Saturday, June 21, 2014

এশীয় কোকিল বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি



এশীয় কোকিল, ছেলে, ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Eudynamys scolopaceus
সমনাম: Cuculus scolopaceus Linnaeus, 1758
বাংলা নাম: এশীয় কোকিল   
ইংরেজি নাম: Asian Koel.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Cuculidae
গণ/Genus: Eudynamys, Vigors and Horsfield, 1827;  
প্রজাতি/Species: Eudynamys scolopaceus (Linnaeus, 1758)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাEudynamys গণে বাংলাদেশে এবং পৃথিবীতে রয়েছে এর ১টি প্রজাতি। বাংলাদেশে এবং পৃথিবীতে প্রাপ্ত ও আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে এশীয় কোকিল
বর্ণনা: এশীয় কোকিল পার্থক্যসূচক লাল চোখের লম্বা লেজ ওয়ালা কালচে পাখি (দৈর্ঘ্য ৪৩ সেমি., ওজন ১৭০ গ্রাম, ডানা ২২ সেমি., ঠোঁট ৩.৩ সেমি., পা ৩.৫ সেমি., লেজ ২০ সেমি.)। ছেলেপাখির চেহারায় মেয়ে থেকে বেশ অমিল রয়েছে। ছেলেপাখির পুরো চকচকে কালো রঙের মধ্যে নীল ও সবুজের আমেজ থাকে। মেয়েপাখির পিঠে বাদামির ওপর সাদা ও পীতাভ চিতি। সাদা থুতনি, গলা, বুক, পেট, বগল, লেজের নিচের কোর্ভাট ও অবসারণীতে কালচে বাদামি ডোরা রয়েছে। কালচে বাদামি লেজে তীর্যক সাদা ডোরা থাকে। ছেলে মেয়েপাখি উভয়েরই চোখ লাল, ঠোঁট আপেল-সবুজ, পা ও পায়ের পাতা ফ্যাকাসে, নখর শিঙ-রঙা এবং পদতল সাদাটে। পীতাভ ডোরা ও কালচে চোখের রঙ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখিকে পূর্ণবয়স্ক মেয়েপাখির মত দেখায়। মেয়ে ছানা পাখির মাথা, গলা ও বুক বেশ কালো। ১৩টি উপ-প্রজাতির মধ্যে E. s. malayana বাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব: এশীয় কোকিল বন, বৃক্ষভূমি, আবাদি জমি, গ্রামাঞ্চল, শহর, বাগান ও রাস্তার পাশের গাছে বিচরণ করে। সাধারণত একা থাকে। বেশ চুপিসারে থাকে, যতটা না দেখা যায় তার চেয়ে খুব কম এর আওয়াজ শোনা যায়। ফলদ গাছে ডুমুর ও অন্য রসালো ফল খায়। কখনও শুঁয়োপোকা, ছারপোকা ও ছোট পাখির ডিম খায়। মার্চ-জুলাই মাস প্রজনন ঋতু। পূর্বরাগের সময় ছেলেপাখি একটি মাত্র শব্দে তীক্ষ্ণ চিৎকারে বার বার ডাকে: কো-এল...। মেয়েপাখি কদাচ সাড়া দিয়ে অনুরক্তিক ভাবে ডাকে: উক-উক-উক...। বাসা তৈরি, ডিম ফোঁটানো বা ছানার যত্ন নেয় না। মেয়েপাখি কাকের বাসায় একটি ডিম পাড়ে। ডিম লালচে-বাদামি ফুসকুড়িসহ সবুজাভ-ধূসর। ১৩-২০দিনে ডিম ফোটে।
বিস্তৃতি: এশীয় কোকিল বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি; সব বিভাগের বনে, বাগানে ও লোকালয়ে বিচরণ করে। পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, চিনসহ দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা: এশীয় কোকিল বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ: এশীয় কোকিলের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ বলবান বনচ্যাগা (গ্রীক: eudynamos = বলবান, scolopax = বনচ্যাগা, aceus = সদৃশ )।
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও সুপ্রিয় চাকমা

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় দশটি লেখা, গত সাত দিনের

Recommended