Sunday, June 08, 2014

পাতি পাপিয়া বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী পাখি



পাতি পাপিয়া, ফটো: ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Cuculus canorus
সমনাম: নেই
বাংলা নাম: পাতি পাপিয়া  
ইংরেজি নাম: Common Cuckoo.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Cuculidae
গণ/Genus: Cuculus, Linnaeus, 1758;  
প্রজাতি/Species: Cuculus canorus (Linnaeus, 1758)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাHierococcyx গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৪টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে ১১টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিগুলো হচ্ছে ১. পাতি পাপিয়া, ২. বউকথাকও পাপিয়া, ৩. ছোট পাপিয়া এবং ৪. উদয়ী পাপিয়াআমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে পাতি পাপিয়া
বর্ণনা: পাতি পাপিয়া ধূসর রঙের পাখি (দৈর্ঘ্য ৩৩ সেমি., ওজন ৯০ গ্রাম, ডানা ২২ সেমি., ঠোঁট ২.৮ সেমি., পা ২.৩ সেমি., লেজ ১৬ সেমি.)। ছেলে মেয়েপাখির চেহারায় পার্থক্য রয়েছে। ছেলেপাখির পিঠ ধূসর ও দেহতল সাদা। থুতনি, গলা ও বুক ফ্যাকাসে ছাইরঙের। সাদা পেট, বগল, অবসারণী ও লেজের নিচের কোর্ভাটের ওপর কালো সরু ডোরা আছে। কালচে বাদামি লেজের আগা সাদা। মেয়েপাখির চেহারা দুধরনের হয়। এক ধরনের চেহারায় ধূসর বুকের নিচে প্রান্তদেশে লালচে আমেজ ছাড়া ছেলেপাখির সঙ্গে চেহারার কোন পার্থক্য নেই। অন্য রূপটিকে কলিজা রূপ বলে। এতে লেজসহ লালচে-বাদামি পিঠে কালচে বাদামি ডোরা ও সাদা দেহতলে কালচে ডোরা থাকে। ছেলে মেয়েপাখি উভয়েরই চোখ হলুদ, পা ও পায়ের পাতা হলুদ এবং নখর শিঙ-রঙের। শিঙ-বাদামি ঠোঁটের গোড়া হলদে। শ্লেট-ধূসর অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির ঘাড়ের পিছনটায় সাদা চিতি ও পালকের সাদা পাড় থাকে। ৪টি উপ-প্রজাতির মধ্যে C. c. bakeri বাংলাদেশে রয়েছে।
স্বভাব: পাতি পাপিয়া চিরসবুজ বন, আর্দ্র পাতাঝরা বন, অপ্রধান বন ও পর্বতের তৃণভূমিতে বিচরণ করে। সাধারণত একা থাকে। বন বা ঝোঁপের উঁচু চাঁদোয়ায় শিকার ধরে। খাবারের মধ্যে রয়েছে পোকামাকড় বিশেষ করে লোমশসহ শুঁয়োপোকা। মার্চ-সেপ্টেম্বর হিমালয় ও সাইবেরিয়ায় প্রজনন ঋতু। পূর্বরাগের সময় ছেলে পুনরুক্তিক সুরে ডাকে:কুক-কু... কুক-কু...। ছেলেপাখিকে সাড়া দিয়ে মেয়েপাখি অনুক্রমিকভাবে ডাকে: হুয়িহুয়িহুয়ি...। ভোরে ও গোধূলিতে বেশ কর্মচঞ্চল হয়। বাসা তৈরি, ডিম ফোঁটানো ও ছানা পালন এর কোনটিই করে না। মেয়েপাখি আকারের ছোট পাখি যেমন-ঝাড়ফিদ্দা, ঝাড়ফুটকি, খঞ্জন, তুলিকা ও চটকের বাসায় ডিম পাড়ে। ডিম মাঝে মাঝে ঝাড়ফুটকির দোদুল্যমান বাসার ছোট ছিদ্রপথে বা মাটিতে ঝাড়ফিদ্দার বাসার গর্তের বাহিরে পেড়ে গড়িয়ে বাসার ভিতর প্রবেশ করায়।
বিস্তৃতি: পাতি পাপিয়া বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী পাখি; গ্রীষ্মে চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের বৃক্ষবহুল অঞ্চলে থাকার কয়েকটি তথ্য আছে। ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে; পুরো ভারত উপমহাদেশে পাওয়া যায়।
অবস্থা: পাতি পাপিয়া বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ: পাতি পাপিয়ার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ সুরেলা কোকিল (ল্যাটিন: cuculus = কোকিল, canorus = সুমধুর সুর)।
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক ইনাম আল হক ও সুপ্রিয় চাকমা

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment