পাতি হুদহুদ পাখির বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ হুদহুদ (ল্যাটিন: upupa = হুদহুদ; গ্রীক: epops = হুদহুদ)
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক ইনাম আল হক ও এম. কামরুজ্জামান

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ