Friday, June 13, 2014

মেটেপেট পাপিয়া বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি



মেটেপেট পাপিয়া, ফটো: J M Garg, ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে
দ্বিপদ নাম: Cacomantis passerinus
সমনাম: Cuculus passerinus (Vahl, 1797)
বাংলা নাম: মেটেপেট পাপিয়া  
ইংরেজি নাম: Grey-bellied Cuckoo.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia
বিভাগ/Phylum: Chordata
শ্রেণী/Class: Aves
পরিবার/Family: Cuculidae
গণ/Genus: Cacomantis, Muller, 1843;  
প্রজাতি/Species: Cacomantis passerinus (Vahl, 1797)
ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকাCacomantis গণে বাংলাদেশে রয়েছে এর ৩টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে ৮টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতিগুলো হচ্ছে ১. করুণ পাপিয়া, ২. মেটেপেট পাপিয়া ও ৩. দাগি তামাপাপিয়াআমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে মেটেপেট পাপিয়া
বর্ণনা: মেটেপেট পাপিয়া সাদা অবসারণী ওয়ালা কালচে ধূসর পাখি (দৈর্ঘ্য ২৩ সেমি., ডানা ১২ সেমি., ঠোঁট ২.২ সেমি., পা ১.৮ সেমি., লেজ ১১ সেমি.)। সামান্য কিছু অংশ ছাড়া ছেলেপাখির দেহের পুরোটাই কালচে ধূসর। তলপেট, অবসারণী ও লেজের নিচের কোর্ভাট পীতাভ-সাদা। ডানার কোর্ভাট ও উড্ডয়ন পালক কালচে ধূসর, ধূসর-কালো লেজের আগা সাদা ও লেজের বাইরের পালকে সাদা ডোরা রয়েছে। মেয়েপাখির দুধরনের চেহারা থাকে। এক ধরনের চেহারা ছেলেপাখির মত। আরেক ধরনের চেহারাকে বলে কলজে চেহারা। পিঠ কালো ডোরাসহ লালচে-বাদামি ও দেহতল লালচে গলা ও বুকসহ আবছা কালোয় ঢেউ খেলানো। ছেলে মেয়ে উভয় পাখির চোখ বাদামি, মুখ উজ্জ্বল কমলা এবং পা ও পায়ের পাতা বাদামি-হলুদ। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহ কলজে চেহারা ছাড়া ভূসায় ঢাকা কালচে ধূসর রঙের হয়, যা প্রাপ্তবয়স্কের মত। তবে প্রাপ্তবয়স্কের চেয়ে কালচে বাদামি।
স্বভাব: মেটেপেট পাপিয়া খোলা বন, কুঞ্জবন, বনভূমি ও অবাদী জমিতে বিচরণ করে। সাধারণত একা ও জোড়ায় বিচরণ করে। গাছের চাঁদোয়ায় ও উঁচু ঝোঁপে গাছ থেকে গাছে দ্রুত ওড়ে খাবার খায়। খাবার তালিকায়: কোমল পোকামাকড়, ছারপোকা ও লোমশসহ শুঁয়োপোকা রয়েছে। জুন-সেপ্টেম্বর প্রজনন ঋতু। পূর্বরাগের সময় ছেলেপাখি ভোরে ও গোধূলিতে, মেঘাচ্ছন্ন দিনে এবং পূর্ণিমা রাতে ডাকে। শোকাতুর কণ্ঠে অনুক্রমিকভাবে ডাকে: টীর টীর টীর পীপিপি; পিউয়ী পী পিউয়ী...। বাসা তৈরি, ডিম ফোঁটানো এমনকি ছানার পরিচর্যাও করে না। মেয়েপাখি ছোট পাখি প্রধানত ফুটকি ও প্রিনার বাসার ডিম পাড়ে। ডিম সরু, ডিম্বাকার ও মাপ ১.৯×১.৪ সেমি.। ডিমের বর্ণ পালকমাতার ডিমের সঙ্গে মিলে যায়।
বিস্তৃতি: মেটেপেট পাপিয়া বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি; খুলনা বিভাগে বিচরণ করে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে অনিয়মিত দেখা গেছে, উনিশ শতকে ঢাকা বিভাগে ছিল এমন তথ্য রয়েছে। কেবলমাত্র ভারত উপমহাদেশে এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি সীমাবদ্ধ।
অবস্থা: মেটেপেট পাপিয়া বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।
বিবিধ: মেটেপেট পাপিয়ার বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ অশণিসঙ্কেতের চড়ূই (গ্রীক:kakos = অশণিসঙ্কেত, mantis = মহাপুরুষ; ল্যাটিন: passerinus = চড়ইয়ের মত) ।
বাংলাদেশ উদ্ভিদ প্রাণী জ্ঞানকোষে এই নিবন্ধটির লেখক ইনাম আল হক ও সুপ্রিয় চাকমা

আরো পড়ুন:

. বাংলাদেশের পাখির তালিকা 

. বাংলাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণীর তালিকা

৩. বাংলাদেশের ঔষধি উদ্ভিদের একটি বিস্তারিত পাঠ

৪. বাংলাদেশের ফলবৈচিত্র্যের একটি বিস্তারিত পাঠ

No comments:

Post a Comment