Wednesday, June 04, 2014

নীলদাড়ি সুইচোরা বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি



নীলদাড়ি সুইচোরা, ফটো: K Mohan Raj, ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Nyctyornis athertoni
সমনাম: Merops athertoni Jardine and Selby, 1830
বাংলা নাম: নীলদাড়ি সুইচোরা,
ইংরেজি নাম: Blue-bearded Bee-eater.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Meropidae
গণ/Genus: Nyctyornis, Jardine and Selby, 1830;  
প্রজাতি/Species: Nyctyornis athertoni (Jardine and Selby, 1830)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাNyctyornis গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ১টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে ২টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত এবং আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে নীলদাড়ি সুইচোরা
বর্ণনা: নীলদাড়ি সুইচোরা নীল কপাল ও গলার সবুজ পাখি (দৈর্ঘ্য ৩৬ সেমি., ওজন ৯০ গ্রাম, ডানা ১৪ সেমি., ঠোঁট ৫.২ সেমি., পা ২ সেমি., লেজ ১৩.৫ সেমি.)। নীল কপাল ছাড়া পিঠ সবুজাভ। লম্বা পালক সমূহ দাঁড়ির মত গঠন লাভ করে এবং গলা ও বুক কালচে নীল। হলুদাভ-পীতাভ ডোরাসহ পেট ও বগল সবুজ। বর্গাকার প্রান্তদেশসহ লেজের বাইরের পালক পীতাভ রঙের। ওড়ার সময় লেজ ত্রিকোণাকার ও ডানার নিচের কোর্ভাট হলুদাভ-পীতাভ দেখায়। ঠোঁট বাঁকা ও শিঙ-বাদামি এবং নিচের ঠোঁটের গোড়া ধূসর। চোখ উজ্জ্বল সোনালী-কমলা ও মুখ ধূসরাভ-পাটল বর্ণের। পা ও পায়ের পাতা ফ্যাকাসে হলুদাভ-সবুজ এবং নখর শিঙ-বাদামি। ছেলে মেয়েপাখির চেহারায় কোন পার্থক্য নেই। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখিতে কোন দাঁড়ি থাকে না। ২টি উপ-প্রজাতির মধ্যে N. a. athertoni বাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব: নীলদাড়ি সুইচোরা আর্দ্র পাতাঝরা ও অপ্রধান চিরসবুজ বন, বনের স্রোতধারা ও বনের আবাদযোগ্য জমিতে বিচরণ করে। সচরাচর একা বা জোড়ায় ঘুরে বেড়ায়। উঁচু জায়গা থেকে বাতাসে ওড়ে শিকার ধরে। খাবার তালিকায় বোলতা, মৌÍমাছি, গুবরে পোকা, ফড়িং ও ফুলের মিষ্টি রস রয়েছে। সচরাচর কর্কশ গলায় ডাকে:কর-র-র,কর-র-র...। ফেব্রুয়ারি-আগস্ট মাস প্রজনন ঋতু। বনের জলধারার খাড়া পাড়ে বা পাহাড়ের পলি মাটিতে ৫-৬ সেমি. ব্যাস ও ১.৫-৩ মিটার দৈর্ঘ্যরে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে বাসা বানায় এবং মেয়েপাখি ৪-৬টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা, মাপ ৩.০ × ২.৮ সেমি.।
বিস্তৃতি: নীলদাড়ি সুইচোরা বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি; চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে পাওয়া যায়। ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, থাইল্যান্ড ও ইন্দোচীনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা: নীলদাড়ি সুইচোরা বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশে অপ্রতুল-তথ্য শ্রেণিতে রয়েছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ: নীলদাড়ি সুইচোরাবৈজ্ঞানিক নামের অর্থ এ্যাথার্টন-এর গুপ্ত-পাখি (গ্রীক: nux = গুপ্ত, রহস্যময়, ornis = পাখি; athertoni = লেফটেন্যান্ট জে. এ্যাথার্টন, ভারতীয় ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা, ১৭৯৭-১৮২৭)।
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও এম. কামরুজ্জামান

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment