Wednesday, June 04, 2014

খয়রামাথা সুইচোরা বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি



খয়রামাথা সুইচোরা, ফটো: K Mohan Raj, ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Merops leschenaulti
সমনাম: নেই
বাংলা নাম: খয়রামাথা সুইচোরা,
ইংরেজি নাম: Chestnut-headed Bee-eater.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Meropidae
গণ/Genus: Merops, Linnaeus, 1758;  
প্রজাতি/Species: Merops leschenaulti (Vieillot, 1817)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাMerops গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে ২২টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিগুলো হচ্ছে ১. খয়রামাথা সুইচোরা, ২. সবুজ সুইচোরা ও ৩. নীললেজ সুইচোরাআমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে খয়রামাথা সুইচোরা
বর্ণনা: খয়রামাথা সুইচোরা মাথায় তামাটে চাঁদিওয়ালা মসৃণ সবুজ পাখি (দৈর্ঘ্য ২১ সেমি., ওজন ৩০ গ্রাম, ডানা ১১ সেমি., ঠোঁট ৩.৮ সেমি., পা ১ সেমি., লেজ ৮ সেমি.)। পিঠ ঘাস-সবুজ ও কিছু অংশ ছাড়া দেহতল সবুজাভ। মাথার চাঁদি, ঘাড়ের পিছন ও ম্যান্টল উজ্জ্বল তামাটে, পাছা নীলকান্তমণি রঙের এবং লেজ কিছুটা চেরা ও সবুজ । হলুদ থুতনি ও গলায় লালচে ও কালো বেষ্টনি রয়েছে। ঠোঁট শিঙ-কালো, চোখ গাঢ় লাল ও মুখ ধূসরাভ-পাটল বর্ণের। পা, পায়ের পাতা ও নখর কালচে-বাদামি। ছেলে মেয়েপাখির চেহারায় কোন পার্থক্য নেই। অনুজ্জ্বল অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথার চাঁদি ঘন সবুজ, গাড়ের পিছনে নীলকান্তমণি রঙ, গলার নিচে কালচে বেড়সহ লালচে আমেজ থাকে। তরুণ পাখির দেহের লালচে উপরিভাগ সবুজে মিশ্রিত এবং মাথা ও ছোট ঠোঁটটি সবুজ। ৩টি উপ-প্রজাতির মধ্যে M. l. leschenaultia বাংলাদেশে পাওয়া যায়।
স্বভাব: খয়রামাথা সুইচোরা মিশ্র পাতাঝরা ও চিরসবুজ বনে বিচরণ করে। সচরাচর ৮-৩০টি পাখির দলে দেখা যায়; কোন জায়গা থেকে দ্রুত উড়ে শিকার ধরে খায়। খাবারের মধ্যে ডানাওয়ালা পোকা যেমন-ফড়িং, মৌÍমাছি, পিঁপড়া, উই ও প্রজাপতি রয়েছে। গাছের উঁচু খোলা ডালে বা ঝুলন্ত তারে বসে; দ্রুত ডানা ঝাপটে ধীরে ধীরে উড়ে চলে। অনুরক্তিক কোমল স্বরে ডাকে: পেরিরপ পেরিরপ। ফেব্রুয়ারি-জুন মাস প্রজনন ঋতু। নদী ও জলধারার বালিময় পাড়ে গর্ত গ গ্ খুঁড়ে বাসা বানায় ও মেয়েপাখি ৫-৬টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা, মাপ ২.১×১.৯ সেমি.।
বিস্তৃতি: খয়রামাথা সুইচোরা বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি; চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বন ও প্যারাবনে পাওয়া যায়। ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, চীন ও মিয়ানমার থেকে ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
অবস্থা: খয়রামাথা সুইচোরা বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ: খয়রামাথা সুইচোরা বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ লেসেনল্ট-এর সুইচোরা (গ্রীক: merops = সুইচোরা; leschenaulti = থিওডোর লেসেনল্ট ডিলাটুর, ফ্রেঞ্চ উদ্ভিদবিদ ও ভারতে সংগ্রাহক, ১৮১৬-১৮২২)।
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও এম. কামরুজ্জামান

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment